৭ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ

বন্দরের প্রকৌশলী ফারুক আত্মহত্যার কারণ তদন্তে রেলওয়ে পুলিশ


বন্দর করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৮ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০২:৫৮ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮ বুধবার


বন্দরের প্রকৌশলী ফারুক আত্মহত্যার কারণ তদন্তে রেলওয়ে পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ইঞ্জিনিয়ার (প্রকৌশলী) ফারুক রাজধানী ঢাকার মগবাজারের রেল গেইটে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার কারণ জানতে কমলাপুর থেকে রেলওয়ে পুলিশের একটি টিম গতকাল বুধবার বন্দরে তদন্তে এসেছে। রেলওয়ে পুলিশের এসআই আনিছের নেতৃত্বে ৫জন পুলিশ নিহত ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের বাসাসহ স্থানীয় এলাকাবাসী ও পাওনাদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এদিকে বুধবার (২১ মার্চ) সকালে নিহত ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের কাছে পাওনাদাররা তার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেছে।

গত ১১ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ঢাকার মগবাজারস্থ রেলগেইটে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। মৃত্যুর আগে সে একটি চিরকুটে লেখে গেছে পাওনাদারদের চাপে সে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে বিএনপি নেতা মিয়া সোহেলের নামও চিরকুটে উল্লেখ করে সে। তার মৃত্যুর পরেই নারায়ণগঞ্জ মার্কেস্টাইল ব্যাংক বাড়ির সামনে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে এ বাড়িটি ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ।

এলাকাবাসী জানান, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ৩৬০ ডিগ্রী এঙ্গেল নামক মাল্টিপারপাস নামক ঋনদান প্রতিষ্ঠান খুলে ৭ শত ৩৭ জনের কাছ থেকে ঋন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লোকদের কাছ প্রাথমিক জমা বাবদ প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। নামে মাত্র কয়েক জনকে ঋন দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে শত শত লোকের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ব্যবসার নাম করে প্রায় ৭/৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিনে ঋন পরিশোধ না করায় চলতি মাসেই বন্দরের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে একটি সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে একই এলাকার সাবেক জাতীয় খেলোয়ার ও বিএনপি নেতা মিয়া সোহেলের পাওনা ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ১০ মাসে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।

এলাকাবাসী আরও জানান, সে মৃত্যুর কয়েক দিন আগে একটি চেক জালিয়াতি মামলার ওয়ারেন্টে জেল খেটে বেরিয়ে আসে। এর কয়েকদিন পরই সে আত্মহত্যা করে। এছাড়াও তার সঙ্গে এক নারীর গোপন সম্পর্ক ছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ওই নারীর গর্ভে তার সন্তানও জন্ম নিয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এ ব্যাপারে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা পাওনাদার মিয়া সোহেল বলেন, আমি বিপুল পরিমান টাকা পাই। এ নিয়ে বিচার সালিশ হয়। সে বিচারে যা সিদ্ধান্ত হয় তা আমি মেনে নেই। আমরা বিচার সালিশ থেকে বেরিয়ে এলে অন্যান্য পাওনাদারদের সাথে তার বাকবিতন্ডাও হয়।

এ ব্যপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা রেলওয়ে পুলিশের এসআই আনিছ জানান, রেলের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে। আমরা বিভিন্ন লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তবে সে বিপুল পরিমান টাকা ঋন ছিল তা প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবু আমরা আত্মহত্যার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছি।

সকালে বিক্ষোভকারী পাওনাদার আলী আকবর জানান, তাকে অধিক মুনাফা ও ঋণ দেয়ার কথা বলে ১ লাখ ১৫ হাজার, সুমনের কাছ থেকে ১৫ হাজার, পারুল বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার, আলম সিকদারের কাছ থেকে ১৫ হাজার, ফয়সালের কাছ থেকে ১৮ হাজার, ইয়াসুছ মিয়ার কাছ থেকে ১৫ হাজার, সজিব মিয়ার কাছ থেকে ১৫ হাজারসহ প্রায় ৭ শতাধিক লোকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আত্মহত্যার কারণ উদঘাটন করতে র‌্যাবও তদন্তে নেমেছে বলে জানা গেছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ