কেন এই হরতাল?

তরিকুল সুজন || সমন্বয়ক নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি ০৯:১১ পিএম, ৬ জুলাই ২০১৯ শনিবার

কেন এই হরতাল?

১. গ্যাসের দাম বৃদ্ধির দুটো প্রধান কারণের একটা হলো লুটপাটের তহবিল জোগাড় করা। ধনীদের কাছ থেকে আয়কর আদায় না করে সাধারণ মানুষের ওপর এই তহবিল জোগানোর দায়টা চাপিয়ে দেয়া। সড়কগুলোর দিকে তাকালেই এর চিত্রটা বোঝা যায়, দুনিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই রাস্তাঘাট এক বছরও টেকে না। এই বিপুল চুরির বন্দোবস্ত নিশ্চিত করার জন্যই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের ওপর ভ্যাটের জুলুম বৃদ্ধি।

২. গ্যাসের দাম বৃদ্ধির দ্বিতীয় বড় কারণ এলএনজি আমদানিকারকদের খুশি করা, সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দেয়া। অথচ বাংলাদেশ সরকার ভারতের চেয়ে প্রতি ঘনফুট গ্যাস চার ডলার বেশি দামে আমদানি করছে! আমদানির বেলাতেও এই বিপুল লুণ্ঠনকে জায়েজ করার জন্য এলএনজির দাম অনেক বেশি দেখানো হচ্ছে।

৩. বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক বদরুল ইমাম, অধ্যাপক শাসমুল আলম সকলেই দেখিয়েছেন বাংলাদেশের বিদ্যমান গ্যাস সম্ভাবনাকে পুরোটা ব্যবহার না করেই আমদানিতে ঢুকেছে সরকার, কারণ ওই দুর্নীতির সুবিধা। সমুদ্র বিজয় নিয়ে গালগল্প অনেক হয়েছে। কিন্তু মায়ানমার ও ভারত তার সমুদ্রসীমায় গ্যাস উত্তোলন শুরু করে দিয়েছে, বাংলাদেশের খবর নেই। রাজনৈতিক সীমানা তো গ্যাসক্ষেত্রে চলে না, তাই সকল বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন সীমান্তে তারা গ্যাস টেনে নিয়ে যাবে, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু চুরিতে মগ্ন সরকার এই বিষয়ে নির্বিকার।

৪. গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে যে ভয়াবহ সঙ্কট নেমে আসবে, তা তুলনারহিত। রান্নাঘরে চুলোর খরচা বাড়ার ফলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্দশা বাড়বে। পরিবহন ব্যয় বাড়বে। মালামাল পরিবহনের খরচ বাড়বে। বাড়বে শিল্পোৎপাদন ব্যয়। এক টাকা বর্ধিত গ্যাসের দাম দশ কিংবা বিশ টাকার চক্রবৃদ্ধি ঘটাবে।

৫. সরকারী জরিপের হিসেবে বলছে বাংলাদেশে গত ৬ বছরে বড়-মাঝারি-অতিক্ষুদ্র শিল্পকারখানার সংখ্যা কমেছে। কমেছে শিল্পখাতে মোট কর্মসংস্থান। বাংলাদেশের শিল্পউৎপাদন আরও বেশি প্রতিযোগিতায় অক্ষম হয়ে পড়বে শিল্পের প্রধানতম জ্বালানি ও কাঁচামাল গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে।

এক টাকার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি অর্থনীতিকে এত ভাবে যদি ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে, তাহলে এক টাকা গ্যাসের দাম বৃদ্ধিও আমরা মানি না।

বাংলাদেশের তরুণ সমাজের প্রতি আহবান, আপনারা যারা সড়কের নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন করেছেন, যারা চাকরিতে সাম্য ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রাম করেছেন, যারা সংগ্রাম করেছেন নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনের জন্য, এই তরুণদের ভবিষ্য নিশ্চিত করতে হলে যে উৎপাদনমুখর বাংলাদেশ আমাদের সকলের কাম্য, তা গড়তে এই হরতালে সমর্থন দিন।

জুলাই সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এই হরতাল পালন করুন। এক টাকাও গ্যাসের দাম বাড়ানো চলবে না।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর