সেলিম ওসমানের উদ্বোধন করা সেই সেতুতে চলেনি কোন যানবাহন

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৫ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার

সেলিম ওসমানের উদ্বোধন করা সেই সেতুতে চলেনি কোন যানবাহন

কয়েক বছর পূর্বে সেতুটির উদ্বোধন করেছিলেন স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান। তবে সেতুটির দুই পাশের সংযোগস্থলে সেতু বরাবর মাটি ভরাট না করার কারণে এবং কোন রাস্তা না থাকায় সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেনা জনসাধারণ। সেই সেতুটিতে অদ্যাবধি চলাচল করতে পারেনি কোন যানবাহন। যে কারণে আক্ষেপের শেষ নেই জনসাধারণের মাঝে। সেতু থাকলেও সড়ক না থাকায় দুর্ভোগের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্থানীয় এমপি ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলাধীন মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের কেপ্তারবাগ গ্রাম থেকে মদনপুর রিয়াজুল উলুম আলিম মাদ্রাসা সংলগ্ন বাজারে চলাচলকারী গ্রামবাসীর সুবিধার্থে বাজারের উত্তরপাশে খালের উপর সেতু নির্মাণ করা হলেও সেতুর দুই পাশে সংযোগস্থলে রাস্তা না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শেষ করা হয় এবং উক্ত সেতুটি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান উদ্বোধন করেন। তবে সেতুটির দুই পাশের সংযোগস্থলে সেতু বরাবর মাটি ভরাট না করার দরুণ, কোন রাস্তা না থাকায় জনগণ উক্ত সেতুটি ব্যবহার করতে পারেনি এবং অবহেলায় সেতুটি পড়ে থাকায় সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা আরো জানান ‘এখানে ব্রীজ সংযুক্ত রাস্তা না থাকায় উক্ত কেপ্তারবাগ গ্রামের কয়েক শত শিক্ষার্থী নিকটস্থ মদনপুর রিয়াজুল উলুম আলিম মাদ্রাসা সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেনা, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাছাড়া কয়েক শত কর্মজীবী মানুষও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমের জন্য যেতে পারছেনা। তাদেরকে অনেকটা ঘুরে যেতে হচ্ছে। ইউনিয়নের অন্য সকল সেতু ও রাস্তার অবস্থা কিছুটা চলাচলের উপযোগী হলেও এ রাস্তাটি মারাত্মকভাবে অবহেলিত। বর্ষা মৌসুমে সেতুর সংযোগস্থল পানিতে নিমজ্জিত থাকে এবং শুকনা মৌসুমেও রাস্তায় মাটি না থাকায় ও রাস্তাটি ঢালু-সরু হওয়ায় আমরা চলাচল করতে পারছিনা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ শেষ করে তাদের বিল নিয়ে গেছে কিন্তু আমরা সেতুটির কোন সুফল ভোগ করতে পাচ্ছিনা। সেতুর সংযোগস্থলে রাস্তা নির্মাণে এমপি সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

মদনপুর ইউপি’র ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাবিবুল্লাহ ভূঁইয়া জানান ‘জনগণের ভোগান্তির কথা সমন্ধে আমাকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি আমি আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করবো এবং রাস্তাটি যাতে নির্মাণ করে জনগণের ভোগান্তি লাঘব করা যায়, সেজন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম জানান, সেতুটি একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে। তবে আশেপাশে কোথাও মাটি না থাকায় সড়কটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সড়কটি অপর একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে। ওই প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় হলেই সড়কটিতে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হবে।

সেতুটি এক বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বন্দর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম খলিল জানান, এক বছর পূর্বে নয় তিন বছর পূর্বে সেতুটি নির্মিত হয়। তখন সেতুটিতে চলাচলের জন্য মাটির রাস্তাও ছিল। তবে সেতুটির পাশে গভীর পুকুর থাকায় মাটির রাস্তাটি ভেঙ্গে মাটি পুকুরে চলে যাচ্ছে। যে কারণে সেতুটি ও রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছেনা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম দায়িত্ব নিয়েছেন রাস্তাটির পাশের পুকুরের পাড়ে পাইলিং করে এরপর মাটি ভরাটের মাধ্যমে সড়কটি নির্মিত হবে। যাতে আর মাটির সড়কটি ভেঙ্গে মাটি পুকুরে চলে যেতে না পারে। তখন ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্ভব হবে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও