ফতুল্লায় গার্মেন্টকর্মী গণধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ৪

ফতুল্লা করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৮ পিএম, ১৫ জুন ২০১৯ শনিবার

ফতুল্লায় গার্মেন্টকর্মী গণধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ৪

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ফতুল্লায় ঈদের ছুটিতে বন্ধুকে নিয়ে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গার্মেন্টকর্মী তরুণী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় চার ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা ধর্ষণের শিকার তরুনীর বান্ধবী মৌসুমীর সহযোগিতায় পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

শনিবার (১৫ জুন) পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানার ধলাশ্বর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে সুমন (২২)। সে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ বেপারী বাড়ীতে বসবাস করে, জামালপুরের লাহারি কান্দার শহিদুল ইসলামের ছেলে টুটুল (২৮), ৩। ফরহাদ (২২), ঝালকাঠির কৃপাথ নগর এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে শাকিল (২৩) তারা বিসিক শাসনগাও হাজী মোল্লা সাহেবের বাড়ীর ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার ও ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (আইসিপি) আজিজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ১৮ বছরের গার্মেন্টকর্মী এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা গণধর্ষণের শিকার তরুণীর বান্ধবী মৌসুমীর সহযোগিতায় এ কাজ করেছে। তাদেরকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

তিনি আরো জানান, ধর্ষণের পর তরুণীকে যখন আটক করে মুক্তিপণ চাওয়া হয় সেই সময় সুকৌশলে তরুণীকে উদ্ধার করে বান্ধবী মৌসুমীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর যারাই এ ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে কেউ পাড় পাবে না, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকার জনৈক ১৮ বছরের তরুণী আদমজী ইপিজেটের একটি গার্মেন্টে চাকরী করে। সম্প্রতি মৌসুমী ও তার স্বামী নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলীতে বসবাস করে একটি গার্মেন্টে চাকরী করতো। সেই সুবাধে তাদের সম্পর্ক হয়। বেশ কিছুদিন আগে মৌসুমী কদমতলী হতে চলে এসে ধর্মগঞ্জের আরাফাত নগর এলাকায় বাবা মার সাথে বসবাস করে। ঈদের ছুটিতে গত শুক্রবার বিকেলে মৌসুমী উক্ত তরুণীকে ফোন করে তার বাড়িতে বেড়াতে আসতে বলে। পরে ঐ তরুণী তার বন্ধু শামীমকে নিয়ে মৌসুমীর বাড়িতে যায়। ঐ দিন সন্ধার পর মৌসুমী পরিকল্পনা করে গার্মেন্টেকর্মী ও তার বন্ধু শামীমকে নিয়ে বক্তাবলীর নদীর পাড়ে ঘুরতে যায়। তখন ৬/৭জন তাদেরকে আটক করে বক্তাবলীর ছলিম উল্লাহর ইটভাটায় নিয়ে যায়। এসময় তারা শামীমকে মারধর করে গার্মেন্টেকর্মীকে ইটভাটার একটি ঘরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তবে তারা মৌসুমীকে কিছু বলেনি। পরে ধর্ষকরা গার্মেন্টেকর্মীসহ তার বন্ধুকে মৌসুমীর বাড়িতে আটক করে মুক্তিপণ হিসাবে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে গার্মেন্টেকর্মীর পরিবারের কাছে। এমন এক অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (৯ জুন) সকালে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের আরাফাতনগর এলাকা হতে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার তরুণী বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়েন করে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও