জীবিকার তাগিদে স্বাভাবিক কোর্ট চান নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০০ পিএম, ২৯ জুন ২০২০ সোমবার

জীবিকার তাগিদে স্বাভাবিক কোর্ট চান নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এমতাবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজন বিপাকে পড়ে গেছেন। তাদের সকল আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পরিবাদের সদস্যদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিনযাপন করতে হচ্ছে। আর এই অবস্থার মধ্যে রয়েছে আইনজীবীরাও। আর তাই জীবন ও জীবীকার তাগিদে স্বাভাবিক কোর্ট চান নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা। যদিও বর্তমানের অনেক সেক্টরই খোলা রয়েছে। আর সে কারণে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরাও চাচ্ছেন ভার্চুয়াল কোর্ট বন্ধ করে স্বাস্থবিধি মেনে যেন অতি দ্রুত স্বাভাবিক কোর্ট চালু করা হোক।

এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ বলেন, আমরা স্বাভাবিক কোর্ট চাই। অনেকেই বাড়ী ভাড়া দিতে পারে না, খেতে পারে না, অনেকে নানান কষ্টে আছে। এই কষ্ট কারও কাছে বলতে পারে না। আমরা কোনো সরকারী উকিল না, কোনো বেসরকারী উকিল না, আমরা ৯৫ পার্সেন্ট সাধারণ উকিল। আমরা বাঁচতে চাই, সাধারণ কোর্ট চাই। সরকারের কাছে বলবো আমরা এদেশের নাগরিক। আমাদেরকে বাঁচান। দেশের সকল সেক্টর খোলা, আইনজীবীদের পেশা বন্ধ। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল নিয়মকানুন মেনে স্বাভাবিক কোর্ট চাই।

অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সচিবালয় থেকে শুরু করে সবকিছু খোলা রয়েছে। শুধুমাত্র আইনজীবীদের পেশা বন্ধ রয়েছে। আইনজীবীদের কোর্ট বন্ধ কিন্তু তার সকল খরচের খাত খোলা রয়েছে। এই অবস্থায় আইনজীবীরা নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিনযাপন করছে। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি স্বাভাবিক কোর্ট চালু করা হোক। প্রয়োজনে দুইভাগে ভাগ করে কোর্ট চালু করা হোক।

অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমরা চাই ভার্চুয়াল কোর্ট বন্ধ করে স্বাভাবিক কোর্ট চালু করা হোক। আইনজীবীদের বাঁচার অধিকার দেয়া হোক। আইনজীবীরা যাতে না খেয়ে মরতে না হয় সে ব্যবস্থা করা হোক। সাধারণ আইনজীবী পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তারা কারও কাছে চাইতে পারে না, হাত পাততে পারে না। না খেয়ে মরার মতো অবস্থা হয়েছে। ভার্চুয়াল কোর্টে সিভিলের কোনো কার্যক্রম হচ্ছে না। সার্বিক বিচার ব্যবস্থা বিঘিœত হচ্ছে। এই অবস্থায় চলতে পারে না। আইনজীবী পেশাকে ধ্বংস করার একটা পায়তারা করছে। সরকারের প্রতি আহবান থাকবে স্বাভাবিক কোর্ট চালু করে সাধারণ আইনজীবীদের বাঁচতে দেয়া হোক। আশা করি এই অবস্থা থেকে সরকার মুক্তি দিবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী আহমেদ বলেন, স্বাভাবিক কোর্ট চালু করা সাধারণ আইনজীবীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সাধারণ আইনজীবীদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। এজন্য অতি সত্ত্বও স্বাভাবিক কোর্ট চালু করা হোক। তাদের দাবীর সাথে আমি একমত পোষণ করছি।

অ্যাডভোকেট মাসুদা খাতুন বলেন, ভার্চুয়াল কোর্টে আইনজীবীদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। কারণ আমরা প্রযুক্তিগতভাবে ততটা উন্নত না। আমাদের এ বিষয়ে আগে কোনো ট্রেনিংও দেয়া হয়নি। ফলে আমরাও কাজ করতে পারছি না জনগণকে সেবাও দিতে পারছি না। এ অবস্থায় আমাদের সরকারের একটাই দাবী সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতকারে স্বাভাবিক কোর্ট চালু করা হোক।

প্রসঙ্গত, গত ১০ মে অধস্তন আদালতে ভার্চুয়ালি কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। ২১ দফা ‘বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনায়’ অধস্তন আদালতের জামিন শুনানির পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়। আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০ এর ৫ ধারার ক্ষমতাবলে করোনায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আকবর আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এই নির্দেশনা জারির পর গত ১৩ মে থেকে নারায়ণগঞ্জে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু রয়েছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও