১২ বৈশাখ ১৪২৫, বুধবার ২৫ এপ্রিল ২০১৮ , ১০:৩১ অপরাহ্ণ

Kothareya1150x300

শহরের পানি নিস্কাশনের অনেক ড্রেন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩৯ পিএম, ২ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৯:৩৯ পিএম, ২ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

শহরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পানি নিস্কাশনের অনেকগুলো ড্রেন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের পানি নিস্কাশনের ড্রেনগুলো দ্বারা পানি নিস্কাশিত না হওয়ায় সেগুলো মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শহরের চাষাঢ়া বালুরমাঠ, চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হল ও খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল সংলগ্ন ড্রেনগুলোতে এ অবস্থা দেখা গেছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে মশার উপদ্রবে অতীষ্ট নগরবাসী। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি আবাসিক-অনাবাসিক এলাকায় মশার উপব্রব বেড়েছে মারাত্মক হারে। দিন কিংবা রাত সবসময়ই মশার জ্বালায় অতিষ্ট নগরবাসী। অফিস, রেস্টুরেন্ট, রাজপথ সবজায়গাতেই লেগে রয়েছে মশার মিছিল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে তাদের জ্বালাতন অবর্ণনীয়। দামী ব্র্যান্ডের মশার স্প্রে, কয়েল কিছুই কাজে আসছে না। নারায়ণগঞ্জ মহানগর এলাকায় মশার উপদ্রব কমাতে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচিত হচ্ছেন মেয়র আইভীসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। বিশেষ করে মশার এই উপদ্রব যেখানে মহামারী আকার ধারন করেছে সেখানে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অপ্রতুল বলেই মনে করছেন নগরবাসী। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডেই বাসা-বাড়িতে পড়ন্ত বিকেল থেকেই দরজা জানালা বন্ধ করেও মশার হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছে না নগরবাসী। নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মশা নির্মূলে নগরীতে ঔষধ স্প্রে করা হয়। তবে তা সকল স্থানে করা হয়না। এক এলাকায় হলে বাদ পড়ে যায় আরেকটি এলাকা।

এদিকে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে পানি নিস্কাশনের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ড্রেন নির্মিত হলেও অনেকগুলো ড্রেন ময়লা আবর্জনার কারণে পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে ওই ড্রেনগুলো এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকায় ডীপ ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ৩ মাসের বেশী সময় ধরেই বালুর মাঠ এলাকায় ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে বালুরমাঠের একপাশে নবনির্মিত ড্রেন দ্বারা পানি নিস্কাশন বন্ধ থাকায় জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননক্ষেত্র। এছাড়া চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হলের সামনে যে ড্রেন রয়েছে তাতে পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একই অবস্থা শহরের খানপুরস্থ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পেছনের ড্রেনটিতেও। সেখানেও মশার প্রজননক্ষেত্র। এছাড়া ৩০০ শয্যার বাউন্ডারী দেয়ালের ভেতরে একটি ডোবাও মশার প্রজননক্ষেত্র।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ ও ১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ব্যয় করেছে ১০ লাখ ৮১ হাজার। চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি টাকা। মার্চ মাসের ১ তারিখ থেকে ২য় ধাপে হ্যান্ড স্প্রে ও ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। সর্বমোট ১২টি হ্যান্ড স্প্রে ও ৪টি ফগার মেশিন রয়েছে নাসিকের। এছাড়া আরও ৩টা ফগার মেশিন মেরামত করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মশক নিধনে ওষুধ ছিটানোর কর্মসূচী শুরু করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক অপ্রতুল বলেই মনে করছেন নগরবাসী। তবে মশন নিধনের ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করাটাও জরুরী বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। কারণ জমে থাকা পানিতেই জন্ম নেয় মশা। তাই উৎসস্থল অর্থাৎ মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা গেলে সেটা মশক নিধনের ওষুধ ছিটানোর চেয়ে বেশী ফলপ্রসু হবে বলেই মনে করছেন সচেতন নারায়ণগঞ্জবাসী।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ