টিউমার অপসারণে সপ্তাহব্যাপী অপারেশন! যাত্রীদের ভোগান্তি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৩ পিএম, ২৬ জুন ২০১৯ বুধবার

টিউমার অপসারণে সপ্তাহব্যাপী অপারেশন! যাত্রীদের ভোগান্তি

সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে দেবে যাওয়া রাস্তা ও ফুলে উঠা পিচ সংস্কারের কাজ শেষ হয়নি। আরো কতদিন লাগতে পারে সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি। আর এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রী সহ সাধারণ মানুষের।

২৬ জুন বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারী এলাকায় দেবে যাওয়া রাস্তা ও ফুলে উঠা পিচ সংস্কারের জন্য রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। ফলে এক লেনের এক পাশে সরিবদ্ধভাবে গাড়িগুলো চলছে। ফলে গাড়ি চলাচলে যেমন ধীর গতি আর তাতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যাচ্ছে শুধু মাত্র দুই কিলোমিটার রাস্তা পার হতে। যানজটের পাশাপাশি তীব গরমের বসে থাকে অতিষ্ট উঠে যাত্রীরা। অনেক সড়ক ও জনপদ কর্মীদের প্রতিবাদ জানালেও এতে কোন কর্ণপাত করেনি তারা।

সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ ৮ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। গত বছরের ২৮ জানুয়ারি ৮ কিলোমিটার অংশ ওভার লের মাধ্যমে মেরামতের জন্য দরপত্র জমা ও খোলা হয়। একই বছরের ৬ মার্চ মাসুদ হাই টেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ‘কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী কাজের ব্যয় হবে ১৮ কোটি ১৪ লাখ ২৩ হাজার ১৭টাকা। কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সময় দেওয়া হয় ৬ মাস। গত সেপ্টেম্বরে সড়কটির ওভার লে সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর রোডের সংস্কার কাজ করা হয়েছে বছর কয়েক মাস আগেই। এর মধ্যে আরো কয়েক দফা করা হয়েছে খ- খ- সংস্কারও। তারপরও ৮ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ২ কিলোমিটার বেহালই রয়ে যায়। কোথায় পিচ ফুলে আবার কোথাও দেবে গিয়ে ছোট বড় যানবাহনগুলোর জন মারণ ফাঁদের পরিনত হয়েছে। আর সেই ফাঁদ মেরামতে কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ।

এলাকাবাসী ক্ষোভ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৮জুন সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। কিন্তু একদিন কাজ করার পর গত ৭দিন তাদের কেনা কাজ করতে দেখা যায়নি। বরং দেবে যাওয়ার রাস্তার খোয়া সরিয়ে ফেলা ও টিউমারের মতো ফুলে উঠা পিস কেটে ফেলায় নতুন করে ঝুঁকি আরো বাড়িয়েছে।

অটোরিকশা চালক তালেব উদ্দিন বলেন, টিউমার অপারেশন শুরু করছে শুনেছি এক সপ্তাহ আগে কিন্তু সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাদের অপারাশেন শেষ হয় না। এরা কি কাজ করে এক মাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ কইতে পারবো না। এদের চামরা গ-ারের মতো। মানুষ এতো কষ্ট পায় এতো বকাঝকা করে কিন্তু তাদের কান পর্যন্ত পৌছায় না। এক রাস্তায় কত বার কাজ করতে পারে এটাই তার উদাহরণ।

এর আগে লিংক রোডে গত ১০ বছর ধরে সিএনজি অটোরিকশা চালক মোতালেব হোসেন। তিনি বলেন, এক বছর আগে রাস্তা ছিল খুব খারাপ। গাড়ি চলানো যেন ভয়ংকর ছিল। পরে ঠিক করছে কিন্তু একবছর না যেতেই অনেক জায়গা দেবে গেছে। অনেক জায়গা টিউমারের মতো ফুলে উঠেছে। এর মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালাতে গেলে গাড়ি একউ ঝাঁকি দেয়। এতে করে উল্টে যায় গাড়ি। গত কয়েক মাসে কম করে হলেও ২০ থেকে ৩০টি গাড়ি উল্টে গেছে। তবে সব গুলোই ছোট সিএনজি, টেম্পু ও মোটর সাইকেল।

তিনি বলেন, বড় গাড়িরগুলোর জন্য এর রাস্তা এমন হয়েছে। কিন্তু তাদের চলাচলে তেমন কোন সমস্যা হয় না। সব থেকে বড় সমস্যা হয় ছোট গাড়িগুলোর। বিশেষ করে রাতের বেলায়। এ রাস্তা খারাপ বলে রাতের বেলায় যানজট সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নিয়োজিত মাসুদ হাই টেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও