আড়াইহাজারে জমি অধিগ্রহণের নোটিশ নিয়ে ক্ষোভ

আড়াইহাজার করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৭ পিএম, ২০ জুন ২০১৮ বুধবার

আড়াইহাজারে জমি অধিগ্রহণের নোটিশ নিয়ে ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে জমি অধিগ্রহণের নোটিশ নিয়ে সেখানকার জমি মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। তাদের অভিযোগ নতুন গেজেট অনুযায়ী তিনগুণ জমির মূল্য পাওয়ার বিধান থাকলেও এখানে সূক্ষ্ম ভ্রান্তের কারণে জমি মালিকেরা বঞ্চিত হবেন।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদে ১৯৮২ সালের ভূমি হুকুম দখল ও অধিগ্রহন আইন রহিত করে নতুন ভূমি অধিগ্রহণ  আইন স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ নামে অভিহিত “অধিগ্রহণ” অর্থ ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন বা উভয়ের বিনিময়ে প্রত্যাশী ব্যক্তি বা সংস্থার জন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তির স্বত্ব ও দখল গ্রহণ; আইন পাস হয়েছে ২০১৭সালের  ১৫ সেপ্টেম্বর। এক সপ্তাহ পর ২১ সেপ্টেম্বর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে রীতি অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর থেকেই নতুন আইন কার্যকর হবার কথা। কিন্তু  বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোন অথরিটি (বেজা) বা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সরকারী বেসরকারী মিলে দেশে এক’শটি বিশেষ অর্থ নৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

রাজধানীর অদূরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখি ও পাঁচগাঁও দুইটি মৌজায় চার’শ ৯১ একর জমি অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেজার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জাপানীদের জন্য এই জমি অধিগ্রহন করে শুধুমাত্র জাপানী রপ্তানীকারকদের জন্য এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে বেজা। এতে জাপানী বিনিয়োগ হবে। শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে। হাজার হাজার মানুষের কর্ম সংস্থান হবে। সবই আশার কথা। উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবার পরিকল্পনার কথা। যে কোন বিবেকবান মানুষ যারা দেশের সমৃদ্ধি চান তারা এটার পক্ষে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন নতুন আইন পাস হলো গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর, গেজেট হলো ২১ সেপ্টেম্বর । কিন্তু জমির মালিকদের ১৮ সেপ্টম্বর প্রাথমিক নোটিশ দেয়া হলো ১৯৮২ সনের ভূমি অধিগ্রহন ও হুকুম দখল আইনে। যেখানে বলা আছে সরকারী কোন কাজে জমি অধিগ্রহণ করা হলে দেড় গুন ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু নতুন আইনে তা হবে তিনগুন। এই আইন পাস হবার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন জমি অধিগ্রহণ করা হলে জমির মালিকরা তিনগুন ক্ষতিপূরণ পাবেন। কিন্তু প্রধান মন্ত্রীর এই ঘোষনার পরও কেন সংসদে ২০১৭ সনের ১৫ সেপ্টেম্বর নতুন আইন পাসের  মাত্র তিন দিন পর ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮২ সনের আইনে নোটিশ দেয়া হলো?  এতিন দিন পর নতুন আইনের গেজেট পাস হয়েছে। আইন পাস ও গেজেট পাস- মাত্র সাত দিনের মধ্যে আইনপাসের তিনদিনের মাথায় তাড়াহুড়ো করে কেন জমির মালিকদের জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাবের কথা জানিয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

এর পর ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গত জানুয়ারীতে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ঐ রীটে ৮২ সালের আইনে দেয়া নোটিশ কেন বাতিল করা হবেনা জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বেজা, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক সহ সরকারের এগারটি বিভাগকে তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়। জানা গেছে কোন পক্ষই হাইকোর্টের নোটিশের জবাব দেয়নি। রীট পিটিশনটি দায়ের করেন আইনজীবী অ্যাডভোকোট মনজিল মোর্শেদ।

এর মধ্যেই গত ২১ মে আবারো ১৯৮২ সনের আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী জমির মালিকদের দ্বিতীয় দফা নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে আপনার জমি বেজা অধিগ্রহনের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মালিকানার সংক্রান্ত কোন আপত্তি থাকলে তা নারায়ণঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহন শাখায় আপত্তি জানাতে বলা হয়েছে। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে  বেজা,  নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এডিসি রাজস্ব বিভাগে যোগাযোগ করা হলে বলা হচ্ছে আপনারা জমির তিনগুন ক্ষতি পূরন পাবেন। প্রয়োজনে জাপানীরা আরো অনেক সুবিধা দিবে ইত্যাদি মৌখিক আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু এতেও গ্রামবাসী আশ্বস্ত হতে পারছেন না।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও