২৯ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮ , ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ

UMo

২৪ জনের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ ডিএনডির ২০ লাখ ভুক্তভোগী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১০ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮ রবিবার


ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

২৪ জনের ২৬ মামলায় আটকে পড়েছে ডিএনডির কিছু অংশের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ। ডিএনডি জলাবদ্ধতা নিস্কাশন প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্ণেল মাশফিক আলম ভূঁঞার দেয়া এমন তথ্য নারায়ণগঞ্জের অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য স্থানীয় এবং জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন ডিএনডির জলাবদ্ধায় ভুক্তভোগী মানুষেরা।

তাদের দাবি শুধু এই অল্প কিছু মানুষের কথা বিবেচনা করে ডিএনডির ২০ লাখ মানুষকে পানিবন্দী অবস্থায় জিম্মী করে রাখা যাবে না। এদিকে কেউ কেউ মামলাকারীদেরকে অন্তত মানবিকভাবে বিবেচনা করে এসকল মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য অনুরোধও করেছেন।

ডিএনডির ভুক্তভোগীরা বলছেন, অল্প বৃষ্টি হলেই ডিএনডিতে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে থাকতো। গত বছর থেকে সরকারের প্রায় ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এ কাজেও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে ২৪জন মামলাকারী।

ডিএনডির জলাবদ্ধতায় ভুক্তোভোগী ফতুল্লা সুগন্ধা রোডের বাসিন্দা শাহাদাৎ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘এ বছর কোরবানী কোথায় দিবো সেটাই খুঁজে পাচ্ছি না। গত বছর আমাদের এলাকায় জমে থাকা পানির পরিমান কম ছিল। তাই অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলোতেই শুধু পানি জমে থাকতো। এখন তো মনে হয় এখানে কোনকালে রাস্তাই ছিলো না। শুধু পানি আর পানি। এ সকল মামলার জন্য শুধু শুধু কয়েক মাসের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে আমরা আশা করবো খুব দ্রুত কাজটা শেষ হবে।

এদিকে মামলা দায়েরকারীদের দখলদার বলে দাবি করে কেউ কেউ বলছেন, ‘যারা মামলা করেছেন এদের অধিকাংশই ডিএনডির বাসিন্দা নয়। হয়তো জলাবদ্ধতার কারণে এখানে কেউ সব হারিয়ে জমিটুকু বিক্রি করে গেছেন সে সময় কম দামে জমি কিনেছেন। কিংবা সুযোগ পেয়ে জমি দখল করে বসে আছেন। এরা এখানকার বাসিন্দা হলে এই ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিস্কাশন প্রকল্পের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারতো না।’

ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষার্থী আজহার বলেন, আইন তো মানুষের জন্যেই। সেই আইন যদি মানুষের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হয় তবে তো পক্ষান্তরে মানুষকেই অসম্মানিত করা হয়। কিছুদিন আগে আইন অমান্য করে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে ছিল ফলাফল সকলেই দেখেছে ছাত্রদের দিক নির্দেশনা দেয়া একটি সুশৃঙ্খল রাজপথ। ঢাকার মতো ব্যস্ততম সড়কে তাদের নেতৃত্বেই আমরা প্রথম ইমার্জেন্সি লেনের ব্যবহার দেখেছি। তাই বলতে হয় যেখানে আইন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিরুদ্ধে যায় সেখানে আইন অমান্য করাতে কিছু আসে যায় বলে আমি মনে করি না। আমার বিশ্বাস অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন।’

প্রসঙ্গত ১২ আগস্ট রোববার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ মাসফিকুল আলম ভূঁঞা বলেন, ‘ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিস্কাশন প্রকল্পের কাজে বাধা দেয়ার লক্ষ্যে ২৪জন অবৈধ স্থাপনার মালিক আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়ে এসেছে। এ ২৪ জনের ২৬ মামলার জন্য ২২ লাখ লোকের সমস্যা হচ্ছে। আমরা এসব কিছুই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করছি। মূলত এখানে ড্যাম্পিং নেই, খালগুলোর নিচ দিয়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ, ওয়াসার সহ বিভিন্ন লাইন রয়েছে। যার জন্য পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়।’

মতবিনিময় সভা শেষে লে. কর্ণেল মোহাম্মদ মাসফিকুল আলম ভূঞা সাংবাদকর্মীদের কাছে সেই ২৬ মামলার তালিকা সরবরাহ করেন।

তালিকা সূত্রে জানা যায়, ২৬ জন নয় বরং ২ ব্যাক্তির একই জমি নিয়ে একাধিক মামলাসহ ২৪ জনের ২৬ মামলায় জিম্মি হয়ে আছে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিস্কাশন প্রকল্পের কাজ। যার প্রতিটিতেই বিভিন্ন মেয়াদে ডিএনডি প্রকল্পের কাজে স্থগিতাদেশ জারি করেছেন আদালত। হাইকোর্ট, ঢাকা জর্জ কোর্ট ও নারায়ণগঞ্জ কোর্টে দায়ের করা মামলাগুলো হলো-

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের মৌজা :
আটি সিএস দাগ নং-৬৯ দখল করে রাখা ব্যাক্তি চাঁন মিয়া হাইকোর্টে আপিল করে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে পকল্পের কাজে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ কোর্টে তার অপর একটি মামলায় আদালত স্থিতি অবস্থা জারি করেছে।

হাইকোর্ট, ঢাকা জর্জ কোর্ট ও নারায়ণগঞ্জ কোর্টে দায়ের করা অন্যান্য আরও ২৪ টি মামলা হলো- আটি সিএস দাগ নং-৬৬, বাদি- বায়তুল আমান জামে মসজিদ, আটি সিএস দাগ নং-৫৮ ও ৫৯ বাদি- আব্দুল জব্বার, আটি সিএস দাগ নং-৫৪ মোঃ নুরুজ্জামান, আটি সিএস দাগ নং-৩০ মোঃ সাদেক মিয়া, আটি সিএস দাগ নং-৩২৮ মোঃ মোহন মিয়া, আটি সিএস দাগ নং-৩১৭ ও ৩১৯ দখল করে আছে খোরশেদ আলম, প্যারাডগার আর এস দাগ নং-২০০৬ ও ২১০৭ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, খরদ্দো ঘোষ পাড়া সিএস দাগ নং-১২৯ কাজি হারুনর রশীদ, সিদ্ধিরগঞ্জ সিএস দাগ নং-১৯৮ হাজি আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ সিএস দাগ নং ১৯৭ আতিক মুরশিদ খান।

এদিকে ফতুল্লাধীন দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৮৫৯ হাফিজ মোহাম্মদ রহমান, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৮৪২ হাজী মোঃ হাজি মোঃ হাফিজ উদ্দীন হাওলাদার ও ফারুক আহমেদ, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৮৫৫ হাজী মোঃ হাফিজ উদ্দীন হামদা, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৭৮৫ দেলোয়ার হোসেন, দেলপাড়া সিএস দাগ নং-৭৮৪ হারুনর রশীদ ও ঢাকা ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইল সিএস দাগ নং-৫২০৯, ৪৭৮১, ৪৭৬১ মোঃ মাইদুল ইসলাম, গোগ দক্ষিণ সিএস দাগ নং-৩১১ জাহানারা বেগম, পাড়া ডগাইর সিএস দাগ নং-২২২ ফিরোজ খানের একটি মামলা ও অপর একটি লিগ্যাল নোটিশ, সিএস দাগ নং-২৯৮ ফারুক আহদেম, আটি সিএস দাগ নং-৬৯ ফিরোজ আহমেদ, আরএস (সিএস দাগ নং উল্লেখ করা হয় নাই) মাইনুল হোসেন।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ