৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

UMo

পরকীয়া : যে ছবিতে ব্ল্যাকমেইলিং


আড়াইহাজার করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৫ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার


পরকীয়া : যে ছবিতে ব্ল্যাকমেইলিং

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় পরকীয়া প্রেমের জের ধরে দুই সন্তানের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পরকিয়া প্রেমিক মোমেনও জড়িত জানিয়েছেন ওই সন্তানদ্বয়ের মা শেফালি বেগম। শুক্রবার ১৩ এপ্রিল সকালে গ্রেপ্তারের পর সে স্বীকার করেছে পরকিয়া প্রেমিক বৃহস্পতিবার রাতে ঘরে এসেছিল ও তাকে ঘুমের কোন ওষুধ খাইয়ে দেয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মোমেন ও শেফালির একাধিক ছবি বেশ ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এতে দেখা গেছে দুইজনের ঘনিষ্ট সময়ের একাধিক ছবি। স্থানীয়রা জানান, এ ছবিটি কয়েক বছর আগের। ওই ছবি ও এ সম্পর্কিত ভিডিও ধারণ করেই মূলত মোমেন নিজেই শেফালির সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়াতো।

তাছাড়া আরেকটি ছবিতে মোমেনকে দেখা গেছে সেখানকার আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা ইকবাল পারভেজের সঙ্গে। মোমেন মূলত ইকবাল পারভেজের কর্মী জানা গেছে।

নিহতের নাম হৃদয় হোসেন (৯)। সে ৩৫নং বাড়ৈপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। দগ্ধ তার ছোট ভাই জিহাদ হোসেন শিহাব (৭) একই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। তাদের বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। সে দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া প্রবাসী।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে বাড়ৈপাড়ার বিল্লাল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের সুন্দর আলীর মেয়ে শেফালীর বিয়ে হয়। পরে তাদের দুই ছেলের জন্ম হয়। আনোয়ার বিদেশে থাকার সময় পার্শ্ববর্তী মোমেনের সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন শেফালী। এ নিয়ে তিন মাস আগে এলাকাতে কয়েকবার শালিসী বৈঠকও হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয় শেফালি বাবার বাড়িতে চলে যাবেন। কিন্তু শেফালী বিষয়টি না মেনে শ্বশুর বাড়িতেই থাকছিলেন। এসব নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও স্বামীর সঙ্গে শেফালির মনোমালিন্য দেখা দেয়।

পুলিশ জানান, শেফালীর সাথে পাশ্ববর্তী মোমেনের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছে। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সাথে মনমালিন্য হওয়ায় নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার প্রেমিক। শুক্রবার গভীর রাতে পাষন্ড মা শেফালী বেগম তার প্রেমিক মোমেনকে নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তার দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষপাপ দুই সন্তানের দেহ। আশপাশের লোকজন সন্তানদের আর্তচিৎকারে বেড়িয়ে আসে। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ হৃদয় (৯) এর মধ্যে মারা যায়। আশপাশের লোকজন আরেক সন্তান অগ্নিদগ্ধ শিহাবকে (৭) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ