২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

আড়াইহাজারে ইউপি তথ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ


আড়াইহাজার করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪০ পিএম, ২৭ মে ২০১৮ রবিবার


আড়াইহাজারে ইউপি তথ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

অতিরিক্ত ফি আদায়, অযথা হয়রানি, ঘুষ বাণিজ্য সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য কর্মকর্তা নাজমুল হকের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসি জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম-মৃত্যু সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স সহ অন্যান্য প্রতিটি কাজের বিনিময়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করে নাজমুল হক। কোন কোন কাজের জন্য তিন চার মাস পরিষদে দৌড়ঝাঁপ করেও কাজ হয় না বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন। নানা অজুহাত দেখিয়ে একেকদিন একেকরকম কথা বলে নাজমুল সাধারণ লোকজনকে হয়রানি করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবির কান্দি গ্রামের এক ভুক্তভোগি বলেন, ‘ভাই নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলাকার অধিকাংশ মানুষের। সে সবার কাছ থেকেই টাকা খায়। ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করে সে আজকে লাখ লাখ টাকার মালিক। এগুলো সব ঘুষের টাকা। তার ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে সে কাজ আর উদ্ধার হয় না। অনেকে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কিছুই বলে না। চেয়ারম্যানের একটা সনদ আনতে গেলে সে দুই তিন হাজার টাকা দাবি করে বসে। এ ভোগান্তির কী কোন শেষ নেই?’

উলুকান্দি গ্রামের এক ভুক্তভোগি বলেন, ‘ভাই আমি গরিব মানুষ। এগুলো কইতে ভয় করে।’ নাম প্রকাশ করা হবে না নিশ্চয়তা দিলে তিনি বলেন, ‘দুইডা ওয়ারিশ সনদ আনতে গেছি পরিষদে। নাজমুল আমার কাছে তিন হাজার টাকা দাবি করে। অনেক কষাকষি করে দুই হাজার পাঁচশ টাকা দিয়ে সনদ দুইডা আনছি।’ তিনি বলেন, ‘শুধু আমার কাছে না হেয় সবার কাছে থেকেই জিম্মি কইরা টাকা নেয়। কিছু কওন যায় না। দিনকাল ভালা না তাই মানুষ ডরেও কিছু কয় না।’

কয়েকজনের ফেসবুক থেকেও জানা গেছে তাদের ক্ষোভের কথা। অনেকে নাজমুলের এসব অপকর্মের কথা তুলে ধরেছেন তাদের নিজস্ব ওয়ালে। তৌহিদ মাহমুদ নামের এক ভুক্তভোগি লিখেছেন, ‘আমার কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধনের কার্ডের জন্য ২৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে।’ কাউসার নামের একজন লিখেছেন, ‘নাজমুলের কাছে আমার জন্ম নিবন্ধনের বয়স পরিবর্তনের জন্য দিয়েছিলাম কিন্তু সেটাতো হয়ইনি আমার আগের কার্ডটাও আর ফেরত পাইলাম না।’ কেউ কেউ তাকে অকথ্য ভাষায় বকাঝকা করে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

নাজমুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি যেহেতু আগের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের কাছের লোক তাই আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেট জনগণকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদান করেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি পদত্যাগ করতে চেয়েছি কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিষেধ করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন বলেন, মাত্র ৭-৮ মাস হলো নাজমুল ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করেছেন। আমি তার উপর নজরদারি করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ