মাদক শেল্টারদাতার নেতৃত্বে মাদক বিরোধী মিছিল!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৪২ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

মাদক শেল্টারদাতার নেতৃত্বে মাদক বিরোধী মিছিল!

গত বছরের মে মাসে ঘোষণা দিয়ে মাদক নির্মূলে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছিল র‌্যাব-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। প্রতিটি জেলার শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর নামের একটি তালিকা তৈরী করেছিল সরকার। ওই তালিকায় নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা বজলুর রহমান ওরফে বজলু মেম্বার, বন্দরের ধামগড় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কবির হোসেন ওরফে ফেন্সী কবির ও রাসেলের নাম।

মাদক নির্মূলের ক্র্যাশ প্রোগ্রামের টপ টেনের লিষ্টে নাম থাকায় অভিযান শুরুর পরে বেশীরভাগ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর মতো ক্রসফায়ার আতঙ্কে বজলু মেম্বারও গা ঢাকা দিয়েছিল। পরে প্রভাবশালী নেতার হাত ধরে বজলু মেম্বার রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এরপর চনপাড়ার বিউটি আক্তার কুট্টি মেম্বার হত্যার পরেও বজলু ছিল আলোচিত। তবে রহস্যজনক কারণে সেবারও বজলু ছিল ধরা ছোয়ার বাইরে। এবার সেই বজলুকে দেখা গেছে মাদক বিরোধী মিছিলের নামে এলাকায় শোডাউন করতে।

জানা গেছে, প্রতিটি জেলার শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর নামের একটি তালিকা তৈরী করেছে সরকার। তালিকায় মাদক ব্যবসায়ীদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা, মামলার সংখ্যা, ব্যবসার ধরন এবং কারও কারও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুঠোফোনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। ঘোষণা দিয়ে মাদক নির্মূলে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করে র‌্যাব-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। প্রতিটি জেলার শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর নামের একটি তালিকা তৈরী করে সরকার। ২০১৮ সালের ২৩ মে জাতীয় একাধিক গণমাধ্যমেও বিভিন্ন জেলার টপ টেন লিষ্টের আংশিক প্রকাশিত হয় যাতে উল্লেখ করা হয় নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী বজলুর রহমান ওরফে বজলু মেম্বার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থাকেন। তার বাড়ি রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকায়। বন্দর থানার মদনপুর গোকুল দাসেরবাগ এলাকার কবীর মোবাইল ফোনে ইয়াবার কারবার চালাচ্ছেন দীর্ঘদিন। এছাড়াও ওই তালিকায় রাসেলের নামও ছিল। গতবছরের মে মাসের মধ্যভাগে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও শুরু হয় মাদক বিরোধী সাড়াশি অভিযান। তবে গা ঢাকা দেয় বেশীরভাগ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীই। পরে টপ টেনের ফেন্সী কবিরসহ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার এবং বেশ কিছু শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও বজলু মেম্বার ছিল ধরা ছোয়ার বাইরেই।

জানা গেছে, স্থানীয়রা জানান, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র (বস্তি) ক্রাইমজোন হিসাবে পরিচিত। এ বস্তিতে মাদক, অস্ত্র, ছিনতাইকারী, মলমপার্টি, খয়েরপার্টির চক্র রয়েছে। ঢাকার নিকটবর্তী হওয়ায় এখানে সন্ত্রাসী ও মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। সন্ধ্যা হলেই চনপাড়ায় মাদকের হাট জমে উঠে। আর এসব অপকমের্র মূল হোতা চনপাড়া ত্রাস বজলুর রহমান বজলু। বজলুর ইশারায় চলে চনপাড়ার অপরাধ জগত। তার বাহিনীর অনেকেই মাদক ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছে।

এদিকে গত বছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মাদক বিরোধী অভিযান কিছুটা শিথিল হলে এলাকায় ফিরে আসে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী বজলুর রহমান ওরফে বজলু মেম্বার। এরপর এলাকাতেই অবস্থান করতে থাকে বজলু।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বজলু এলাকা ছাড়া হলে চনপাড়া বস্তির আধিপত্য, বস্তির প্লট ও পানি বানিজ্য, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রন, অস্ত্র ব্যবসা থেকে শুরু করে সকল ধরনের অপরাধ কার্যক্রম থেকে আসা লাখ লাখ টাকা হাত বদল হয়ে চলে আসে কুট্টির নিয়ন্ত্রনে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালে কুট্রির স্বামী হাসান মুহুরীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ২০১৯ সালের ২৬ জুন খুন হন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ও মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী বিউটি আক্তার কুট্রি। কুট্রিকে বজলু ও তার বাহিনীর লোকজনেরা হত্যা করেছে বলে দাবি করেছিল তার মেয়ে পারভীন আক্তার।

এদিকে মাদক নির্মূলের ক্র্যাশ প্রোগ্রামের টপ টেনের লিস্টে নাম থাকা সেই বজলু মেম্বারকে সোমবার দেখা গেছে মাদক বিরোধী মিছিল করতে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন চনপাড়া শেখ রাসেল নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান মেম্বার। তিনি বলেন, চনপাড়াবাসী মাদকের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। এখন থেকে চনপাড়ায় কোন মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবনকারীর স্থান হবে না। এদিকে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর মাদক বিরোধী মিছিলের নামে শোডাউনের খবরে গোটা রূপগঞ্জে উঠেছে বিরূপ সমালোচনার ঝড়। অনেকেই বলছেন প্রশাসনের চোখকে ধুলো দিতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বজলু এখন নতুন নাটক মঞ্চস্থ করতে চাইছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও