বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে মোমশিখা প্রজ্জ্বলন করেছে একতা খেলাঘর

প্রেস বিজ্ঞপ্তি || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৯ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার

বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে মোমশিখা প্রজ্জ্বলন করেছে একতা খেলাঘর

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে মোমশিখা প্রজ্জ্বলন করেছে জাতীয় শিশু সংগঠন একতা খেলাঘর আসর।

বিকেলে নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শহীদ মিনারে এ মোমশিখা প্রজ্জ্বলন করা হয়। একতা খেলাঘর আসরের সভাপতি রেখা গুণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়।

প্রধান অতিথি বলেন, বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত শোকাবহ একটি দিন। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর দিন। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। এই দিনটিতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাঙালি জাগরণের অগ্রদূত এদেশের সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিলো। আর এ কাজে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিলো তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনী।

তিনি আরো বলেন, পাক হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পেরেছিল, তাদের পরাজয় অনিভার্য, তখনই পরিকল্পিতভাবে তারা জাতিকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। নবগঠিত এই দেশটি যাতে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে দূর্বল থাকে, কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য তারা জাতির সূর্য -সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নিধন করার এক কুৎসিত এবং লোমহর্ষক পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনার মুল সহযোগী আল-বদর বাহিনী, যাদের সহযোগীতা ছাড়া পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। এরাই ১১ ডিসেম্বর থেকে ব্যাপকভাবে বুদ্ধিজীবী নিধন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানী বাহিনী তাদের দেশীয় দোসরদের সঙ্গে নিয়ে দেশের বরেণ্য সকল শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তুলে আনে এবং পৈশ^াচিক নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরিকল্পিত এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড নামে পরিচিত।

এসময় উপস্থিত সকলেই ১৪ ডিসেম্বরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে। পাশাপাশি দেশপ্রেমিক বাঙালি হিসেবে ইতিহাসের এই বর্বোরচিত হত্যাকান্ডের কুলাঙ্গারদের প্রতি ঘৃণা জানায়।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আমাদের দেশের সূর্য সন্তানদের পাক হানাদার বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমাদের দেশ যখন সূদুর মুক্তির দিকে তখনই ১৪ ডিসেম্বর এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক হানাদার বাহিনী। দেশকে মেধাশূণ্য করাটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের স্মরণে নগরীতে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অনিক সাহার সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, মণি সুপান্থ, জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ, উন্মেষ সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি প্রদীপ ঘোষ বাবু, জেলা কালচারাল অফিসার রুনা লায়লা, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মনোয়ারা সবুজ, নারায়ণগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শীতল চন্দ্র দে, একতা খেলাঘরের উপদেষ্টা সুভা সাহা, ৩২নং চাষাঢ়া আদর্শ বালক সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চন্দ্রা রানী, দীপক ভৌমিক ও সুশান্ত সাহা একতা খেলাঘর আসরের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও