পরকীয়ায় দুই সন্তানকে আগুন দেওয়া শেফালীর একাধিক সম্পর্ক ছিল

৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮ , ৩:১৫ অপরাহ্ণ

পরকীয়ায় দুই সন্তানকে আগুন দেওয়া শেফালীর একাধিক সম্পর্ক ছিল


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:২৫ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৮:৩৯ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


পরকীয়ায় দুই সন্তানকে আগুন দেওয়া শেফালীর একাধিক সম্পর্ক ছিল

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় পরকীয়ার কারণে প্রেমিকার দুই সন্তানের গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় দুই সন্তানের জননী শেফালী আক্তারের একাধিক ব্যক্তির সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সোমবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম। আসামীদের রিমান্ডে এনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

এর আগে রবিবার (২২ এপ্রিল) ভোরে দুই সন্তানকে আগুন দেয়া পরকীয়া প্রেমিক মোমেনকে ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও ডিবি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতোমধ্যেই আসামীদের কাছ থকে জানা গেছে শেফালী একাধিক পুরুষের সাথে পরকীয়ায় আসক্ত ছিল। মোমেনের সাথে তার সম্প্রতি সম্পর্ক হয়। এই সময়ের মধ্যে তারা দৈহিক মেলামেশা করেছে। আনোয়ারের বসত ঘর ছাড়াও তারা বিভিন্ন স্থানে মেলামেশা করেছে। এক পর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক আরো গভীর থেকে গভীরতর করার জন্য আনন্দঘন মূহূর্তে তাদের কার্যকলাপের দৃশ্য দেখে ফেলায় শিশু জিহাদ ও হৃদয়কে মোমেন আগুনে পুড়ে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে ঘরের বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে আগুন দগ্ধ হয়ে মারা যায় হৃদয় ও জিহাদ দগ্ধ হয়। প্রাথমিক তদন্তে ও শেফালী আক্তারের দেওয়া ৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দি পর্যালোচনা এমন তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কাশেম বলেন, ‘গত ১৩ এপ্রিল আড়াইহাজারে উচিৎপুরা ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়ায় লিবিয়া প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের বসত ঘরে অগ্নিকাণ্ডে স্কুল ছাত্র হৃদয় হোসেন (৯) নিহত হয় ও তার ভাই জিহাদ হোসেন শিহাব (৭) দগ্ধ হয়। পরে তাদের মা শেফালি আক্তারকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকে মোমেন। সে সম্পর্কে শেফালির দেবর। পরে শেফালির শ্বশুর বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা করেন যেখানে শেফালি ও মোমেনকে আসামী করে। এরই মধ্যে আদালতে শেফালি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী বলেন তার সঙ্গে মোমেনের পরকীয়া প্রেম ছিল। ওই প্রেমের জের ধরেই ১২ এপ্রিল রাতে শেফালির ঘরে প্রবেশ করে মোমেন। পরে গভীর রাতে শেফালিকে ঘুমের ওষধু খাইয়ে তার দুই ছেলের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় মোমেন।’

এস আই আবুল কাশেম আরো জানান, মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ময়মনসিংহের নান্দাইল এলাকার একটি বাড়ি থেকে মোমেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ