জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে সরকারের যত অপকর্ম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০২:৪২ পিএম, ৯ জুন ২০১৯ রবিবার

জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে সরকারের যত অপকর্ম

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব রফিউর রাব্বী বলেন, একটা দেশের রাষ্ট্র প্রধান যখন একটা ঘাতকের পক্ষ নেয়, একটা খুনী পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়, সেই দেশে বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু থাকে না। সেই দেশের জনগণ কখনই নিরাপদ থাকতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, আজকে যত অপকর্ম এ সরকার করছে তা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে করছে। সমস্ত অপকর্ম তারা জয় বাংলা ও মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দিয়ে জাহির করতে চাচ্ছে। আমরা এর নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। এ স্বাধীনতাকে আমরা স্বাধীনতা বলি না। এ দেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করবে। এ স্বৈরশাসকদের মাথানত করবে। গডফাদারদের সহযোগি এ সমস্ত সরকারকে গণঅভ্যুথানের মধ্যদিয়েই প্রকৃত গণতন্ত্র ও প্রকৃত স্বাধীনতা যেমন আসবে তেমনি আমাদের দেশের মানুষের মর্যাদা ফিরে আসবে। ঠিক একই ভাবে তখন হত্যা খুনের তখন বিচার হবে। দেখে দেখে মুখ চিনে শুধু মাত্র বিরোধী দলের অপরাধের বিচার করা, নিজের দলের ঘাতক, খুনীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে তাদের রক্ষা করা তখনই বন্ধ হবে। আমরা আশা করছি এ সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তাঁরা ত্বকী সহ সাগর-রুনি, আশিক, ভুলু, চঞ্চল সহ সকল হত্যার বিচারের আদেশ দিবে।

৮ জুন শনিবার রাতে শহরের ডিআইটি এলাকায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রাঙ্গনে ত্বকী হত্যার বিচার ও দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদানের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের মাসিক কর্মসূচি অংশ হিসেবে মোম শিখা প্রজ্জলন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাব্বী এসব কথা বলেন।

সদস্য সচিব হালিম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন তিনি ওসমান পরিবারের পক্ষে আছেন, ওসমান পরিবারকে দেখবেন। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন সংসদেই একটা খুনীকে নিয়ে বৈঠক করে আলোচনা করে তখন একটা সংসদের কোন মর্যাদা থাকে না। সেই সংসদ শোকে, বেদনায় জর্জরিত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ত্বকীর হত্যাকারী ওই আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমান এবং পরিকল্পনাকারী শামীম ওসমানকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এদেরকে গ্রেফতার করে যদি রিমান্ডে নেয়া হয়, এদেরকে যদি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাহলে ওরাই ত্বকীর হত্যাকারীদের নাম বলতে বাধ্য হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে এ দাবি করছি। হয়তো শেখ হাসিনা এর বিচার করবে না। কিন্তু কেউ এ বিচার থেকে রক্ষা পাবে না।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সেক্রেটারী আব্দুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সভাপতি তরিকুল সুজন, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সে শহরের চাষাঢ়ায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র ছিল। নিখোঁজের একদিন পর (৭ মার্চ) এ লেভেল পরীক্ষার রেজাল্টে পদার্থ বিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়েছিল যা সারাদেশে সর্বোচ্চ। এছাড় সে ও লেভেল পরীক্ষাতেও সে পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষাতে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল। পরে ৮ মার্চ সকালে চাড়ারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮জনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ধেহে ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়নি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও