‘লক্করঝক্কর মার্কা নৌযানের ফিটনেস ও রুট পারমিট দেওয়া হচ্ছে’

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪০ পিএম, ২ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার

‘লক্করঝক্কর মার্কা নৌযানের ফিটনেস ও রুট পারমিট দেওয়া হচ্ছে’

‘প্রশিক্ষণ আর সচেতনতা নৌপথে আনে নিরাপত্তা’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে নিরাপদ নৌপথের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘নিরাপদ নৌপথ চাই’ নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার ২ জুলাই সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের বরফকলে অবস্থিত নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক এবং নৌযান রেজিষ্ট্রেশন কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সংগঠনটি।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট আহসান উল করিম চৌধুরী বাবুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল মো: সবুজ শিকদারের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডাশেনের কার্যকরী সভাপতি আলমগীর কবির বকুল, লিয়াকত আলী, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক কবির হোসেন, মুক্ত গার্মেন্ট ফেডারেশন জেলা শাখার সভাপতি জুয়েল প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: রমিজ উদ্দিন বেপারী, সহ প্রচার সম্পাদক মোসাম্মৎ সুমা আক্তার প্রমুখ।

সভায় সংগঠনের সেক্রেটারী জেনারেল মো: সবুজ শিকদার বলেন, আজকে সারাদেশে একের পর এক লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে চলেছে। সারাদেশ জুড়েই নৌপথে পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। আজকে যে সকল জাহাজগুলোর ফিটনেস ও রুট পারমিট পাওয়ার কথা না সেগুলোকে আজকে দুর্নীতির মাধ্যমে ফিটনেস ও রুট পারমিট দেওয়া হচ্ছে। আজকে সারাদেশে নৌযান চালাচ্ছে অদক্ষ শ্রমিকরা।

বিআইডব্লিউটিএ’র সারদেশে ৩টি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। যার মধ্যে একটি নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দায়, একটি বরিশালে ও আরেকটি মাদারীপুরে। সেখানে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ট্রেনিং নিয়ে থাকে। আমরা কি দেখতে পাই সেসকল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে লাগামহীন দুর্নীতি চলছে। আজকে নারায়ণগঞ্জ থেকে যেসব লঞ্চ চলাচল করছে সেগুলো লক্করঝক্কর মার্কা অনেকদিনের পুরনো।

এগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট দিচ্ছে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর। অনেক জাহাজের লস্কর গ্রীজার আছে যারা একযুগেরও বেশী সময় ধরে কাজ করেও পরীক্ষা দিয়ে সার্টিফিকেট পায়না অথচ জীবনেও একদিন জাহাজে কাজ না করেও সার্টিফিকেট পেয়ে যায়। কিভাবে তারা ফিটনেস সার্টিফিকেট ও কোয়ার্টার মাস্টারের সার্টিফিকেট পেয়ে যায় সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। সদরঘাট এলাকায় যে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৩৫ জনের প্রাণহানিতে বুড়িগঙ্গার উভয়তীরে হাজার হাজার মানুষের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে গিয়েছিল। আমরা মনে করি দু’টি লঞ্চের চালকই অদক্ষ ছিল যেকারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আজকে এসকল অনিয়ম দ্রুত রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নৌপথগুলো ক্রমশই সরু হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীতে বিভিন্ন শিল্পকারখানার সামনে বড় বড় জাহাজগুলো এলোপাথারি বার্থিং করে রাখার কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে।

অ্যাডভোকেট আহসান উল করিম চৌধুরী বাবুল বলেন, আমরা গত ১৫ জানুয়ারী নিরাপদ নৌপথের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু সেসকল সিদ্ধান্ত কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। আজকে সারাদেশেই যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী লঞ্চ চালাচ্ছে সুকানী গ্রীজাররা। নৌযানের ফিটনেস ও রুট পারমিটসহ শ্রমিকদের সার্টিফিকেট প্রদানে নানা অনিয়ম হচ্ছে। নদীগুলোর উভয় তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কলকারখানা, সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, ডকইয়ার্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে এলোপাথারি জাহাজ বার্থিং (নোঙ্গর) করে রাখার কারণে নদীপথগুলো সংকীর্ন হয়ে ও নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল ঘাট, বাংলাঘাট, সোনাচরা ঢাকেশ^রী ঘাট বিআইডব্লিউটিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসংখ্য ডুবন্ত পরিত্যক্ত জাহাজগুলোর কারণেও নদীপথ সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়ছে। ঘন কুয়াশায় ও রাতের বেলায় বালুবাহী বাল্কহেড, ট্রলার, ছোট যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচল থেকে বিরত থাকতে হবে। এসকল কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এছাড়া নৌপথে বিভিন্ন নামে চাঁদাবাজিও হচ্ছে। একারণে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও