লিংক রোডের ‘টিউমার’ অপসারণ শুরু

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৫ পিএম, ১৮ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার

লিংক রোডের ‘টিউমার’ অপসারণ শুরু

নারায়ণগঞ্জে প্রবেশের অন্যতম গুরুতপূর্ণ সড়ক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। আর রোডের সংস্কার কাজ করা হয়েছে বছর কয়েক মাস আগেই। এর মধ্যে আরো কয়েক দফা করা হয়েছে খন্ড খন্ড সংস্কারও। তারপরও ৮ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ২ কিলোমিটার বেহালই রয়ে যায়। কোথায় পিচ ফুলে আবার কোথাও দেবে গিয়ে ছোট বড় যানবাহনগুলোর জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। আর সেই ফাঁদ মেরামতে কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ।

১৮ জুন মঙ্গলবার দুপুর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের আর্মি মার্কেট এলাকা থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন অংশের ফুলে যাওয়া ও দেবে যাওয়া রাস্তার নতুন করে সংস্কার কাজ শুরু হয়। তবে এ সংস্কার কাজও কতদিন টেকশই হবে সেটা নিয়েও রয়েছে গাড়ি চালক ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংশয়।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি মেরামত করা হলেও ৮ মাসেই সড়কের এ দশায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। কয়েক দফা জোড়াতালি দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। গত বছরের ২৮ জানুয়ারি ৮ কিলোমিটার অংশ ওভার লের মাধ্যমে মেরামতের জন্য দরপত্র জমা ও খোলা হয়। একই বছরের ৬ মার্চ মাসুদ হাই টেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ‘কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী কাজের ব্যয় হবে ১৮ কোটি ১৪ লাখ ২৩ হাজার ১৭টাকা। কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সময় দেওয়া হয় ৬ মাস। গত সেপ্টেম্বরে সড়কটির ওভার লে সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

লিংক রোডে গত ১০ বছর ধরে সিএনজি অটোরিকশা চালক মোতালেব হোসেন। তিনি বলেন, এক বছর আগে রাস্তা ছিল খুব খারাপ। গাড়ি চলানো যেন ভয়ংকর ছিল। পরে ঠিক করছে কিন্তু একবছর না যেতেই অনেক জায়গা দেবে গেছে। অনেক জায়গা টিউমারের মতো ফুলে উঠেছে। এর মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালাতে গেলে গাড়ি একউ ঝাঁকি দেয়। এতে করে উল্টে যায় গাড়ি। গত কয়েক মাসে কম করে হলেও ২০ থেকে ৩০টি গাড়ি উল্টে গেছে। তবে সবগুলোই ছোট সিএনজি, টেম্পু ও মোটর সাইকেল।

তিনি বলেন, বড় গাড়িরগুলোর জন্য এর রাস্তা এমন হয়েছে। কিন্তু তাদের চলাচলে তেমন কোন সমস্যা হয় না। সব থেকে বড় সমস্যা হয় ছোট গাড়িগুলোর। বিশেষ করে রাতের বেলায়। এ রাস্তা খারাপ বলে রাতের বেলায় যানজট সৃষ্টি হয়।

মোতালেব হোসেন বলেন, মঙ্গলবার থেকেই দেখছি রাস্তার যেসব জায়গায় পিচ ফুলে গেছে সেখানে কেটে সমান করা হচ্ছে। আর যেখানে দেবে গেছে সেখানে নতুন করে পিচ দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এমন কাজ মাসখানেক আগেই করে গেছে। কিন্তু সাতদিন না যেতেই রাস্তা আবার আগের মতো হয়ে গেছে। ভালো ময়মশলা না দিলে তো এমন হবেই।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে চা বিক্রেতা আব্দুল আলী বলেন, টিউমার মেরামত করছে। শুনেছি টিউমার মেরামত করতে হলে নাকি গুড়া থেকে তুলে ফেলতে হয়। এভাবে কেটে দিলে আবার হয়। কদিন গেলে বুঝা যাবে কেমন হয়েছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও