৭ আশ্বিন ১৪২৫, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫:৫৭ অপরাহ্ণ

ফতুল্লায় কয়েক হাজার পরিবারের ঈদ কাটবে হাঁটু পানিতে


ফতুল্লা করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:১৩ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার


ফতুল্লায় কয়েক হাজার পরিবারের ঈদ কাটবে হাঁটু পানিতে

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার একটি ব্যস্ততম এলাকার কয়েক হাজার পরিবার এবার হাঁটু পানিতে ঈদ করবেন। ঈদ উল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ফিরোজা বেগম, মুন্নি আক্তার, রিতা, হোসনে আরা বেগমের মতো অনেক নারী পরিবার-পরিজনসহ এখন বসবাস করছেন ঘরের খাটে। কারো মুখে হাসি নেই। পানি কমানো হবে শুনলেই টাকা হাতে ছুটে আসে নারীরা। টাকা লাগে দিবে তুবুও যেন ঈদের একটি দিনের জন্য পানি কমানো হয়। ফতুল্লার লালপুর পৌষা পুকুরপাড় এলাকায় দুই মাস ধরে এ অবস্থা থাকলেও নেই জোরালো কোন প্রতিবাদ। পচা, দুর্গন্ধ আর কালো পানিতে হেঁটে কোমলমতি শিশুরা যাচ্ছে স্কুলে আর পুরুষেরা জুতা হাতে নিয়ে যাচ্ছে স্বস্ব কর্মস্থলে।

গৃহিনী ফিরোজা বেগম জানান, পহেলা বৈশাখ থেকে বৃষ্টির পানি জমে লালপুর পৌষাপুকুরপাড় এলাকায় এখন হাঁটু পানি। বৃষ্টি হলেই পানি বাড়ছে। অনেকেই মাটি ভরাট করে বাড়ি ঘর উচু করেছে। আর যাদের সামর্থ নেই তারা খাট উচু করে তার উপর পরিবার-পরিজনসহ বসবাস করছেন। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতে হয় এ পানি দিয়েই। পুরুষেরা প্রতিবাদ না করে উল্টো বলেন বৃষ্টি কমলেই পানি কমে যাবে। এনিয়ে কে কার সাথে ঝগড়া করবে। যে যার মতো চলছে। সবাইতো পানি দিয়েই হেটে চলে।

মুন্নি আলম জানান, আর মাত্র কয়েক দিন পরই ঈদ। ঈদের একদিনে জন্য যদি কেউ পানি কমিয়ে দেয় তাহলে টাকা লাগে দিবো। এই পানি দিয়ে আমার শিশু সন্তানরা হাটতে পারে না। সন্তানদের মুখের দিকে তাকালে মনটা খারাপ হয়ে যায়।

হোসনে আরা বেগম জানান, বাড়ির মটারের পানি খেলেই পেটে নানা সমস্যা দেখা দেয়। মোটর দিয়ে এখন বিশুদ্ধ পানি উঠেনা। পচা পানি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পায়ে গা হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে কি যে সমস্যায় আছি তা বলে বুঝানো যাবেনা। পুরুষরা কেউ প্রতিবাদ করেনা আমরা নারীরা কি ভাবে প্রতিবাদ করবো।

লালপুর পৌষাপুকুরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন মুছা জানান, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পাঁচ বার হলেও মসজিদে যাই। এ পচা পানি দিয়ে হেঁটে আসা যাওয়ায় পায়ে গা হয়েছে। এখন হাটতে কষ্ট হয়। কেউ উদ্যোগ নেয়না তাই আমিও প্রতিবাদ করিনা। তবে মৌখিক ভাবে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনকে জানিয়েছি। তিনি কয়েকটি মোটর বসিয়ে পানি নিস্কাশন করছে বলে শুনেছি।

তিনি আরো জানান, লালপুর পৌষাপুকুরপাড় এলাকায় তিনশ বাড়ি রয়েছে। এতে বসবাস করেন কয়েক হাজার পরিবার। বসবাসকারীদের মধ্যে অধিকাংশই গার্মেন্টসহ নানা কলকারখানার শ্রমিক। এই এলাকাটি খুবই ব্যস্ততম ও ঘনবসতি একটি এলাকা। এখানে দিন রাত সব সময় মানুষ চলাচল করে থাকে।

এব্যাপারে চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন বলেন, কয়েকটি মোটর দিয়ে পানি নিস্কাশন চলছে। যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে আশা করা যায় পানি কমে যাবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ