আবারও মূর্তমান আতঙ্ক চুন্নু মাদকসহ গ্রেফতার

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার

আবারও মূর্তমান আতঙ্ক চুন্নু মাদকসহ গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এলাকাবাসীর ‘মূর্তমান আতঙ্ক’ মোফাজ্জল হোসেন চুন্নুকে (৪৩) গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৮ নভেম্বর) রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড জালকুড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ৬ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত চুন্নু ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকায় মৃত আবু তালেব হোসেন পুইক্কার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফতুল্ল মডেল থানার নয়টি মামলাসহ বিভিন্ন থানায় ১৯ টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

ডিবির ইন্সপেক্টর গিয়াসউদ্দিন জানান, মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করার জন্য সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থান করাকালে জালকুড়ি এলাকায় যাওয়ার পর এক যুবক পুলিশের গাড়ি দেখে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার দেহ তল্লাশি করে ৬ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

কারো কারো কাছে ‘অস্ত্রবাজ’ হিসেবে রয়েছে তাঁর খ্যাতি। কোনো কোনো মহলের কাছে সে ‘শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী’। এছাড়াও একজন ভূমিদস্যু হিসেবেও এলাবকাবাসীর কাছে পরিচিতি রয়েছে তাঁর।

লামাপাড়া নয়মাটি এলাকার সাধারণ মানুষদের অভিযোগ, একাধিকবার র‌্যাব পুলিশের হাতে অস্ত্র, মাদকসহ গ্রেফতারও হয়েছিলো এই সন্ত্রাসী। তবে প্রতিবার গ্রেফতারের পর সে আরও বেশি দুর্ধর্ষ হয়ে ফিরে আসে এলাকাতে।

কোনো পদপদবী না থাকলেও তিনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন যুবলীগ নেতা। এছাড়াও লামাপাড়া এলাকায় সাংসদ শামীম ওসমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুনও টাঙিয়েছিলো সে নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করে। সেসব ফেস্টুনে সাঁটানো ছিলো তাঁর নিজেরও ছবি।

স্থানীয়রা বলছেন, একসময় বিএনপির সহযোগি সংগঠন যুবদলের নেতা ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু। তাঁর উত্থান সেসময় তথা  জোট সরকার আমল থেকে। এরপর জোট সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে রাতারাতি ভোল পাল্টে বনে যান যুবলীগ নেতা।

ক্রসফায়ারে নিহত দুর্ধর্ষ কিলার রেকমত বাহিনীর প্রধান রেকমত নিহত হওয়ার পর তাঁর অস্ত্রভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে তাঁরই উত্তরসূরি মোফাজ্জল হোসেন চুন্নুর কাছে।

স্থানীয়দের মতে, চুন্নু ও তাঁর বাহিনীর কাছে বিপুল পরিমাণের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। যার কিছু একাধিকবার উদ্ধারও করেছিলো র‌্যাব ও পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় মিল ফ্যাক্টরীর ঝুট সেক্টর থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসার একচ্ছত্র অধিপতি এই দুর্ধষ সন্ত্রাসী চুন্নু। এছাড়াও এলাকার শীর্ষ ভূমিদস্যু হিসেবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। এছাড়াও বিদেশী মদ থেকে শুরু করে ইয়াবার পাইকারি ব্যবসায়ীও সে। তাঁর রয়েছে মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক।

নিজ বাড়ি পুরোটাই সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এছাড়াও তাঁর বাড়ির পথের দিকে বেশ কিছু স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি খুব সহজেই সে অনুমান করতে পারে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও