সন্ত্রাসের আড়ালে ব্যবসা করে থাকেন : এসপি হারুন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৯ পিএম, ৪ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

সন্ত্রাসের আড়ালে ব্যবসা করে থাকেন : এসপি হারুন

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, আমি মনে করি, নারায়ণগঞ্জ হিন্দুদের জন্য পবিত্র স্থান। আমি দেখেছি লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মস্থান এই নারায়ণগঞ্জের বারদী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ স্লান করার জন্য নারায়ণগঞ্জে আসেন। সেখানে আমি দায়িত্ব পালন করতে পারে নিজেকে গর্ববোধ করছি। ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হলো নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ। আর এই নিতাইগঞ্জেই পূজা মন্ডপ হচ্ছে এজন্য আপনার গর্ববোধ করতে পারেন। আপনাদের উৎবের পাশে আমরাও থাকবো। আপনাদের সাথে শামিল হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। যদি আপনাদের কাছে মনে হয়, কেউ আপনাদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে, সংখ্যালঘু ভাইদের উপর অত্যাচার করছে, এ ধরনের তথ্য থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন। আপনাদের জন্য পুলিশের দরজা সবসময় খোলা থাকে।

৪ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে ২৪ তম শারদ উৎসব উপলক্ষ্যে বস্ত্র বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রজন্ম প্রত্যাশা পূজা উদযাপন কমিটি নিতাইগঞ্জ প্রজন্ম দূর্গাপূজা মন্ডপের সামনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

হারুন অর রশিদ বলেন, সুন্দর দিনে সুন্দর পরিসরে আমাকে দাওয়াত দিয়ে এনেছেন এজন্য সকলকেই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। যদিও হিন্দু ধর্মালম্বীদের এটা সবচেয়ে বড় উৎসব। তবে আমি মনে করি বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সকল ধর্মের উৎসব। আমরা যেভাবে ঈদ উৎসব পালন করি তেমনিভাবে অন্যান্য ধর্মের উৎসবও পালন করে থাকি। কয়েকদিন আগে আমরা সকলে মিলে জন্মাষ্টমী পালন করেছি। স্বাধীনতার যে মূলমন্ত্র, সকল ধর্মের মানুষ, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এটাকে কেন্দ্র করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জাতির জনককে হত্যা করে আবারও ইসলামের নাম ধারণ করে কিছ মানুষ, ইসলামকে কেন্দ্র যারা রাজনীতি শুরু করেছিল তাদের বিভিন্ন মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার পায়তারা করছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সকল মানুষ উন্নয়নের মহাসড়কের দিকে ধাবিত হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় প্রধামনন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে ম্যাসেজ দিয়েছেন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোথাও বিশৃংখলা সৃষ্টি না হয়। আমরা সে লক্ষ্যে প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপকে আইন-শৃংখলা বাহিনীর আওতায় এনে কাজ করছি।

পুলিশ সুপার বলেন, আমি চেষ্টা করছি সকলকে সাথে নিয়ে সুন্দর একটি শহর গড়ে তোলার জন্য। যেখানে কোন মাদক থাকবে না, সন্ত্রাসী থাকবে না, চাঁদাবাজ থাকবে না, কোন লোকের ভয়ে হুমকি ধমকিতে কেউ পিছপা হবে না। আমরা মনে করি যে ব্যবসা করবে তার ব্যবসা নিজেই পরিচালনা করবে, কাউকে চাঁদা দিতে হবে না। কারও হুমকি ধমকিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে না। অনেকেই আছেন আমি জানি যারা সন্ত্রাসের আড়ালে ব্যবসা করে থাকেন। অনেকেই আছেন মানুষের ভোটে প্রতিনিধি হয়েছেন তার অর্থ এই নয়, এলাকার মানুষের জিম্মাদার দেয়া হয়েছে। এলাকার মানুষের ভাল কাজটি করার জন্য যা যা দরকার আমরা পুলিশ প্রশাসন সেই সহযোগিতা করবো।

হিন্দু ধর্মালম্বীদের সকর্ত করে এসপি হারুন বলেন, হিন্দু ভাই রয়েছেন কিংবা যারা ভলেন্টোয়ার রয়েছে তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে পূজা মন্ডপে সিসি টিভি লাগানোর চেষ্টা করেছেন। একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা এখনও সোচ্চার রয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ, এখানে ধর্মের নামে কোন বিভেদ থাকবে না। অনেক সময় গুজব ছড়ানো হয়। এজন্য চোখ কান খোলা রাখতে হবে। তারা একটি ঘটনা ঘটিয়ে বলবে আইন-শৃংখলার পরিস্থিতি খারাপ। পুলিশ বাহিনীর ঐতিহ্যকে ক্ষুণœ করার জন্য একটি মহল সোচ্চার রয়েছে। এজন্য আপনারা সার্বক্ষণিক পুলিশের সাথে যোগাযোগ রাখবেন। আমাদের হটলাইন থাকবে। যদি কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিব।

পূজাকে ঘিরে মাদকাসক্তদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চার করে তিনি বলেন, এই পূজামন্ডপে কেউ মাতাল হয়ে কেউ মাদকাসক্ত হয়ে, কোন ধর্মের লোক সেটা আমার দেখার বিষয় না। পূজামন্ডপে উৎসব চলবে, বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান চলবে, কে মুসলমান কে হিন্দু সেটা আমার দেখার বিষয় না। যেটা নিষিদ্ধ সেটা করা যাবে না। এ ধরণে বিশৃংখলাকারী এবং পরিবেশ নষ্টকারী যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। নারায়ণগঞ্জে অনেক পূজামন্ডপ হয়েছে। পূজামন্ডপের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছে।

হারুন অর রশিদ বলেন, যারা জুয়া খেলে তাদেরকে আমরা ছাড় দিচ্ছি না। মাদকের যে স্পটগুলো ছিল সেটা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। আমরাই নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করেছি, যে জুয়া খেলা যাবে না। ক্যাসিনো আমরাই নারায়ণগঞ্জে টাকা ধরেছি। আমরাই নারায়ণগঞ্জ থেকে নকল প্রসাধনী উদ্ধার করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাথ দখলমুক্ত করেছি। মীর জুমলা রোড পরিস্কার করেছি। নাগরিক সুবিধার জন্য যা যা করার দরকার আমরা করছি। যে সন্ত্রাসী হয় সে সন্ত্রাসী, সে কোন দলের নয়। আমরা সাধারণ মানুষের সেবা দিতে চাই। গুটি কয়েকজন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদুস্যদের কাছে আমরা এতগুলো মানুষ হেরে যেতে পারি না। আপনারা সে সকল সন্ত্রাসীদের বিরদ্ধে যে নামই ধারণ করুক না কেন আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিব।

প্রত্যাশা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সংকর সাহার সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরে আলম, নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, প্রত্যাশা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিকাশ দেবনাথ, সহ সভাপতি যাদব রায়, প্রবাস সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক অজয় সূত্র ধর প্রমুখ।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও