ওয়াসার পানির সংকটে এমপির দিকে তাঁকিয়ে বন্দরবাসী

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪২ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ওয়াসার পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধের কারণে পানি সংকট থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু নিত্যদিনের প্রয়োজনের তাগিদে এসব পানি ব্যবহার করতে অনেকে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে বন্দরবাসী চর্ম রোগ সহ বিভিন্ন ধরণের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশনা সত্ত্বেও মার্চের মধ্যে ওয়াসার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াসার পানি সমস্যা সম্পূর্ণরুপে সমাধান করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বন্দরের বিভিন্ন এলাকাতে ঘুরে ওয়াসার পানি সমস্যার নানা চিত্র দেখা যায়। এসময় বন্দরের সোনাকান্দা, ছালেহনগর, আমিন আবাসিক এলাকা সহ নবীগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দারা ওয়াসার পানির দুর্গন্ধ সহ ময়লা থাকার কারণে পানি ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী বলে অভিযোগ করেন।

সোনাকান্দা কড়ই তলার এলাকার ভাড়াটিয়া জসিম জমাদ্দার জানান, সোনাকান্দা এলাকার ওয়াসার পানিতে এতো দুর্গন্ধ যে তা মুখে তোলা যায়না, পানি পান করাতো দূরের কথা। তাই খাবারের কাজের জন্য পাশের রূপালী আবাসিক এলাকার বিভিন্ন মানুষের বাসা থেকে কলসি দিয়ে পানি সংগ্রহ করে থাকি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলবে। তাই এমপি সেলিম ওসমান যদি আমাদের দুঃখের কথা বিবেচনা করে ওয়াসার পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে পানি নামক দুর্ভোগ থেকে নিস্তার পেয়ে যেত বন্দরবাসী।

এদিকে একই এলাকার পাশের বাড়িতে ওয়াসার পানি পান করে অসুস্থ হওয়া এক এইচএসসি শিক্ষার্থী নয়নকে রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসক খাবার পানি পরিবর্তন করতে পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। কিছুদিন আগে ওয়াসার পানি পান করে নয়ন টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল। এসময় তাকে চিকিৎসক পানি পরিবর্তন করতে বললে তার পরিবার বাধ্য হয়ে দোকান থেকে খাবার পানি কিনে পান করছে বলে জানিয়েছেন।

আলী আশরাফ সরদারের স্ত্রী জানান, ওয়াসার পানিতে এতো দুর্গন্ধ যে তা মুখে দিলে বমি চলে আসে। এছাড়া এই পানিতে ছোট ছোট লাল পোকা ভাসে। এই পানি পান করা ও ব্যবহারের কারণে পরিবারের সদস্যরা ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড সহ বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে দোকান থেকে খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২২ লিটারের দুটো বড় গ্যালন পানি কিনে খাচ্ছি। কিন্তু যাবতীয় ব্যবহারের জন্য এতো পানির জোগান বিকল্প ব্যবস্থা থেকে দেয়া সম্ভব না। তাই ওয়াসার ময়লা পানি ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন রকমের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।

ছালেহনগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ওয়াসার পানির নানা সংকট দৃশ্যমান হয়। তবে এসময় পানি দুর্গন্ধের একই অভিযোগ পাওয়া যায়।

এতে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পানির দুর্গন্ধের কারণে বিকল্প উৎস থেকে পানির জোগান দিতে হচ্ছে। কোন কোন বাড়িতে পানি আসে আবার কোন কোন বাড়িতে পানি পাওয়া যায়না। আর যেসব বাড়িতে পানিতে আসে সেগুলো খাবার অনুপযোগী। এ ব্যাপারে ওয়াসার বিল নিতে আসা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা বলে জমি ঠিক করে দিতে পাম্প বসানোর জন্য, আবার কেউ বলে অফিসে যোগাযোগ করতে। শুনেছি এমপি সেলিম ওসমান ওয়াসার পানি সমস্যা নিরসন করতে ওয়াসার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই এখন আমরা তার দিকে পানি সমস্যা সমাধানের জন্য তাকিয়ে আছি।

অন্যদিকে নবীগঞ্জ এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ চালু হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসছে বলে তা ব্যবহার করা যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন নবীগঞ্জবাসী। তাই এলাকাবসাী বিকল্প উৎস থেকে পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক সভায় এমপি সেমিল ওসমান ওয়াসার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর উপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে মার্চ মাসের মধ্যে ওয়াসার পানির সকল সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন। কিন্তু তার সেই নির্দেশনা সত্ত্বেও এখনো বন্দরবাসী কোন আশার আলো দেখেনি। উল্টো ওয়াসার পানি সংকট ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। আর এর তীব্রতা দিন দিন বন্দবাসীর স্বস্তিকে অস্বস্তিতে পরিণত করছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও