৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

আড়াইহাজারে রাস্তায় ফেলে গেলো গর্ভবতীকে, রাস্তায় সন্তান প্রসব


আড়াইহাজার করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৩ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:২১ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার


আড়াইহাজারে রাস্তায় ফেলে গেলো গর্ভবতীকে, রাস্তায় সন্তান প্রসব

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় গর্ভবতী এক নারীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মৃত্যুর হাত রক্ষা করলেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। রাস্তায় সন্তান প্রসবের হওয়ার পর নিজেকে বাঁচাতে যখন হালিমা বেগম (৩৬) মাটিতে শুয়ে ছটপট করছেন ঠিক তখনি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়া রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তবে গর্ভবতী হালিমাকে তার পাষন্ড স্বামী উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের পিছনে ফেলে চলে যায় বলে এমনটাই অভিযোগ করেন হালিমা।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে আড়াইহাজার উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের পিছন থেকে হালিমা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে উপজেলা ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়া তা নিশ্চিত করে।

এদিকে হালিমা বেগমের সন্তান রাস্তায় প্রসব হলেও সে তার সন্তান খুঁজে না পেয়ে কান্নাকাটি করলেও সন্তানকে কাছে পায়নি। তবে যেখান থেকে হালিমা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তার একশ গজ দূর হতে পুলিশ এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে। নবজাতকের লাশটি হালিমা বেগমের কিনা এলাকাবাসীর মাঝে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গনবন্দ এলাকার হালিমা বেগম। তাকে বরিশালের আল আমিন হালিমাকে বিয়ে করে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করতো। হালিমা যখন গর্ভবতী হন তখন তার স্বামী আলামিন তাকে সন্তান নষ্ট করতে বলে। এতে হালিমা অনীহা প্রকাশ করলে তার উপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে হালিমাকে ইনজেকশন দিয়ে তার গর্ভের সন্তান করারও চেষ্টা করে। তাকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করায় হালিমা অনেকটাই অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

পরে মঙ্গলবার সকালে হালিমাকে তার স্বামী তাকে তুলে নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের পিছনে ফেলে চলে যায়। ওই সময় সম্ভবত রাস্তায় হালিমা সন্তান প্রসব হয়ে শিশুটি মারা যায়। আর হালিমা রক্তাক্ত অবস্থায় ছটপট করতে থাকে এবং নিজেকে বাঁচাতে হাসপাতালের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অসুস্থ্য হালিমা অসুস্থ্য হওয়ায় মাটিতে লুটে পড়ে যায়। ওই সময় হালিমা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠকর্মী নজরুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে। এসময় নজরুল ছুটে যায় ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়ার কাছে। তখন সকলের সহযোগিতায় নজরুল হালিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে হালিমার চিকিৎসা করে বাঁচিয়ে তুলতে সকল দায়িত্ব নেয় ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়া। তিনি চিকিৎসার সকল খরচ বহন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা: শান্তা জানান, হালিমা বেগমের ৮ মাসে সন্তান প্রসব হয়। তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে তাকে অপারেশন করে প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হালিমা বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরন হওয়ায় সে অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূইয়া জানান, হালিমা বেগমের স্বামী তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। আর রাস্তায় হালিমা বেগমের সন্তান প্রসব হয়। তার সন্তান রাস্তায় মারা গেলে সন্তান ফেলে সে নিজেকে বাঁচাতে ছটপট করতে থাকে। তখন তাকে দেখে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠকর্মী নজরুল সকলের সহযোগিতা নিয়ে হালিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তখন আমার নিজের পকেটের টাকা খরচ করে হালিমাকে চিকিৎসা শুরু করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটু দূর হতে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নবজাতকের পরিচয় পাওয়া না গেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বলছে নবজাতকের লাশটি হালিমা নামের মহিলার। তবে ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ