৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:১৮ অপরাহ্ণ

ফতুল্লায় সন্তানকে বিক্রি করে শিশু চুরির অভিযোগ


ফতুল্লা করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৮ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার


ফতুল্লায় সন্তানকে বিক্রি করে শিশু চুরির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জন্মের দুই মাসের মাথায় অভাব অনটনের কারনে নিজের সন্তান বিক্রি করেও দেয়ার পরও থানায় শিশু চুরির অভিযোগ করতে গিয়ে ফেসে গেলেন মেহেরুন নেছা নামের এক গৃহবধূ। নিজের সন্তান বিক্রি করে কৌশলগত কারণে শিশু চুরির অভিযোগ দায়ের করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকা হতে পুলিশ শিশুকে উদ্ধার করে এক গৃহবধূ সোনিয়াকে আটক করার পর আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে।

জানা গেছে, ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার সুজনের স্ত্রী গার্মেন্ট শ্রমিক মেহেরুন নেছা গত তিন মাস আগে সন্তান ডেলিভারীর জন্য ঢাকার ডেলটা হাসপাতালে ভর্তি হয়। একই সমস্যায় উক্ত হাসপাতালে ভর্তি হয় মুন্সিগঞ্জ টঙ্গিবাড়ীর মীর হোসেন বেপারীর স্ত্রী রহিমা বেগম। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাদের মধ্যে একটি সু সম্পর্ক গড়ে উঠে। হাসপাতালে রহিমা বেগমের সন্তান প্রসব হওয়ার পর মারা যায় আর মেহেরুন নেছার একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু স্বামী কোন কাজ কর্ম না করার ফলে তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। যার কারণে সন্তান হওয়ার পরও অভাবের কারণে নিজের সন্তানের প্রতি মায়া ত্যাগ করে রহিমা বেগমের ভাগনি সোনিয়ার মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকার মাধ্যমে রহিমার কাছে সন্তান বিক্রি করে দেয়। এসময় তারা একটি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে লিখিত করে নেয়। তার পর রহিমা সন্তানের নাম রাখেন আলিফ। বাচ্চা বিক্রির এক মাস পর মেহেরুন নেছা মঙ্গলবার শিশু চুরি অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ বুধবার মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এলাকা হতে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং সোনিয়াকে আটক করে। পরে উভয়ের কথা শুনে ফেসে যায় অভিযোগকারী মেহেরুন নেছা।

সোনিয়া বেগম জানান, তার মামী রহিমা বেগমের হাসপাতালে সন্তান ডেলিভারীর সময় তার সন্তান মারা যাওয়ার পর একই হাসপাতালে সন্তান ডেলিভারী হওয়া মেহেরুন নেছা টাকার বিনিময়ে সন্তান বিক্রি করতে চায়। পরে সে তার মামীর সাথে আলোচনা করে উভয়ের সাথে কথা বলে মেহেরুন নেছার ছেলে সন্তানকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তার মামীর কোলে তুলে দেয়। ঘটনার এক মাস পর এখন শিশু চুরির অভিযোগ করছে।

অভিযোগকারী মেহেরুন নেছা শিশু বিক্রির কথা শিকার করলেও নিজের সন্তানকে দেখার জন্য সোনিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের সন্তানকে ফিরিয়ে আনার কৌশল অবলম্ভন করে। পরে বাধ্য হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় শিশু চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার সন্তান পেলে আর কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ নাই বলে জানান।

ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, মেহেরুন নেছার শিশু চুরির অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে মুন্সিগঞ্জ হতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং সোনিয়া নামে নারীকে আটক করা হয়। পরে উভয় পক্ষের কথা শুনে জানা গেছে মূল ঘটনা হচ্ছে অভাব অনটনের কারণে মেহেরুন নেছা তার সন্তানকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিল। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় শিশু চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়া হয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ