হাতুড়ি পেটা করে নারীর সঙ্গে ছবি, মামলায় বিপাকে ব্যবসায়ী

বন্দর করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৪৫ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার



হাতুড়ি পেটা করে নারীর সঙ্গে ছবি, মামলায় বিপাকে ব্যবসায়ী

বন্দরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করে চরম বিপাকে পড়েছে অহিদুল ইসলাম। ১৭ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে মামলার বাদী ব্যবসায়ী অহিদুলকে ফাঁসাতে নারী বন্দর থানায় একটি অভিযোগ করেন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুরে মদনপুর- প্রভাকরদী সড়কে ব্যবসায়ী অহিদুল ইসলামকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের পর  মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন অহিদুল। এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়ার পর আসামী পক্ষ দাবি করে আসছেন নারী কেলেঙ্কারি ঘটনায় ব্যবসায়ী অহিদুলকে আটক করা হয়েছে। পরে ওই নারীকে গত শনিবার কামতাল তদন্ত কেন্দ্রে হাজির করেন আসামী পক্ষ। ওই নারীর জবানবন্ধিতে বলেন তার সঙ্গে ব্যবসায়ী অহিদুলের ৮ মাস যাবত প্রেমের সম্পর্ক চলছে। কিন্তু অহিদুল সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করেন। ঘটনার সত্যতা প্রমানের জন্য উভয় পক্ষের মোবাইল কললিষ্ট উঠানো সিদ্ধান্ত হয়। মোবাইল কললিষ্ট হাতে পাওয়ার আগেই ওই নারী  থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ব্যবসায়ী অহিদুলের বিরুদ্ধে। তবে মোবাইল কললিষ্টে ওই নারীর সঙ্গে ব্যবসায়ী অহিদুলের কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অহিদুল জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২ টার দিকে মদনপুরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হই। এসময় মালিবাগ ক্যাসল ফুড রেস্টুরেন্টের গেইটের সামনে রাস্তায় মনির ও আক্তারের সঙ্গে দেখা হয় । তারা তখন কোথায় যাচ্ছি বলে, মদনপুর ব্যাংকে যাচ্ছি বলে চলে আসি। ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করে মোটরসাইকেল যোগে আন্দিরপাড় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মদনপুর-প্রভাকরদী সড়কের বস্তি ঘরগুলোর সামনে পৌছালে একটি সিএনজি গতিরোধ করে। ছিনতাইকারী মনে করে মোটরসাইকেল রেখে পালানোর চেষ্টা করি। এসময় একটি জিপ গাড়ি থেকে ৪ জন  অস্ত্র ঠেকিয়ে  জিপগাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি কক্ষে আটকে রেখে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর এক মেয়েকে দিয়ে আমার ছবি তুলে রাখে তারা। পরে নিরুপায় হয়ে ছিনিয়ে নেয়া ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় রফাদফার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে তারা নির্যাতন অব্যহত রাখে। পরে বিকাশের মাধ্যমে আরো ৩০ হাজার টাকা এনে দেয়ার পর আমাকে ছেড়ে দেয়।

পরদিন সকালে ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবগত করলে তারা আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেন। চিকিৎসা শেষে দুইদিন পর বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করি। মামলা দায়েরর পর থেকে সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি দমকি দিয়ে আসছে। এবং তাদের চক্রের নারী সদস্য দিয়ে মিথ্যা মামলার ষড়যন্ত্র করছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করে এখন চরম বিপাকে পড়েছি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও