১২ বৈশাখ ১৪২৫, বুধবার ২৫ এপ্রিল ২০১৮ , ১০:২১ অপরাহ্ণ

Kothareya1150x300

পরকীয়া : দুই সন্তানের গায়ে আগুনে একজনের মৃত্যু, অপরজন সংকটাপন্ন


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৫৪ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০১:৫৪ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার


পরকীয়া : দুই সন্তানের গায়ে আগুনে একজনের মৃত্যু, অপরজন সংকটাপন্ন

মর্মান্তিক বীভৎস একটি ঘটনা। পরকীয়া প্রেমের জের ধরে গর্ভে ধারণ করা সন্তানের গায়ে আগুন ধরিয়ে করেছে পাষন্ড মা। একই সঙ্গে আগুনে দগ্ধ হয়ে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অপর সন্তান। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈইপাড়া গ্রামে ঘটেছে এ মর্মান্তিক ঘটনা। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল শুক্রবার সকালে পুলিশ ওই দুই সন্তানের মা শেফালি আক্তারকে (২৮) গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।

নিহতের নাম হৃদয় হোসেন (৯)। সে ৩৫নং বাড়ৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। দগ্ধ তার ছোট ভাই জিহাদ হোসেন শিহাব (৭) একই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। সে দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া প্রবাসী।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে বাড়ৈপাড়ার বিল্লাল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের সুন্দর আলীর মেয়ে শেফালীর বিয়ে হয়। পরে তাদের দুই ছেলের জন্ম হয়। আনোয়ার বিদেশে থাকার সময় পার্শ্ববর্তী মোমেনের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন শেফালী। এ নিয়ে তিন মাস আগে এলাকাতে কয়েকবার শালিসী বৈঠকও হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয় শেফালি বাবার বাড়িতে চলে যাবেন। কিন্তু শেফালী বিষয়টি না মেনে শ্বশুর বাড়িতেই থাকছিলেন। এসব নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও স্বামীর সঙ্গে শেফালির মনোমালিন্য দেখা দেয়।

পুলিশ জানান, শেফালীর সাথে পাশ্ববর্তী মোমেনের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছে। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সাথে মনমালিন্য হওয়ায় নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার প্রেমিক। শুক্রবার গভীর রাতে পাষন্ড মা শেফালী বেগম তার প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তার দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষপাপ দুই সন্তানের দেহ। আশপাশের লোকজন সন্তানদের আর্তচিৎকারে বেড়িয়ে আসে। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ হৃদয় (৯) এর মধ্যে মারা যায়। আশপাশের লোকজন আরেক সন্তান অগ্নিদগ্ধ শিহাবকে (৭) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, শুক্রবার ভোরে মৃত দগ্ধ অবস্থায় হৃদয়ের লাশ ও আরেক সন্তান অগ্নিদগ্ধ শিহাবকে উদ্ধার করা হয়। শিহাবকে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। পরে মা শেফালীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন গ্রামবাসীরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার উত্তম সাহা জানান, শিশু শিহাবের এক হাত ও দু পা ঝলসে গেছে। তাকে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেফালি একেক সময়ে একে কথা বলেন। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়িরে লোকজনের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার পরকীয়া প্রেমিক মোমেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শেফালী তার প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তার দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন দেয়। ঘটনার পর থেকে মোমেন পলাতক আছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে। পুলিশ হৃদয়ের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জের মর্গে প্রেরণ করেছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ