দুর্নীতি বিরোধী এমপিদের তালিকায় লিয়াকত হোসেন খোকার নাম শীর্ষে

৪ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৫:১৯ অপরাহ্ণ

দুর্নীতি বিরোধী এমপিদের তালিকায় লিয়াকত হোসেন খোকার নাম শীর্ষে


সোনারগাঁও করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩৮ পিএম, ১৬ মে ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০২:৩৮ পিএম, ১৬ মে ২০১৮ বুধবার


দুর্নীতি বিরোধী এমপিদের তালিকায় লিয়াকত হোসেন খোকার নাম শীর্ষে

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা ১৬ মে বুধবার দুপুরে উপজেলার মেনিখালী নদীর উপর ৩ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ভাটিবন্দর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পৌরসভার সাহাপুর এলাকায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, আমি নিজেকে জনগণের সেবক মনে করি। তাই নিজের লোভ লালসা ত্যাগ করে সোনারগাঁয়ের সোনার মানুষগুলোর দুঃখ দুর্দশা লাঘবের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সোনারগাঁয়ের মানুষ গর্ব করে বলতে পারবে যে, তাদের এমপির দ্বারা কোন দুর্নীতির কাজ হয় না। দুর্নীতি বিরোধী এমপিদের তালিকা তৈরী করলে লিয়াকত হোসেন খোকার নাম সবার শীর্ষে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

এমপি খোকা আরো বলেন, মাঝে মধ্যে অনেকে প্রশ্ন করে ‘তুমি এমপি হয়ে কি কামিয়েছো? নতুন একটা গাড়িও নেওনি।’ তখন উত্তরে বলি, দুর্নীতি করে আমি হাজার কোটি টাকা কামাইনি ঠিক, কিন্তু জনগণের উপকার করে তাদের ভালোবাসা কামিয়েছি। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছুই হতে পারে না।

এমপি খোকা বলেন, আমি সন্তান, ভাই ও বন্ধু হিসেবে সোনারগাঁয়ের সোনার মানুষগুলোর উপকার করতে পারলে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি। মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তাই আগামী নির্বাচনে জোট-মহাজোটের মনোনয়ন নিয়ে ভাবি না। যদি ভাবতাম, তাহলে সোনারগাঁবাসীকে নিয়ে পড়ে না থেকে অন্যদের মত ঢাকায় গিয়ে বড় বড় নেতাদের পিছনে পিছনে দৌড়াতাম।

তিনি আরো বলেন, আমি গরীব-দুঃখী ও রিক্সাওয়ালাদের বুকে টেনে নেই এবং একসাথে বসে চা খাই বলে কিছু মানুষ আমাকে বোকা বলে। তারা বলে আমি নাকি এমপির মর্যাদা নষ্ট করে ফেলেছি। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ‘আমি আপনাদের মত চালাক হয়ে মানুষের সাথে মুসাফা করে রুমাল দিয়ে হাত মুছতে পারি না। নিরীহ ও সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চালিয়ে তাদের বাড়িঘর ও সহায় সম্পত্তি দখল করতে পারি না। রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষ হত্যা করতে পারি না। মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে পারি না এবং রিলিফের টিন চুরি করতে পারি না। আমার নাম খোকা। আমি বোকাই থাকতে চাই।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়র সাদেকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আমি ৭৩ বছর বয়সে অনেক এমপি দেখেছি। কিন্তু লিয়াকত হোসেন খোকার মত জনগণকে এতো ভালোবাসে এমন কোন এমপি আমার নজরে পড়েনি। স¤্রাট শাহজাহান যেমন তার ভালোবাসার স্ত্রী মমতাজের জন্য আগ্রার তাজমহল বানিয়েছিলেন। ঠিক তেমনি এমপি খোকা সোনারগাঁয়ের মানুষের প্রতি ভালোবাসার টানে উপজেলার আনাচে কানাচে অসংখ্য ব্রীজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও উন্নয়ণ করে যাচ্ছেন। সোনারগাঁয়ের কিছু নেতারা মনোনয়নের জন্য ঢাকায় গিয়ে বড় বড় নেতাদের পিছে পিছে ঘুরে। আর এমপি খোকা সোনারগাঁয়ের মানুষের কল্যাণের জন্য মন্ত্রনালয়ে ঘুরে ঘুরে কাজ নিয়ে আসেন। আমার পৌরসভার মানুষকে বিশুদ্ধ পানি খাওয়ানোর জন্য তিনি ৩৫ কোটি টাকার প্রজেক্ট পাশ করিয়েছেন। ৩ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ভাটিবন্দর সেতু নির্মাণ করছেন। এছাড়া ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হরিহরদী সেতু নির্মাণ হচ্ছে। গত মঙ্গলবার তিনি উপজেলার ৪৮টি স্কুলে ৪৮টি ওয়াশ ব্লক উদ্বোধন করেছেন। এমপি খোকা একজন পরীক্ষিত জনদরদী নেতা। সোনারগাঁয়ের উন্নয়ণ ও শান্তিতে বসবাসের জন্য আগামী নির্বাচনেও তাকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে।

এসময় সভাপতির বক্তব্যে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, পিরোজপুরের মানুষ স্বাধীনতার পর প্রত্যেক এমপির কাছে ভাটিবন্দর সেতুর দাবি জানিয়েছে। কিন্তু তারা কেউই এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে লিয়াকত হোসেন খোকা ভাই মহাজোটের মনোনয়ন পেয়ে যখন এমপি নির্বাচিত হলেন তখন বরাবরের ন্যায় আমরা তার কাছেও ভাটিবন্দর সেতুর দাবি জানাই। আজ তিনি আমাদের দাবি পূরণ করলেন। এছাড়া তার হস্তক্ষেপে মেঘনা শিল্পাঞ্চল একটি স্যাটেলাইট শহরে রুপান্তরিত হচ্ছে। পিরোজপুর ইউনিয়ন এখন শিল্পাঞ্চলের দিক থেকে সারাদেশের ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্যতম। আজ এই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে এমপি খোকার জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। আগামী নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে মহাজোটের মাধ্যমে এ আসনে মনোনয়ন দিলে আমরা তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবো ইনশাআল্লাহ।

এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহমেদ মোল্লা বাদশা, পিরোজপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর কবির ভূঁইয়া, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সোনারগাঁ উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান জাহানারা আক্তার, পৌরসভার কাউন্সিলর জাহেদা আক্তার মনি ও শাহজালালসহ অন্যান্য কাউন্সিলরবৃন্দ, পিরোজপুর ইউপির মহিলা মেম্বার মোশেদা আক্তারসহ অন্যান্য মেম্বারবৃন্দ, পৌরসভা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী পিয়ার আলী, জাপা নেতা মোহাম্মদ শহীদ, পিরোজপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি নেতা হাজী আসাদুজ্জামান মোল্লা, গোলজার হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক, মাওলানা কামাল হোসেন, আলী আকবর, কবির হোসেন মেম্বার, ওমর ফারুক প্রমুখ।

উল্লেখ্য উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর, ঝাউচর, ছয়হিস্যা, আষাড়িয়ারচর, জিয়ানগর, ভুরভুরিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম কান্দারগাঁও, ভবনাথপুর ও নাগেরগাঁও গ্রামসহ বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চলাচলের সুবিধার্থে স্বাধীনতার পর থেকে মেনিখালি নদীর উপর দিয়ে সাহাপুর থেকে ভাটিবন্দর পর্যন্ত একটি সেতুর স্বপ্ন দেখে আসছিলো। উপজেলার আলোচিত হরিহরদী সেতুর ন্যায় এই সেতুটির জন্যেও এলাকাবাসী স্বাধীনতার পর উপজেলার সকল সংসদ সদস্যের কাছে ধর্ণা দিয়েছেন। কিন্তু তারা বারবার সেতুটি নির্মাণ করে দেয়ার ওয়াদা-অঙ্গিকার করে নির্বাচনের সময় মানুষের কাছ থেকে ভোট আদায় করে নিলেও পরে সেতু নির্মাণের আর কোন উদ্যোগ নেয়নি। এদিকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁয়ের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গোটা উপজেলায় মানুষের চাহিদাগুলোর একটি তালিকা তৈরী করেন। এসময় এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি ভাটিবন্দর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে এমপি খোকার প্রচেষ্টায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ভাটিবন্দর সেতু পাশ হয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ