ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে উত্তপ্ত কুতুবপুর

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:০৪ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার

ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে উত্তপ্ত কুতুবপুর

ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিয়ে ফতুল্লার কুতুবপুরে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রভাব বিস্তার করে ডিস ব্যবসার দখলে সরকারী দলের একাধিক গ্রুপ মরিয়া হয়ে উঠে। ডিস ব্যবসা দখল নিয়ে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রন নিতে মিরু বাহিনীর হাতে খুন হয়েছিল জনতা লীগ নেতা শেখ স্বাধীন হোসেন মনির। এ হত্যাকারীরা আদালত হতে জামিন নিয়ে ফের প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে। আবার সেই ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রন নিয়েই কুতুবপুরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, মীর হোসেন মিরু একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি হলেও কুতুবপুরের পশ্চিমাংশ এলাকায় একক ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে বিশাল বাহিনী গড়ে তোলে। অটো স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রন সহ বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রন করছে এ বাহিনী। আর এ বাহিনীর প্রধান সেনাপতি হলো ভাগিনা শাকিল। তার সাথে রয়েছে খোকন, জিয়াউল হক গেদু সহ আরো বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী। মিরুর এক ইশারায় অনেক কিছুর অসম্ভবকে সম্ভব করা ভাগিনা শাকিল, পুইক্যা খোকন, জিয়াউল হক গেদু বাহিনীর সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশেষ করে মিরু বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ভাগিনা শাকিল বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই শাকিলই ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। মিরুর নির্দেশেই শাকিল নানা অপকর্ম করে বেড়ায় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুতুবপুরের মিরু বাহিনী পাগলা চিতাশাল এলাকার মনির হোসেনের দখলে থাকা ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রনে নিতে তার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় মিরু বাহিনী। এরপর মনিরের অফিসে তালা মেরে দখলে নেয়ার পর স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা প্রতিবাদ করে। কিন্তু কারো কিছু তোয়াক্কা না করে মঙ্গলবার মিরু বাহিনীর প্রধান সেনাপতি শাকিল তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ডিস অফিসে বসার পরিকল্পনা করে। এতে বাধা দেয় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন হাওলাদার, যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেক, সেলিম। দেখা দেয় আরো উত্তেজনা। বুধবার সকালে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতারা মনির হোসেনের ডিস অফিসের তালা খুলতে গিয়ে মিরু বাহিনীর সাথে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এসময় আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে উপস্থিত ছিল ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এসময় মিরু বাহিনী পিছু হটে। এনিয়ে দেখা দেয় চরম উত্তেজনা। যার কারণে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের। তিনি সন্ত্রাসীদের কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত করে। পুলিশের হুঙ্কারে এলাকার সাধারন লোকজন স্বাভাবিক ভাবে শান্ত হলেও মিরু বাহিনী বহাল তবিয়তে রয়েছে।

তবে অভিযোগ পাওয়া গেছে, বুধবার ডিস ব্যবসার ঘটনা নিয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ সন্ত্রাসী মিরুকে জেলা পুলিশের সুপার হারুন অর রশিদের কাছে নিয়ে যায়। তখন মিরুকে দেখে আর তার কর্মকান্ডের কথা শুনে কিছুতেই মিলাতে পারছেন না এসপি। তার পরও মিরুকে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন এসপি হারুন।

এদিকে এলাকাবাসী জানান, মিরু আওয়ামীলীগের দুই নেতার প্রভাবে মিরু কুতুবপুরের কোন আওয়ামীলীগের নেতাদের কোন তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সেক্টর একক ভাবে দখল করে নেয়। এমনকি মাদক ব্যবসার বিশাল রামরাজত্ব কায়েম করছে। মিরুকে দমাতে এবং আওয়ামীলীগের সুনাম রক্ষার্থে মাঠে নেমেছে আওয়ামীলী নেতা আলাউদ্দিন হাওলাদার, আব্দুল হক, যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেক, সেলিমসহ আরো অনেকে। মিরুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হলেও প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা প্রকাশ্যে মাঠে নামতে পারছে না।

এবার আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোর ভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা না করতে পারলে কুতুবপুরে জনতা লীগ নেতা শেখ স্বাধীন হোসেন মনির মত অন্য কারো লাশ হয়তো বা পড়তে পারে বলে কুতুবপুরবাসী আশঙ্কা করছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও