ফুলের বাগান না জঙ্গল বানাবেন? জনগণকে প্রশ্ন শামীম ওসমানের

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫৯ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার



ফুলের বাগান না জঙ্গল বানাবেন? জনগণকে প্রশ্ন শামীম ওসমানের

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি ও আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জকে একটি ফুলের বাগান বানাতে চান নাকি জঙ্গল বানাবেন। ফুলের বাগান বানালে ফুলের সুভাস নিবেন এবং ফল খাবেন আর জঙ্গল বানাতে চাইলে সাপরে কামড় খাবেন। এখন নারায়ণগঞ্জের জনগন বেছে নিন আপনার এলাকা কি হিসাবে পেতে চান ফুলের বানান নাকি জঙ্গল। আপনার এলাকাকে ফুল ও ফলের চিন্তা না করলে জঙ্গল হবে। এখন আপনারাই চিন্তা করেন আপনার এলাকাটিকে কি হিসাবে দেখতে চান। নিজের এলাকাকে সঠিক দিকে নেয়ার দায়িত্ব আপনাদের। 

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল হতে রাত্র পর্যন্ত ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠন পৃথক ভাবে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীদের হুশিয়ারী করে তিনি বলেন, এখনো যারা মাদক ব্যবসা করেন এবং মাস্তানী করেন। সময় থাকতে আপনারা সঠিক পথে ফিরে আসেন। যেকোন উপায়ে সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে চাই। আমি কিন্তু বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছি। তারা মাঠে কাজ করছে। দলের বুঝি না এবং দলের বাহিরে বুজি না কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেয়া হবে না। সরকারের বন্দুকের গুলিতে মাদক ব্যবসায়ীদের মাথার খুলি থাকবে না। মাদক ব্যবসা ও মাস্তানদের প্রতিরোধে প্রতিটি পঞ্চায়েতের মুরুব্বীদের পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

শামীম ওসমান বলেন, সারা বাংলাদেশে সবচেয়ে ধনী পরিবারের ছেলে ছিলাম আমরা। আমার বাবা মায়ের তিনটি সন্তান এমপি হয়েছি। আমাদের চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। একসময়ে আমরা একবেলা খাইয়া দু’বেলা না খাইয়া লেখাপড়া করেছি। আমি নয়শো টাকার জন্য পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে পারি নাই। তবুও আফসোস নাই। আমাদের বাবা আমাদের জন্য এক টাকা রাইখা যায় নাই। আর আল্লাহর হুকুমে আমার বাবা সৎ ছিল বলেই আমরা এক মায়ের তিন ছেলে এমপি হইছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ঘটনা আর নাই। আর মানুষের সেবা করার জন্য রাজনীতিতে আসছি। আর আমার কাজ হলো জনগনের কাজ করা। জনগনের সমস্যার সমাধান করাই আমার মূল লক্ষ্য। আপনাদের সমস্যার সমাধানের জন্য একজন ভাল জনপ্রতিনিধি হিসাবে বেছে নিতে হবে।

শামীম ওসমান আরও বলেন, আমি রাস্তার থেকে উঠে আসি নাই। বাপ দাদার পরিচয় দিয়ে উঠে আসি নাই। না খেয়ে রাজনীতি করছি। পকেটে মুড়ি নিয়া ছাত্র রাজনীতি করছি। মাইলের পর মাইল হাটছি। আর ১৭-১৮ বছর থেকে জেল খাটা শুরু করছি কিন্তু নিজের আদর্শ বিক্রি করি নাই, ডিগবাজি খাই নাই বার বার। আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে রাজনীতি করি। টার্গেট, বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাড় করাবো। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ত্রিশ লাখ শহীদের স্বপ্ন। যদি আপনারা মুরুব্বীরা এই রক্তের সম্মান না দেন মুরুব্বীরা তাহলে নতুন প্রজন্ম আগামীতে এই দেশের জন্য লড়াই করবে না। আর ৭১ সালে যারা আপনার মা বোনকে ইজ্জত লুটে নিল এবং আপনার ভাইদের গুলি করে হত্যা করলো সেই জামাত ও জামাতের দোসরদের বিপক্ষে জনগনের কাছে ভোট চাইতে হচ্ছে। তবে আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসিনি জনগনকে জাগাতে এসেছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও  এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি শহীদুল্লাহ, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লিটন,  শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু, এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রাজ্জাক মাষ্টার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা এহসানুল হক নিপু, থানা কৃষকলীগের সভাপতি আবু হানিফ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এমএ মান্নান, মুসলিমনগর পঞ্চায়েত প্রধান ফজলুল হক, শফিকুল ইসলাম, এনায়েতনগর ইউনিয়ন সদস্য সালাউদ্দিন, আক্তার হোসেন, থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শরিয়তউল্লাহ বাবু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও