আদমজী জুট মিলে আন্দোলনে নিহত তাজুলকে স্মরণে শ্রমিক সমাবেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৫ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৯ বুধবার

আদমজী জুট মিলে আন্দোলনে নিহত তাজুলকে স্মরণে শ্রমিক সমাবেশ

১৯৮৪ সালে নারায়ণগঞ্জের আদমজী জুট মিলের শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নিহত তাজুলকে স্মরণে শ্রমিক সমবেশের আয়োজন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ।

বুধবার ১৩ মার্চ বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাাফিজুল ইসলামমের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফন্টের সভাপতি আবু নাইম খান বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহাতির সভাপতি অঞ্জন দাস সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এসময় তাজুল এর সহকর্মী গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ বলেন, কয়েক বছর পরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই ৫০ বছরে মালিক পক্ষ এবং সরকার যা করেছে এই লজ্জা রাখার কোনো জায়গা নেই। শেখ হাসিনা বলেন তিনি খুব সৎ, তিনি খুব ভালো, তিনি দেশের দরদি তিনি দেশের উন্নতি করছেন। বড়লোকের পকেটে টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে বড়লোকের জন্য সব করে। বড়বড় পত্রিকায় নাম লেখানো এইটা খুব বেশি কঠিকন কাজ না। এই দেশের মানুষের এখনো তিন বেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নাই। তিনি যে কথা বলছেন সেই কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই।

এসময় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফন্টের সভাপতি আবু নাইম খান বিপ্লব বলেন, বাংলাদেশের প্রধান উৎপাদন শিল্প খাত গার্মেন্টের শ্রমিকরা ১৮হাজার টাকা বেতন বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করেছিল। কিন্তু ৫ বছর পর ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে সরকার ও মালিকদের যোগসাজসে নিচের গ্রেডে মাত্র ৮হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি করা হয়। কিন্তু উপরের গ্রেডে ১০০-১৫০টাকার বেশি মূল্য  বৃদ্ধি পায় নাই। কিন্তু ৫বছরে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি বিবেচনা করি তাহলে ১০০-১৫০ টাকা মূল্য বৃদ্ধি হয় নাই। প্রায় ৫-৬ বার দ্রব্যমূল্যে  বৃদ্ধি পেয়েছে।

এসময় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি হাাফিজুল ইসলাম বলেন, তাজুল যে পাঁচ দফা দাবির জন্য জীবন দিয়েছিলেন আজো সেই দাবি পূরণ হয়নি। সারা বাংলাদেমে এখন গরিব মানুষদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। রিকশা উচ্ছেদ, বস্তি উচ্ছেদ, হকার উচ্ছেদ। ক্ষুদ্র  ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। গোটা কয়েক মানুষদেরকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সারা বাংলাদেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। আর কয়েক দিন পর যে গ্যাসের চুলার ভাড়া ৮০০টাকা দিবেন তা ১৪৪০টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ৪-৫জন মানুষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ১৬ কোটি মানুষকে শোষনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর