১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০৪ অপরাহ্ণ

UMo

৪ যুবকের মাথায় শটগানের গুলি, গাড়িচালকের লাশ হস্তান্তর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:২৯ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার


৪ যুবকের মাথায় শটগানের গুলি, গাড়িচালকের লাশ হস্তান্তর

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ৪ যুবককে মাথার পেছনের দিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রোববার ২১ অক্টোবর বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও আসাদুজ্জামান। নিহতদের প্রত্যেকের মাথার পেছন দিকে শর্টগান দিয়ে গুলি করা হয়েছিল। এর আগে ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাচঁরুখী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ওই লাশ গুলো উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। বিকেলে ময়নাতদন্তের পর রাত ৭টার দিকে নিহত মাইক্রোবাস চালক লুৎফর মোল্লার লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হক জানান, ভোরে এলাকাবাসী জানালে পুলিশ গিয়ে লাশ গুলো উদ্ধার করে। এসময় লাশের পাশে পরে থাকায় অবস্থায় ২টি দেশীয় পিস্তল ও ১টি প্রাইভেটকার (নোয়া- ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-০৫০১) জব্দ করে।

তিনি আরো জানান, প্রতিটি লাশের মাথাগুলো থেঁতলে দেওয়া হয়েছে যাতে পরিচয় না জানা যায়। তাদের প্রত্যেকের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। তবে শরীরে কোন গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

আব্দুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও থেকে হত্যা করে এখানে লাশগুলো ফেলে গেছে। আর যাতে পরিচয় শনাক্ত না করা যায় সেই জন্যই মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। এরা ডাকাত দলের সদস্য কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে এভাবে লাশ পাওয়া যাওয়ায় সকালে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার আবদুল্যাহ আল মামুন (অপরাধ) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, রোববার ভোর পৌনে ৫টার দিকে সরকারি সেবা সার্ভিস ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে রাস্তার দুই পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় চার ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দুইটি পিস্তুল, এক রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি নোয়া ব্রান্ডের সাদা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের মুখমন্ডলে আঘাতের চিহৃ রয়েছে এবং মাথার কিছু অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে যেহেতু পিস্তুল উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ডাকাত দলের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির কোন খোসা উদ্ধার করা হয়নি; এতে মনে হচ্ছে গুলির কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে লাশের ময়নাতদন্তের পর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

সাতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাহমুদ বলেন, স্থানীয়রা জানালে আমিও ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো পরে থাকতে দেখি। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছে না। তবে রাতে কেউ কোন গুলির শব্দও পায়নি। আর লাশগুলো স্থানীয়রা কেউ চিনতে পারেনি।

বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও আসাদুজ্জামান জানান, নিহত ৪ জনের মাথার পিছন দিকে শর্টগানের গুলি করা হয়েছে। নিহত ৪ জনের মধ্যে একটি পরিবার হাসপাতালে আসলেও এখনো তারা পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে আড়াইহাজার উপজেলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ৪ যুবকের মধ্যে এক যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি মাইক্রোবাস চালক লুৎফর মোল্লা। নিহতের স্ত্রী রেশমা বেগম নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) মর্গে লাশ সনাক্ত করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা থাকেন ঢাকার রামপুরার বাগিচারটেক এলাকায়। নিহত লুৎফর ফরিদপুরের ভাঙা থানার উত্তর আকনবাড়িয়া কালীবাড়ি এলাকার মনসুর মোল্লার পুত্র।

হাসপাতাল মর্গে কথা হয় নিহত লুৎফর মোল্লার স্ত্রী রেশমা বেগমের সাথে। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, তাঁর স্বামী লুৎফর ঢাকার রফিক মিয়ার মাইক্রোবাস চালায়। শুক্রবার রাতে ঢাকায় একটি ট্রিপ আছে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। অনেক রাতেও বাড়ি না ফিরলে তাঁর (স্বামী) মুঠোফোনে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় তারা চিন্তিত পড়েন এবং অনেক স্থানে খোঁজাখুজি করলেও লুৎফরের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরের দিন শনিবার রামপুরা থানায় একটি জিডি করা হয়। তিনি জানান, আজ (রোববার) সকালে টিভিতে দেখে আড়াইহাজার থানায় যান এবং সেখানে মাইক্রোবাস দেখে তারা নিশ্চিত হন এই গাড়িই তার স্বামী চালাতেন। পরে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে এসে দেখেন তাঁর স্বামী লাশ হয়ে মর্গে পড়ে আছে।

নিহত লুৎফর মোল্লার ছোট ভাই আব্দুস সাত্তার মোল্লা জানান, তার ভাইয়ের এক ছেলে রিশাত ৮ম শ্রেণিতে ও মেয়ে লিজা ৫ম শ্রেণিতে ঢাকার একটি হাইস্কুলে পড়ছে। তিনি জানান, লুৎফর মোল্লা আগে ঢাকায় জসীমের গাড়ি চালাতেন। এ মাসের এক তারিখ থেকে রফিকের গাড়ি চালান। জানতে চাইলে তিনি জানান, তার ভাই কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

আব্দুস সাত্তার মোল্লা আরো জানান, নিহত লুৎফরের লাশ দাফনের জন্য ফরিদপুরের ভাঙা থানার উত্তর আকনবাড়িয়া কালীবাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে লাশ নিয়ে তারা রওয়ানা হয়েছেন। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ