গার্মেন্ট মালিকের ‘আত্মহত্যা’ খতিয়ে দেখার দাবীতে স্ট্যাটাস

৩ ভাদ্র ১৪২৫, শনিবার ১৮ আগস্ট ২০১৮ , ৪:৩৪ অপরাহ্ণ

গার্মেন্ট মালিকের ‘আত্মহত্যা’ খতিয়ে দেখার দাবীতে স্ট্যাটাস


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৯ পিএম, ১২ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:২৯ পিএম, ১২ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার


গার্মেন্ট মালিকের ‘আত্মহত্যা’ খতিয়ে দেখার দাবীতে স্ট্যাটাস

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় রপ্তানিমুখী পোষাক কারখানা এনএম ফ্যাশন, নিট ও প্রিন্টিংয়ের মালিক আব্দুল মতিনের (৪৭) গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধারের পর নিহতের পরিবার ও পুলিশ ‘আত্মহত্যা’ দাবী করলেও এর নেপথ্য খবর খতিয়ে দেখারও দাবী উঠেছে। অনেকেই বলছেন, এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন।

৯ জুন সকালে ফতুল্লার মাসদাইর পাকাপুল এলাকায় অবস্থিত এবি প্লাজার সপ্তম তলায় নিজ ফ্লাটের একটি কক্ষ থেকে ব্যবসায়ী মতিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় পরিবারের লোকজন জানান ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে মতিন আত্মহত্যা করেছে। তখন পুলিশ মতিনের ঘর থেকে একটি খাতা উদ্ধার করে যেটিতে লিখা রয়েছে ব্যাংক ঋণ সহ বিভিন্ন লোকের কাছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ঋণ থাকায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ওইদিন দুপুরে ১টায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ।

ঘটনার পর ফেসবুকে মতিনের একটি ছবি সহ এক ব্যবসায়ী স্ট্যাটাস দিয়েছে। ওই স্ট্যাটাসে একাধিক ব্যবসায়ী ও ঘনিষ্ঠজনরা সঠিক তদন্তের দাবী জানিয়ে নানা কমেন্টসও করেছে।

তাজবীর হাসান লিমন নামে এক ব্যবসায়ী আইডি লিখেছেন, ‘‘লড়াই করে বেঁেচ থাকার নাম জীবন, কাপুরুষের মতো আত্মহত্যা না। মতিন ভাইয়ের মতো একজন ধার্মিক লোক আত্মহত্যা করতে পারে এটা কোন ভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিনা।’’

তার মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবী জানান লিমন।’’

এই পোস্টে লিটন মজুমদার নামে এক ব্যাক্তি কমেন্টে লিখেছেন, সঠিক তদন্তের অভাবে মতিন ভাইয়ের মৃত্যু চাপা পড়ে গেলো। তারেক খান কমেন্টে লিখেছেন, সঠিক তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে। এমন অনেকেই ষ্ট্যাটার্চকে সমর্থন জানিয়ে লাইক দিয়েছে এবং নানা কমেন্ট করেছে।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক(তদন্ত) শাহ জালাল বলেন, আত্মহত্যা না হত্যা এই মুহূর্তে বলতে পারছিনা। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর কারন জানাযাবে। আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

নিহত আব্দুল মতিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার প্রাকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। সে স্বপরিবার নিয়ে মাসদাইর পাকাপুলস্থ এবি প্লাজার সপ্তম তলায় ফ্লাট ক্রয় করে বসবাস করে আসছিল।

নিহত আব্দুল মতিনের স্ত্রী নাদিরা আক্তার রেখা, এক ছেলে তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র মাহাদী হাসান সাইম (৮) ও মেয়ে নবম শ্রেনী ছাত্রী ফাতেমা আক্তার জোহরা (১৫)।

লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের স্ত্রী নাদিরা আক্তার রেখা বলেছিলেন, উনি কত কোটি টাকা ঋণ আছে আমাদের কিছুই জানায়নি। আমাকে যদি জানাতো তাহলে আমরা ব্যবস্থা করতাম।

নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, গত বছর মতিনের ঋণ দেড় কোটি টাকা আমি পরিশোধ করেছি। তার যদি ঋণ থাকে সেটা আমাকে বললে আমি পরিশোধ করে দিতাম। কেন সে আত্মহত্যা করলো বুজতে পারছি না।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ