৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮ , ৬:২৩ অপরাহ্ণ

rabbhaban

চারজনের শনাক্ত, ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের মামলা


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৫৩ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার


চারজনের শনাক্ত, ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের মামলা

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা চারজনের পরিচয় মিলেছে। পরিবার ও স্বজনেরা এসে লাশ শনাক্ত করেন। তাদের বাড়ি পাবনা জেলাতে। পরিবারের অভিযোগ লাশ পাওয়ার কয়েকদিন আগে ডিবি পরিচয়ে  তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এর পর থেকেই তারা নিখোঁজ ছিল।

রোববার ২১ অক্টোবর ভোরে ৪ জনের লাশ উদ্ধারের পর গাড়ি চালকের লুৎফর রহমানের পরিচয় শনাক্ত হয়। আর সোমবার শনাক্ত হওয়া অপর তিনজন হলেন পাবনা জেলার সদর আতাইকুল থানা ধর্মগ্রাম এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে জহিরুল (৩০), একই গ্রামের জামালউদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে ফারুক প্রামানিক (৩৫) ও খায়রুল সরদারের ছেলে সবুজ সরদার (২০)। তাদের চারজনের মধ্যে তিনজনকে শটগানের গুলি করে হত্যা করা হয় উঠে এসে ময়না তদন্ত রিপোর্টে। আর একজনকে ভারী কোন বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখমন্ডল থেতলে দেয়া হয়েছে।

সোমবার ২২ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মর্গে থাকা চারজনের লাশ শনাক্ত করা হয়।

এদিকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় পৃথকভাবে দুটি মামলা হয়েছে। এসআই রফিকউদ্দৌলা বাদী হয়ে ওই দুটি মামলা দায়ের করেন। এতে উল্লেখ করা হয় রোববার ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচরুখী ফকির বাড়ি এলাকাতে দুই দল সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির কারণেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই সময়ে  ঘটনাস্থল থেকে এক রাউন্ড গুলি সহ দুটি পিস্তল ও একটি সিলভার রঙয়ের নোয়া গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের কোন্দলে ওই চারজন নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন।

নিহতদের মধ্যে ফারুকের সত বাবা জামাল প্রামানিক জানান, ফারুক ঢাকা-গাউছিয়া সড়কের বাস চালক। আর গাউছিয়া এলাকায় বসবাস করতো। শনিবার সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাউছিয়া এলাকার বাস থেকে ফারুক, জহিরুল, সবুজ ও লিটনকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল তারা। রাতে ফারুকের স্ত্রী ফোন দিয়ে জানায় ফারুখকে পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার সকালে ফেইসবুকে জানতে পেরে এখানে এসে লাশ শনাক্ত করি।

তিনি বলেন, আমার ছেলের নামে কোন মামলা নেই। কোন রাজনৈতিক দল করে না। গাড়ি চালায় তা দিয়ে সংসার চলে। আমার নিরাপরাদ ছেলেকে হত্যা করেছে। বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরে মামলা করবো।

জাহিরুলের শ্বশুর নজরুল ইসলাম বলেন, পাবনা থেকে এসে রূপগঞ্জের ভুলতায় সবুজদের সঙ্গে একই বেকারিতে কাজ নেওয়ার কথা বলেছিল জহিরুল। ১০দিন আগে বেকারীতে কাজের জন্য গাউছিয়া ফারুকের বাসায় উঠে। সেখান থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ। সোমবারে ফেইসবুকে জানতে পেরে এসে লাশ শনাক্ত করি। তার কোন মামলা ছিল না।

সবুজ সরদারের বাবা খায়রুল সরদার জানান, সবুজ গ্রামের বাড়িতে বেকারির কারিগর হিসেবে কাজ করতো। অভাবের তাড়নায় পরিবারের ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকায় এসেছিল। এর পরদিন থেকেই সবুজের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলে তার কোন সন্ধান পাচ্ছিল না। ঢাকার একটি বেকারিতে কাজে যোগদান করবে বলে সে বাড়িতে বলে এসেছিল। তকেও ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে রোববার গাড়ি চালক লুৎফর রহমানের পরিচয় পাওয়া যায়।  নিহতের স্ত্রী রেশমা বেগম নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) মর্গে লাশ শনাক্ত করেন। তারা থাকেন ঢাকার রামপুরার বাগিচারটেক এলাকায়। নিহত লুৎফর ফরিদপুরের ভাঙা থানার উত্তর আকনবাড়িয়া কালীবাড়ি এলাকার মনসুর মোল্লার ছেলে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শহরের বাইরে -এর সর্বশেষ