৫ আশ্বিন ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১২:০৯ অপরাহ্ণ

বক্তাবলীতে ইটভাটা শ্রমিক হত্যার ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি খুনীরা


ফতুল্লা করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২১ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮ শুক্রবার


বক্তাবলীতে ইটভাটা শ্রমিক হত্যার ৭ দিনেও গ্রেফতার হয়নি খুনীরা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের গোপালনগর এলাকায় অবস্থিত আশিক ব্রিকফিল্ডে (ইটভাটা) শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন হত্যকান্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি গ্রেফতার হয়নি খুনীরা। ওই হত্যাকান্ডের পরে নিহত দোলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শিল্পী আক্তার বাদি হয়ে ডিবি পুলিশের সোর্স আলমগীরসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলেও ৭ দিনেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, ৫ জানুয়ারী ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের গোপালনগর এলাকায় অবস্থিত আশিক ব্রিকফিল্ডে (ইটভাটা) দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের পর পালিয়ে যায় ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকেরা। খবর পেয়ে ইটভাটা থেকে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। নিহত দেলোয়ার হোসেন বক্তাবলী ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের মৃত আলম মিয়ার ছেলে।

পুলিশের একটি টিম ৬ জানুয়ারী বিকেলে সেখানে গিয়ে হত্যাকান্ডের কোন আলামত পায়নি। আত্মগোপনে থেকে ইট ভাটার মালিক অলিউল্লাহ একদিনের মধ্যে হত্যাকান্ডের আলমত ধ্বংস করে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভেঙে ফেলেছেন ছাপড়া ঘর যে ঘরে দেলোয়ারকে খুন করা হয়েছে। আর ওই ঘরের মাটি কেটে মুছে ফেলেছে রক্ত। কিন্তু সেখানে গিয়ে পাওয়া গেছে মাদক সেবনের প্রচুর সরঞ্জাম, জুয়া খেলার তাশ। এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। পরে সেখান থেকে ইট ভাটার ম্যানেজার নজরুল ইসলাম (৪০) ও ইট ভাটার পাশের চা দোকানদার সুমনকে (২৫) আটক করে পুলিশ।

আটক চা দোকানদার সুমন জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার সময় তার চায়ের দোকানে বসে আলমগীর ও দেলোয়ার চা পান করে আশিক ইট ভাটার দিকে চলে যায়। পরে দুপুরে সে জানতে পারে দেলোয়ার খুন হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শিল্পি বেগম হত্যাকারীদের বিচার দাবী করে বলেন, শুক্রবার ভোর রাতে ডিবির সোর্স আলমগীর ও সফি তার স্বামীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের গোপালনগর এলাকায় অবস্থিত আশিক ব্রিকফিল্ডে ছিল অপরাধীদের নিরাপদ ঘাঁটি। ওই ইট ভাটায় চার লাইন ছাপড়া ঘরের দুটিতে ইট ভাটার শ্রমিকেরা থাকতো। আর দুইটি লাইনের ছাপরা ঘরে চোর, ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীরা আড্ডা দিতো। আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করতো ইট ভাটার মালিক অলিউল্লাহ। এ ইট ভাটায় শ্রমিকদের ছাপরা ঘরে গত ৫ জানুয়ারী খুন হয় ট্রলার চালক দেলোয়ার।

৬ জানুয়ারী রাতে নিহত দোলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শিল্পী আক্তার বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় আলমগীরসহ ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি আসামীদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে মামলাটির তদন্তকারী অফিসার এসআই ফজলুল হক বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই খুনীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ