৮ আশ্বিন ১৪২৫, সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ

পানিবন্দী সুগন্ধা এলাকাবাসীর ক্ষোভ, ঈদের আমেজ নেই


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫৮ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮ রবিবার


পানিবন্দী সুগন্ধা এলাকাবাসীর ক্ষোভ, ঈদের আমেজ নেই

প্রায় তিন বছর যাবৎ পানিবন্দী হয়ে আছে ফতুল্লা থানাধীন সুগন্ধা এলাকার অসংখ্য মানুষ। জেলা পরিষদ সংলগ্ন সুগন্ধা এলাকাবাসীর ঈদ আনন্দ মলিন হয়ে এসেছে। ঈদে কোরবানির আমেজ নিয়ে যেখানে সবাই ব্যস্ত সেখানে সুগন্ধা এলাকাবাসীরা আছেন চরম দুশ্চিন্তায়। জলাবদ্ধতার কারণে কোথায় গরু রাখবেন, কিভাবে কোরবানি দিবেন সেই চিন্তাতেই দিন কাটাচ্ছেন তারা।

এলাকাবাসী জানান, সুগন্ধার রাস্তাটি সারা বছর পানির নিচে তলিয়ে থাকে। শেষ কবে রাস্তাটি চোখ দেখা গিয়েছিল তাও হয়তো ভুলে গেছেন এলাকাবাসী। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে একাধিকবার ড্রেন পরিষ্কার করা হয়। এমপি শামীম ওসমানের কাছেও গিয়েছেন অনেকবার। করা হয়েছে মানববন্ধন, দেওয়া হয়েছে ডিসিকে স্মারকলিপি। কিন্তু তেমন কোনো সুফল পায়নি এলাকাবাসী। সবশেষ ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠাগার উদ্বোধন করতে এসে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ছাত্র ছাত্রীদের অভিযোগে রাস্তাটি সংস্কারের তাগিদ দিয়ে যান। কিন্তু এখনো ধরা হয়নি রাস্তাটির সংস্কারের কাজ। আগের অবস্থাতেই পরে আছে রাস্তাটি। বারবার এমপি  কর্তৃপক্ষের শরনাপন্ন হয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

দ্বারেদ্বারে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে আবারো এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঈদের আগে করা হচ্ছে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ। এর আগে ডিএনডি প্রকল্পের মাধ্যমে সেনাবহিনীর লোক এসে ড্রেন পরিষ্কার করে গেলেও তেমন সুফল পাওয়া যায়নি। পানি কিছুটা নামলেও পরোপুরি নামছে না। সামান্য বৃষ্টি হলে আবারো রাস্তা ভরে যাচ্ছে হাঁটু পানিতে। এলাকাবাসীর মতে যদি রাস্তাটি উচু না করা হয় তবে ডিএনডি প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে না।

রাস্তাটির পাশেই জেলা পরিষদ ভবন, এলজিইডি ভবন, নতুন কোটের মত সরকারি স্থাপনা। প্রতিনিয়ত সরকারি লোকজনের আনাগোনা এই রাস্তা দিয়েই। এমন অবস্থা দেখেও কেন রাস্তাটির সংস্কার কাজে কেউ এগিয়ে আসছে না তা বুঝতে পারছেন না এলাকাবাসী।

এলাকার বাসিন্দা মো আব্দুল্লাহ বলেন, এর আগে একবার এলাকাবাসীর টাকা দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করানো হয়েছিল কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। গাবতলী ও এর আশেপাশের এরাকার পানি আবর্জনা এই এলাকা দিয়েই যায়। তাই দুইদিন পরে আবার আগের অবস্থা হয়ে যায়। সামনে ঈদ তাই ঈদের কয়েক দিন যাতে ভালো থাকে তাই নিজেদের টাকা দিয়ে আবার ড্রেন পরিষ্কার করছি। আশা করছি যাতে এমপি আমাদের দিকে একটু তাকান। রাস্তার কাজটা যাতে দ্রুত ধরার আদেশ দেন।

এলাকার ইউপি সদস্য আলী আকবরের মাধ্যমে জানা যায় ৩২ লাখ টাকার বাজেট ধরা হয়েছে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য। কিন্তু টেন্ডার পাশ হয়নি বলে কাজ ধরতে পারছেন না।

শামীম ওসমান ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠাগার উদ্বোধন করতে এসে অভিযোগ করেন জেলা পরিষদের কোনো এক ব্যক্তি চায় না কাজটা যাতে হয়। তিনি সেদিন বলেছিলেন টাকা আছে, কাজের জন্য ঠিকাদার প্রস্তুত আছে। কিন্তু জেলা পরিষদের কোনো এক ব্যক্তির জন্য কাজটা ধরা যাচ্ছে না। এসময় শামীম ওসমান ওই ঠিকাদারকে প্রশ্ন করলে ঠিকাদার বলে জেলাপরিষদে কাগজ-পত্রের জটিলতার কারণে কাজ ধরা হয়নি।

এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি এই অবস্থা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা কেউ যেন করে দেয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ