৩৮ বছরের টিএসআই নুরুজ্জামানকে সংবর্ধনা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:২৫ পিএম, ২ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার

৩৮ বছরের টিএসআই নুরুজ্জামানকে সংবর্ধনা

‘বিদায় নাহি দিব হায় তবু বিদায় দিতে হয় তবু চলে যায়’ ছেড়ে চলে যাওয়ার সেই নির্মম অভিজ্ঞতা থেকে আজকে কবির ভাষাকেই স্মরণ করে টিএসআই মো. নুরুজ্জামানকে বিদায় সংবর্ধনা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা।

তাঁর ৩৮ বছরের কর্মজীবনে যে সেবা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও দক্ষতা দেখিয়ে গেছেন সেটা নবাগত ট্রাফিক কর্মকর্তাদের জন্য পথপদর্শক হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঊর্ধ্বতনেরা। আর প্রত্যাশা করেছেন এমনি ভাবে সম্মান, সুস্বাস্থ্য ও ভালোবাসা নিয়ে যেন সবাই অবসর নিতে পারেন।

২ ডিসেম্বর সোমবার রাতে শহরের নিউ মেট্রো হল মোড়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সাবেক কার্যালয় প্রাঙ্গনে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের আয়োজনে টিএসআই মো. নুরুজ্জামানের অবসরোত্তর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক বিভাগ) মো. সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘একজন কর্মকাল শেষ করে অবসরে যাচ্ছেন এটা আনন্দের। আমরা তার সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গলময় জীবন কামনা করছি।’

তিনি ট্রাফিকের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একজন অক্লান্ত পরিশ্রমী মানুষকে তার পাওনাটা পরিশোধ করতে পেরেছি। আর যারা অবসরে যাবেন আমরা তাদেরও এভাবে সম্মান করবো। তাদের সম্মানের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবো।’

তিনি বলেন, ‘নুরুজ্জামান সম্মান ও সুস্থতারর সঙ্গে কাজ করে গেছেন। কখনো কোন অভিযোগ পাইনি। কারণ অন্য কোন টিআই তার বিরুদ্ধে কখনো আমার কাছে বলেনি যে, নুরুজ্জামান ফাঁকিবাজি করে। বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন শাখার মধ্যে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা সব থেকে বেশি কাজ করেন। যা ঊর্ধ্বতনরা হয়তো জানে না।’

নবাগত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা নেতৃত্ব সামনে থেকে দিবেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করবেন। নুরুজ্জামান সেই অক্লান্ত পরিশ্রমের ব্রত নিয়ে কাজ করেছেন।’

চাষাঢ়া ট্রাফিক পুলিশের টিআই সোহরাব হোসেন বলেন, ‘ওনি যখন থেকে নারায়ণগঞ্জে কাজ করেছেন তখন রাস্তা নাজুক ছিল। কিন্তু কাজের প্রতি স্পৃহা ও সেবার মন মানসিকতা নিয়ে কাজ করেছেন। যা তিনি ৩৮ বছরে প্রমাণ করেছেন। কাজের কোন অবহেলা করেননি। আমরা জানি না শান্তিপূর্ণ, সম্মান ও সুস্থ ভাবে বিদায় নিতে পারবো কিনা। তবে এ সম্মানের সহিত বিদায় নিতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন।’

‘পাখি চলে যায় কিন্তু পালক ফেলে যায়, তেমনি কেউ চলে যায় কিন্তু স্মৃতি রেখে যায়’ কবি ভাষায় জেলা ট্রাফিকের টিআই ম্যোলা তাসলিম হোসেন বলেন, ‘ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় কাজ করা খুব কঠিন ছিল যখন ব্রীজ নির্মাণ হয়নি। কিন্তু নুরুজ্জামান ডিউটিতে ১০০ ভাগ পারফেক্ট ছিলেন। ৩৮ বছর শুধু শ্রম দিয়ে গেছেন। আর এটা নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা অনেকদিন স্মরণে রাখবে।’

পরিবার পরিজনদের থেকেও কর্মস্থলের সহকর্মীরাই সব থেকে আপন হয়ে উঠে নিজের অজান্তে। স্বজনদের থেকেও বেশি যোগাযোগ, রাগ অভিমান আর হাসি কান্নার মধ্যে চলে জীবন। তাই হয়তো কবি বলেছিলেন ‘আমি ভালোবাসি যারে, সে কি দূরে যেতে পারে’। সেই ভালোবাসা থেকেই অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিতে গিয়েও কণ্ঠরোধ হয়ে আসছিল টিএসআই নুরুজ্জামানের।

বিদায় বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিদায় অত্যন্ত বেদনা দায়ক। তারপরও বিদায় নিতে হচ্ছে। কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। হয়তো আমি আমার কর্মজীবনে কিছু দিতে পেরেছি তাই যা আমি প্রত্যাশাও করিনি তাই পেয়েছি।’ এসময় তার পাশেই বসে ছিলেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি তাঁরই সহধর্মীনি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিআই মাহবুব শাহ সহ জেলা ট্রাফিকের অন্যান্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠান শেষে ফুলের শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার প্রদান করেন এএসপি ট্রাফিক সালেহ উদ্দিন। এ বিদায় অনুষ্ঠানে নবাগত ট্রাফিকের কর্মকর্তাদেরও ফুলের শুভেচ্ছায় অভিনন্দন জানানো হয়।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও