এখনো পানিতে ভাসে ডিএনডির অনেক এলাকা

৪ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৫:১৯ অপরাহ্ণ

এখনো পানিতে ভাসে ডিএনডির অনেক এলাকা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৭ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০২:৪৭ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার


এখনো পানিতে ভাসে ডিএনডির অনেক এলাকা

ডিএনডি বাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও বৃষ্টিতে অনেক এলাকাতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। গত কয়েকদিনের কাল বৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টিতে ওই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয়রা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তথা বর্ষার আগেই ডিএনডি প্রকল্পের পানি নিস্কাশনের খাল উদ্ধার ও সেগুলো সচল হয়ে যাবে। আর তখন এ জলাবদ্ধতাও থাকবে না। মূলত অনেক পানি নিস্কাশনের খালগুলো ভরাট ও দখলে থাকায় সেগুলো উচ্ছেদ করতে গিয়েই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৬ বছরের ৯ আগষ্ট একনেকের সভায় ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফ্রেজ-২)’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ওই প্রকল্প অনুমোদনের পরে ডিএনডি অধিবাসীরা যেমন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তেমনি বিভিন্ন এলাকাতেও বইতে শুরু করে খুশির জোয়ার। তবে কিছুদিনের মধ্যেই ডিএনডিবাসীর সেই উচ্ছাস মিইয়ে যায়। কারণ প্রকল্পটি অনুমোদিত হলেও এর উন্নয়ন কাজ শুরু হতে হতে লেগে যায় এক বছরের বেশী সময়। যে কারণে স্বপ্ন দেখলেও গেল বছরের পুরোটা সময় জুড়েই জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হয় ডিএনডি অধিবাসীকে।

এদিকে প্রকল্পটি অনুমোদনের ১ বছর ৩ মাস পরে ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জে ও ১৯ অক্টোবর ফতুল্লায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সুধী সমাবেশের আয়োজন করেন এমপি শামীম ওসমান। সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃন্দসহ আওয়ামীলীগ দলীয় নেতাকর্মীরা। ওই সমাবেশ দু’টিতে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, কুতুবপুর ইউপির চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, নাসিকের নারী কাউন্সিলর আয়েশা সাখাওয়াত দিনাসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও জড়ো হয়েছিলেন। বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগেও যোগদান করেছিলেন বিলুপ্ত সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক আব্দুল মতিন প্রধানসহ কয়েকজন।

গত বছর ৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প কাজ উদ্বোধনের পর পাম্প ষ্টেশনের জন্য শিমরাইল ও আদমজীতে দ্রুত কাজ এগিয়ে চলায় এবং খাল পুনঃখনন করায় ডিএনডিবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আসছে বর্ষা মৌসুমে ডিএনডিবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার সেনাবাহিনীর পরামর্শ আস্থায় উঠে এসেছে। কিন্তু কিছু কিছু দখলদার দখল ছাড়তে বিলম্ব করায় তাদের কাগজগুলো যাচাইয়ের জন্য ডিসি অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে যার কারণে কিছুটা সময় বেশি লাগছে।

জালকুড়ি, মামুদপুর, ভূইগড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ দখলদাররা নিজস্ব উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়াও ভেকু দিয়ে খালের অংশ বিশেষ খনন করা হয়েছে। খালের প্রায় শত শত অবৈধ স্থাপনা ও ঘরবাড়ি অবৈধ দখলকারীরা সরিয়ে নিয়েছে।

এলাকাবাসী নজরুল জানান, এমনভাবে পরিষ্কার থাকলে ডিএডির পানি কিছুতেই উপচে উঠবে না। দখলদাররা এতোটাই মরিয়া যে আবার দখলে নিতে সময় লাগবে না। একদিক দিয়ে সেনাবহিনী যাবে অন্যদিক দিয়ে আবার দখল হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জানা গেছে, ইরি ধান চাষাবাদের জন্য ১৯৬৫ সালে ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে তৈরি করা হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ। ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ডিএনডি বাধের ভেতর ৫৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ২০ লাখ লোকের বসবাস। তখন ডিএনডির ভেতর সেচ প্রকল্প ছিল পাঁচ হাজার ৬৪ হেক্টর। সূত্র জানায়, ডিএনডি বাঁধের ভেতর কংস নদ এবং নলখালী খালের মতো ৯টি খাল ছিল। যা ডিএনডির ইরিগেশন প্রজেক্টে সেচখাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এসব খালের ছিল আরও ৯টি শাখা খাল। এছাড়াও ছিল ২১০টি আউটলেট, ১০টি নিষ্কাশন খাল। এসব খালের সর্বমোট দৈর্ঘ্য ১৮৬ কিলোমিটার। এ মধ্যে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইনটেক খাল, ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মেইন ক্যানেল টার্ন আউট খাল রয়েছে। এর মধ্যে চ্যানেল-১ খালের র্দৈঘ্য ৭ দশমিক ৯০ কিলোমিটার, চ্যানেল-২ এর দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার, পাগলা খাল ৩ কিলোমিটার, জালকুড়ি খাল ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার, শ্যামপুর খাল ২ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ফতুল্লা খাল ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ও সেকেন্ডারী চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। কংস নদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। এ সকল খালগুলোর অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আশির দশকের পর থেকে লোকজন ডিএনডি বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, ইটের ভাটা, ছোট-বড় শিল্প-কারখানা নির্মাণ করে। কিন্ত জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের রক্ষনাবেক্ষন না থাকায় খাল দখল ও ভরাট করে দোকানপাট, ঘরবাড়ি, কলকারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করায় নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা অল্প বৃস্টিতেই হাটু পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। গেল বছরেও ডিএনডির বেশীরভাগ এলাকাই ছিল ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ