আন্দোলনগুলো নিস্ফল!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৪০ পিএম, ৭ জুন ২০১৯ শুক্রবার

আন্দোলনগুলো নিস্ফল!

ওয়াসার দূষিত ময়লা নোংরা পানি কর্মকর্তাদের খাওয়ানো হবে, তিতাসের কর্মকর্তারা দুর্নীতিবাজ, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নারায়ণগঞ্জে থাকতে দেওয়া হবে না। মিছিল, সভা সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি সবশেষ অনশন কর্মসূচি পর পাওয়া যায় আশ্বাস। কিন্তু এখানও পর্যন্ত নগর জুড়ে বিশুদ্ধ পানি ও জ্বালানী গ্যাসের সমস্যা ঠিকই রয়েছে। শহরের ফুটপাত হকারদের দখলে। যানজটে ত্রাহি দশা। এসব আন্দোলনের পূর্ণতা বলতে কিছুই নেই। নাকি সব আন্দোলনই নিস্ফল ও ব্যর্থ। নাকি আন্দোলন ও নগরবাসীর হুমকারকে ভয় পায় না সেই সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এমনই প্রশ্ন জেগেছে নগরবাসীর মধ্যে। তারপরও সকলের দাবি আন্দোলনই একমাত্র পথ দাবি আদায় করার।

সম্প্রতি সুপেয় বিশুদ্ধ পানির দাবিতে দুটি সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী ও ওয়াসা হঠাও সংগ্রাম কমিটি’ আন্দোলন করেন ওয়াসার রাজস্ব কার্যলয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা করে। এছাড়াও সকাল থেকে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে। এছাড়াও স্মারকলিপি দেন বিভিন্ন দাবি জানিয়ে। তবে আন্দোলনের কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওয়াসার কর্মকর্তাদের ঘুম ভাঙেনি। নগরজুড়ে ওয়াসার কোন সুপেয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়নি। এমনি গভীর নলকূপ থেকে পানি তুলে পান করলেও সেখানেও চার্জের দাবিতে গ্রাহকদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা।

ঢাকা ওয়াসার নারায়ণগঞ্জ মড্স জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর আবুল হাশেম দাবি করেছিলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ বিশুদ্ধ ও সুপেয়। কিন্তু তারই টেবিলের পাশে বোতলজাত পানীয় দেখিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনকারীরা তাকে হুমকি দিয়েছিলেন এ রোজায় বিশুদ্ধ পানি না পাওয়া যায় তাহলে ঈদের পর ওয়াসার পানি তাদেরই খাওয়ানো হবে।

এছাড়াও ঢাকা ওয়াসার নারায়ণগঞ্জ রাজস্ব জোনের রাজস্ব কর্মকর্তা সেকান্দার আলী বলেছিলেন, গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেউ বিরক্ত বা ভয় দেখাবে না। গভীর নলকূপের উপর অনুমোদন ফি, নবায়ন ফি বাতিল সহ অন্য দাবির বিষয়ে উধ্বর্তনদের জানানো হবে। তারাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তবে প্রশ্ন আদৌ কি তিনি ঊর্ধ্বতনদের দাবিগুলো জানিয়েছেন। বা যদি তিনি ঊর্ধ্বতনদের কাছে পৌছে থাকেন তাহলে কি কোন ব্যবস্থা নিয়েছে। কোন দিক নির্দেশনা কি আন্দোলনকারীদের কাছে পৌছেছে কিংবা কর্মকর্তাদের কাছে। তাহলে এতো আন্দোলনের সার্থকতা কি। রোদে পোড়ে আন্দোলন ও পরিশ্রম সবই কি বিথা।

গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা হাজী মোকলেস উদ্দিন জানান, দ্বিতীয় রমজানেও ওয়াসার কর্মকর্তারা গভীর নলকূপের অনুমোদন ফি ও নবায়ন ফির জন্য গিয়েছেন। বলেছেন ফি না দেয়া হলে মামলা সহ বিভিন্ন আইনী জটিলতায় পড়তে হবে। এ ধরনের বিভিন্ন ভয় দেখিয়েছেন।

চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ। পান করা তো দূরের কথা গৃহস্থালি কাজেও কেউ এ পানি ব্যবহার করতে পারছেনা। এছাড়াও এ পানিতে হাত পা ভিজালে বিভিন্ন পানিবাহী রোগ হয়।

টানবাজার এলাকার বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার বলেন, রান্নার চুলায় গ্যাস নেই কয়েক বছর হয়ে গেলো। তাই সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে কাজ করছি। অনেক আগেই শুনেছি গ্যাস আসবে। আন্দোলন হল কত কি হলো কিন্তু গ্যাস পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত শুধু মাত্র বিশুদ্ধ পানি কিংবা গ্যাসের দাবিতে আন্দোলন নয়। সামাজিক বিভিন্ন সমস্যায় প্রায় সময় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব কিংবা শহীদ মিনারে দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে বিভিন্ন সংগঠন। নারায়ণগঞ্জ নগরিক কমিটি, মহিলা পরিষদ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণসংহতি আন্দোলন সহ বেশ কিছু সংগঠন। তবে এসব আন্দোলনের কিছু সময় সুফল দেখা গেলেও পরবর্তীতে তেমন কোন কিছুই আর জানা যায় না।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে প্রায়শই সমাবেশ মানববন্ধন করে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বরং ফুটপাত ফের হকারদের দখলেই।

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে প্রতি মাসের ৮ তারিখে সভা, মানববন্ধন, মোমশিখা প্রজ্জলন করা হচ্ছে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের উদ্যোগে। কিন্তু আদৌ বিচার হচ্ছে না। বিচার আশার আলো দেখছে না।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে চালু হওয়া বিআরটিসি এসি বাসের ভাড়া ৪৫ টাকা করা ও দ্রুত সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়ায় ননএসি বাস চালু করার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন করার হুশিয়ারী দিয়েছেন তাঁরা।

ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে বিআরটিএর নির্ধারিত প্রতি কিলোমিটার (ননএসি) ভাড়া ১টাকা ৭০ পয়সা। আর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড সাড়ে ২০ কিলোমিটার। কিন্তু আমরা মেপে পেয়েছি সাড়ে ১৮ কিলোমিটার। আর হানিফ ফ্লাইওভার হওয়ার পর দুই কিলোমিটার রাস্তা কমেছে। সেহেতু বর্তমানে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার। আর সেই হিসেবে ননএসি বাস ভাড়া হয় ২৮টাকা ৫ পয়সা যা সর্বোচ্চ ৩০টাকা। কিন্তু বিআরটিএ এসি বাসের জন্য কোন ভাড়া নির্দিষ্ট নেই। সেহেতু প্রতিকিলোমিটার এসিবাস ভাড়া ২টাকা ৭০ পয়সা ধরা হলেও ৪৪টাকা ৫৫ পয়সা যা সর্বোচ্চ ৪৫টাকা করার দাবি জানিয়েছি আমরা। কিন্তু তাতেও কোন কর্ণপাত করা হচ্ছে না।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও