পুলিশের বন্ধ ডিভাইডার খুলে দিচ্ছে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫১ পিএম, ১৫ মে ২০১৯ বুধবার

পুলিশের বন্ধ ডিভাইডার খুলে দিচ্ছে

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যানজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যেসব ইউটার্ন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তা আবার খুলে দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক ইউটার্ন হতে পাথরের ব্লক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এসকল কাজ করা হচ্ছে রাতের অন্ধকারে অথবা পুলিশের চোখের আড়ালে। এ কারণে আগের অবস্থানে চলে আসছে লিংক রোডের যানজট। এমন কাণ্ডের জন্য পুলিশের উদাসিনতাকে দায়ি করছেন এলাকাবাসী ও পথচারীরা।

গত কয়েকদিন আগে পুলিশ সুপারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে চাষাঢ়া থেকে সানইবোর্ড পর্যন্ত লিংক রোডের ডিভাইডারের ৪৬টি ফাঁকা পয়েন্টের প্রায় সবগুলো বন্ধ করে দেয় জেলা ট্রাফিক বিভাগ। এ জন্য পাথরের ব্লক আর বাঁশের ব্যবহার করা হয়। যা লোহার তার দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেয়া হয়। এর কারণে লিংক রোডে যান চলাচল অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যত্রতত্র গাড়ি ঘোড়ানো বন্ধ হয়ে যায়। সুফল আসতে থাকে এই উদ্যোগের ফলে।

এর আগে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, চাষাঢ়া থেকে সানইবোর্ড পর্যন্ত লিংক রোডের ৪৬টি পয়েন্টে ডিভাইডারের ফাঁকা আছে। এগুলো ব্যবসায়ী, ব্যক্তি মালিকানাসহ বিভিন্ন কারণে নিজেদের প্রয়োজনে এগুলো ফাঁকা রেখেছে। এতে করে মাত্র ৮ কিলোমিটার রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। এগুলো বন্ধ হলে যানজট কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ সুপারের এই বক্তব্যের পরেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের যানজটের অবস্থা কিছুটা পরিবর্তন হতে থাকে। এই অবস্থা কিছু দিন চলার পর থেকে এই ব্লক অপসারণ শুরু হয়েছে। কয়েকটি স্থানে ব্লক সরিয়ে রাস্তার উপরে নিয়ে এসেছে। এতে সোজা রাস্তায় গাড়ি চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্লকের উপর গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে।

তার পরও পুলিশের নজর না আসায় হতাশ হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, ডিভাইডারগুলো বন্ধ করেই খালাস হচ্ছে পুলিশ। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিচ্ছে না পুলিশ। এতে মানুষ আইন ভাঙ্গার একটি সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে চলাচল করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা। ভুইঘরসহ জালকুড়ি, সিবু মার্কেট, সস্তাপুরের বিভিন্ন স্থানে এমন পরিস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়।

রহিমুদ্দিন বলেন, মানুষের প্রয়োজনে এগুলো দেয়া হয়েছে। আবার এতে যাদের অসুবিধা হয় তারা এগুলো অপসারন করছেন। এই দেয়া এবং অপসারনের মাঝে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তদারকি না থাকার জন্যই এই অবস্থা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

করিম বয়াতি ভিন্ন মত দেন। তিনি বলেন, ডিভাইডারগুলো খোলা রাখা হয়েছে প্রয়োজনে। আবার তা বন্ধ করা হচ্ছে তাও প্রয়োজনে। তবে এখন যারা খুলছেন সেটাও প্রয়োজনে খোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ডিভাইডার এর খোলা অংশ এমন ভাবে বন্ধ করা হয়েছে যে মানুষ চলাচলের জায়গাটুকু রাখা হয়নি। পথচারীরা যখন সড়ক পারাপার হচ্ছেন তখন এই পাথরের ব্লকগুলো বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। বাঁশের আঘাতে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী এবং শিশুদের সমস্যায় পরছেন। এই ব্লক গুলো স্থাপনের আগেই এই বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত ছিল ট্রাফিক পুলিশদের। তবে এর কেউ কেউ অপব্যবহার করছেন। পুলিশ মনোযোগি হলে এর সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও