৩ মাঘ ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ

ইতিহাসের মাইলফলক হতে যাচ্ছেন শামীম ওসমান


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:২৩ পিএম, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:২৩ পিএম, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার


ইতিহাসের মাইলফলক হতে যাচ্ছেন শামীম ওসমান

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা ডিএনডি বাধের ভেতরে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির অবসান এবার সত্যিকার অর্থেই শুরু হতে যাচ্ছে। শুক্রবার ৮ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কাজ। এর আগে এ প্রকল্পকে সাধুবাদ জানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লাতে আলাদা দুটি সমাবেশ হয়েছিল। আর শুক্রবার থেকে হতে যাচ্ছে দৃশ্যমান কাজ। আর এ প্রকল্পের কাজ এমপি শামীম ওসমানের জন্য ও আগামী দিনের রাজনীতিতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই বছরেরও বেশী সময়ে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই অন্তত জলাবদ্ধতা হবে না এমনটাই আশা করা যাচ্ছে। আর এ উন্নয়ন কাজ যার প্রচেষ্টা ও আবেদনে হয়েছে সেই এমপি শামীম ওসমানের ধারণা প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে শেষ হলে ঢাকার অনেক অভিজাত এলাকা থেকে ডিএনডির ভেতরের পরিবেশ ও দৃশ্যপট এগিয়ে থাকবে। আর এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

৫৭বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যে ডিএনডি বাধ তার মধ্যে ফতুল্লা এলাকাটিই প্রায় ৬০ শতাংশ। আর সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটিও ডিএনডি বাধের ভেতরে। এটা আবার সিটি করপোরেশন এলাকাতেও। এ দুটি নিয়েই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গঠিত যাঁর এমপি শামীম ওসমান।

বিগত দিনে এ আসনের এমপিরা বার বার ডিএনডি নিয়ে আশার আলো দেখালেও সেটা ফিকে হয়ে যায়। প্রতি বছর বর্ষা আসলেই দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনার শিকার হতো ডিএনডি এলাকার অন্তত ২০ লাখেরও বেশী মানুষ। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত হতো বিভিন্ন কল কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত পানি। থাকতো বসত বাড়ির পয়ঃনিস্কাশনের পানি।

সবশেষ এবার ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আজহার সময়েও অবর্ণনীয় দুর্ভোগে মানুষের আনন্দ পানিতে ধুয়ে যায়। কোরবানীর পশু রাখারও শুকনো স্থান পায়নি অনেকে।

শামীম ওসমান এ দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘শুধু পানি থাকলে সমস্যা হতো না। দেশের অনেক স্থানেই এ ধরনের পানিবন্দী মানুষ বসবাস করে। কিন্তু এটার পানি এমন কঠিন বিষ যা অকল্পনীয়।’

‘রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা বলতে আমরা বনানী, গুলশান, বারিধারাকে বুঝি। কিন্তু সেনাবাহিনী, পরিকল্পনা ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হতে আমাকে যে ভিডিও দেখানো হয়েছে। সেটা দেখে আমি অভিভূত। কারণ এটা বাস্তবায়ন হলে এসব এলাকার চেয়েও বেশী উন্নত হবে আমার এলাকা। এতেই আমি তৃপ্ত। এটা যে কত বড় পাওয়া হবে সেটা বাস্তবায়ন না হলে কেউ বুঝতে পারবে না’ বক্তব্যে যোগ করেন শামীম ওসমান।

১৯৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত একই আসনের এমপি ছিলেন শামীম ওসমান। তখন প্রায় ২৬শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করে আলোচনায় থাকা শামীম ওসমানের দাবী এবারও তিনি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতে আরো অনেক কাজ বাকি থাকবে। সবচেয়ে বেশী উন্নয়ন বরাদ্দ তিনি এনেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গঠিত হলেও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাটি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন থাকায় সেখানকার উন্নয়ন কাজগুলো করতে পারছেন না। যদিও সিটি করপোরেশনের মেয়রের প্রতি শামীম ওসমান বার বার বলছেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতে উন্নয়ন কাজে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে যেন আমাকে জানানো হয়। আমিও সহযোগিতা করবো। কারণ উন্নয়নে কোন ভেদাভেদ নাই।’

শামীম ওসমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটি ৮লেনে উন্নীত করা হবে। দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে চাষাঢ়া থেকে আদমজী পর্যন্ত বিলুপ্ত রেললাইনে সড়ক হবে, ২শ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন রুট ডাবল লাইন করা হবে। ফতুল্লাতে আরো ২শ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ হবে।’

‘আমি এত উন্নয়ন করলাম, কিন্তু ডিএনডির ভেতরে রাস্তা থাকলো পানির নিচে, মানুষের দুর্ভোগ কমলো না। তাহলে সে উন্নয়নের কোন ফলপ্রসূ থাকবে না’ জানিয়ে শামীম ওসমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এসব কারণে ডিএনডির মানুষের দুর্ভোগ আমাকে বেশ পীড়া দিত। প্রধানমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী ও পানি সম্পদ মন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এ প্রকল্প পাশ হওয়ায় সবচেয়ে বেশী খুশী আমি। কারণ আমি অনেক প্রকল্প পাশ করিয়েছি যা কষ্ট না হয়েছে তার চেয়ে ১০ গুণ বেশী কষ্ট হয়েছে ডিএনডির প্রকল্প নিয়ে।’

প্রসঙ্গত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী। শামীম ওসমানের মতে, সেনাবাহিনী এ কাজে কোন লাভ করবে না। তারা দেশপ্রেমিক। জনগণের কল্যাণে কাজ করবে। সে কারণেই আমাদের সবার আস্থা এ সেনাবাহিনীর উপর। শুধু পানি নিস্কাশন না যাতে পুরো কাজটি বিশেষ করে সুয়ারেজের লাইন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সব করতে পারে সেটা যেন হয়।

ডিএনডি বাধের ভেতরে পানি নিস্কাশনের যেসব খাল আছে তার বেশীরভাগই দখলে চলে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি পাম্প অবধি যেতে পারে না। এতে করেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় যা বৃষ্টি হলেই বাড়তে থাকে।

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে কাজটি হলে এসব অবৈধ খাল দখলদারদেরও উচ্ছেদ করে খালগুলো পুনরুদ্ধার হবে মনে করেন এখানকার অধিবাসীরা। এসব কারণেই সেনাবাহিনী কাজটি করায় স্বস্তি পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস করা লাখ লাখ মানুষের।

ফ্লাশব্যাক : এমপি হয়ে প্রথম দাবী
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পর ওই বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশনে শামীম ওসমানের বক্তব্যের মুখ্য বিষয় ছিল ডিএনডি প্রসঙ্গ। ওই অধিবেশনে তিনি সংসদে পানি সম্পদ মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনের কথা বলেন। কিন্তু তখন কোন সুদত্তর তিনি পায়নি। পরে পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান এ কাজটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ তথা এলজিইডির।

ডিও লেটার ও পদত্যাগ
শামীম ওসমান এলজিইডিকে চাহিদা পত্র (ডিও লেটার) দেন। কিন্তু এলজিইডি পয়ঃনিস্কাশনের বিষয়টি তাদের না জানান। বলা হয় এগুলো সিটি করপোরেশন কিংবা পৌরসভার কাজ। পরে শামীম ওসমান এলজিইডি ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালকে আবারও চিঠি দিয়ে জানান, ‘ডিএনডির মোট এলাকার ৬০ ভাগ ফতুল্লা থানা এলাকাতে যেটা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের। সুতরাং এখানে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা নেই। তাহলে কাজ কে করবে।’

ওই সময়ে শামীম ওসমান সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বলেন, ডিএনডির কাজ শুরু না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন।

ভাতের টেবিল থেকে ডিএনডিতে মন্ত্রী
২০১৫ সালের ২৩ জুলাই পরিকল্পামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের সঙ্গে এক টেবিলে বসেন শামীম ওসমান। ওই খাবারের টেবিলে মন্ত্রীকে ডিএনডির কথা জানালে তিনি খাওয়া রেখেই ডিএনডিতে চলেন। তিনি মানুষের দুর্ভোগ দেখে দ্রুত শামীম ওসমানকে ডিও লেটার দিতে বলেন। কিন্তু পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান তারা এ কাজটি করতে পারবে না। কারণ এটার জন্য ভবিষ্যতে ঝামেলা হবে। পরে শামীম ওসমান আবারও ডিও লেটার দিয়ে জানতে চাইলো তাহলে কাজ কে করবে। কারণ ডিএনডি তো আর দেশের বাইরে না।

মন্ত্রীর ডিও লেটার
পরিকল্পনা মন্ত্রী ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রীকে ডিও লেটার দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ডিএনডির জলাবদ্ধতা সরেজমিন করে তিনি বেশ মর্মাহত হয়েছেন। উল্লেখ করেন, ‘এলাকার জনগণের কষ্ট লাগবে আমি মনে করি আপনার মন্ত্রণালয়কে অতি সত্বর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। একই সাথে ভবিষ্যতে যেন এ ধরণের সমস্যা না হয় সেজন্য দীর্ঘ মেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

একনেকে অনুমোদন
২০১৬ সালের ৯ আগস্ট ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশনে ৫৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্পে অনুমোদন দেন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সেদিন বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা এলাকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তারা উপকৃত হবেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় ডিএনডি এলাকায় নতুন পাম্পসহ পাম্প স্টেশন ও পাম্পিং প্লান্ট স্থাপন, বর্তমান পাম্প স্টেশন পুনর্বাসন, সেচখাল নিষ্কাশন, খাল পুনঃখনন এবং ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া এলাকার জনগণের স্বাভাবিক জীবনমান নিশ্চিতকরণ অর্থাৎ আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত মান উন্নয়ন এবং প্রকল্প এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

প্রকল্প চুক্তি
ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) প্রকল্পের অভ্যন্তরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২১ সেপ্টেম্বর ‘ডিএনডি এলাকার, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে এ সমঝোতা হয়েছে।

৫শ ৮১৯ দশমিক ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া প্রকল্পের ডিপিপি গত বছরের ৯ আগস্ট একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ১ জুলাই ২০১৬ হতে ৩০ জুন ২০২০।

ডিএনডি কী?
সূত্রমতে, রাজধানী ঢাকায় অবস্থানকারীদের সতেজ রবি শস্য সরবরাহ করার জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা এলাকার ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে ১৯৬৫ সালে ইরিগেশন প্রকল্প  তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। যা ১৯৬৮ সালে বাস্তবায়ন করা হয়। নাম রাখা হয় ডিএনডি বাধ (ইরিগেশন প্রকল্প)। প্রকল্প বাঁধের দৈর্ঘ্য ৩২ দশমিক ৮ বর্গ কিলোমিটার। এ প্রকল্পে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে তৎকালীন সময় ২৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বর্তমান ঢাকা-৪ ও ৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসন এলাকার কিছু অংশ নিয়ে ডিএনডি সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এর অভ্যন্তরে ৫ হাজার ৬৪ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এনে ইরি ধান চাষের উপযোগী করা হয়। এসব এলাকায় পানি  সেচ দেয়া ও নিষ্কাশনের জন্য সবচেয়ে বড় ‘কংস নদ’ নামে একটি প্রশস্ত খাল ছিল। এ খালের সঙ্গে আরো ৯টি শাখা খাল ছাড়াও ২১০টি আউটলেক, ১০টি নিষ্কাশন খাল ছিল। এসব খালের  দৈর্ঘ্য ছিল ১৮৬ কিলোমিটার। এরমধ্যে নিষ্কাশন খালের দৈর্ঘ্য ৪৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার আর ইরিগেশন খালের দৈর্ঘ্য ৫১ দশমিক ২০ কিলোমিটার। ২টি প্রধান পানি নিষ্কাশনের খাল কাটা হয় প্রথম পর্যায়ে ৫৫ পয়েন্ট ২০ ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৫ পয়েন্ট ৪০ কিলোমিটার। এবং ২টি প্রধান সেচ খাল কাটা হয় প্রথম পর্যায়ে ১৪১০ ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৪ কিলোমিটার। খরা মৌসুমে জমিতে পানি সেচ দিতে ও বর্ষা  মৌসুমে পানি নিষ্কাশন করতে সরকার এ খালগুলো তৈরি করে। কিন্তু কংস নদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। ওই নদ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনা। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় সারা দেশ যখন পানিতে ভাসছিল তখন ডিএনডি বাঁধ অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ না করায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ডিএনডিতে বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা অপরিকল্পিত ভাবে নির্মাণ করতে থাকে। দিনে দিনে ডিএনডি প্রজেক্ট আবাসিক এলাকায় পরিণত হতে থাকে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় সকল সেচ কার্যক্রম, সৃষ্টি হতে থাকে জলাবদ্ধতার। তাই শুধু বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহৃত হয় ডিএনডি পাম্প। ডিএনডি অভ্যন্তরে অপরিকল্পিত ভাবে প্রচুর পরিমাণে বাড়িঘর নির্মাণ করায় অতিরিক্ত পানি ও বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

যা বললেন মন্ত্রী
১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড মিলনায়তনে ডিএনডির প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ৫শ ৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প হলেও এজন্য যদি আরো টাকার প্রয়োজন হয় সেটার ব্যবস্থা করা হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী খোদ এ বিষয়টা নিয়ে বেশ আন্তরিক। টাকার কোন সমস্যা এখানে নেই। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও চান এ প্রকল্পটি দ্রুত হোক এবং ডিএনডিবাসী জলাবদ্ধতা থেকে দ্রুত মুক্তি পাক। ২০২০ সালে কাজ শেষ হলেও আমরা সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করবো যেন অন্তত আগামী বর্ষা মানে ২০১৯ সালের মধ্যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সেজন্য সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করা হবে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ