‘নিরাপদ নৌপথ চাই’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, ১২ দফা দাবি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১২ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০১৯ রবিবার

‘নিরাপদ নৌপথ চাই’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, ১২ দফা দাবি

‘প্রশিক্ষণ আর সচেতনতা নৌপথে আনে নিরাপত্তা’ স্লোগানে নারায়ণগঞ্জে ‘নিরাপদ নৌপথ চাই’ নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

রোববার ৬ অক্টোবর বিকেলে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের ভিআইপি সম্মেলনকক্ষে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসান উল করিম চৌধুরী বাবুল ও সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে মোঃ সবুজ শিকদার মনোনীত হয়েছেন।

এছাড়া আংশিক কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে শাহ আলম মিয়া ও সিদ্দিকুর রহমান, অর্থ সম্পাদক পদে কবির হোসেন, নির্বাহী সদস্য হিসেবে নাননু মিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ, উপদেষ্টা হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক, বিআইডব্লিউটিএ’র সিবিএ সভাপতি রফিকুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদ ও কমিটির বাকী সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানান নবগঠিত সংগঠনের চেয়ারম্যান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর শ্রমিকলীগের সহ সভাপতি আলী হোসেন, বিআইডব্লিউটি’এর সিবিএ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, আক্তার হোসেন, জাকির হোসেন, যুব শ্রমিকলীগের মোঃ লিটন সহ শ্রমিকলীগ ও বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চেয়ারম্যান সরকারের প্রতি নিরাপদ নৌপথের লক্ষ্যে ১২ দফা দাবি পেশ করেন। তিনি বলেন, একটা সময়ে বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক দেশ। অথচ এখন বাংলাদেশে নৌপথ মাত্র ৪ হাজার কিলোমিটার। নদীপথে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ও নানা অসঙ্গতি থাকলেও দেখার কেউ নেই। আমাদের দুর্ভাগ্য দখল দূষণে নদীগুলো হারিয়ে গেলেও আমরা কোন প্রতিবাদ করছিনা। যে কারণে দখলদাররা নদী দখলে সাহস পাচ্ছে। নৌপথকে নিরাপদ করার জন্য আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সংগঠনের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবি সংগঠনে সম্পৃক্ত থাকলেও আমাদের কার্যক্রম হবে সম্পূর্ণভাবেই অরাজনৈতিক।

সংগঠনটির পেশকৃত ১২ দফা দাবিগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশের সকল নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে এবং বিআইডব্লিউটিএ’র নদী দখলমুক্ত করার অভিযান চলমান রাখতে হবে। পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌপথে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌ চলাচলের উপযোগী করতে হবে ও পাইলট মার্কামেন এবং মাষ্টার পাইলটের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশের সকল নদী ও সমুদ্র বন্দরে জঞ্জালমুক্ত করে অপেক্ষমান লোড আনলোড নৌযান রাখার জন্য মুরিং বয়া, পোতাশ্রয় ও নাবিকদের জন্য সকল বন্দরে রেস্টহাউজ ও দাতব্য চিকিৎসালয় নির্মাণ করতে হবে। নৌপথে চলন্ত নৌযান থেকে কোন প্রকার চাঁদা উত্তোলন করা যাবেনা এবং সকল ধরনের নৌ ডাকাতি বন্ধ করতে হবে। নৌযানের সনদধারী মাস্টার ড্রাইভারকে বর্ষা মৌসুমে ও শীতের কুয়াশা মোকাবিলার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং ঈদসহ সকল ধর্মীয় উৎসবে যাত্রীবাহী জাহাজের নিরাপদে চলাচলের জন্য মোবাইল টিম গঠন করে যাত্রী ও মালামালের যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গার পাড়ে বিআইডব্লিউটিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডুবন্ত নৌযানসমূহ অপসারণ করতে হবে। নদীর তীরে এবং কোথাও কোথাও নদী দখল করে গড়ে উঠা সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ডকইয়ার্ডের সামনে এলোপাথারী নৌযান নৌঙ্গর করে রাখা বন্ধ করতে হবে এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করতে হবে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সকল অনিয়ম বন্ধ করে তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে হবে। বিভিন্ন নদীবন্দরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনসচেতনতায় বিলবোর্ড ও হ্যান্ড বিলের মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হবে। রাতের বেলায় বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজার এবং মাছ ধরার জালের নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। নৌপথের শ্রমিক ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় একটি হটলাইন চালু করতে হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে সকল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে একটি ভিজিলেন্স টিম গঠন করতে হবে। ফিটনেসবিহীন নৌযানে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে হবে। মাওয়া, কাঠালবাড়ি, আরিচা, দৌলতদিয়া, হরিণা, মজু চৌধুরী হাটসহ সকল ফেরীঘাটগুলোতে নদী শাসন করে স্থায়ী ঘাটের ব্যবস্থা করতে হবে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও