বক্তাবলীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশের গুলি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৩৮ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

বক্তাবলীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশের গুলি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বক্তাবলীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজী গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ ও ভাঙচুর পুলিশের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ উভয় গ্রুপের ১৪ থেকে ১৫জন আহত হয়েছে।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) কিকেল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত বক্তাবলীর আকবরনগর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায়

আর সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রহিম হাজী, সামেদ আলীর স্ত্রীসহ ৭জনকে আটক করেছে পুলিশ। আর ঘটনাস্থল হতে ৩০টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়।

সংঘর্ষের আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে রহিম হাজী, সামেদ আলীর স্ত্রী নাছিমা বেগমসহ ৭জন। আটকদের মধ্যে দুই গ্রুপের লোকজন রয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা থানা ও সিরাজদীখান থানার পাশ্ববর্তী এলাকা বক্তাবলীর আকবরনগর এলাকা। এ এলাকার প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজী। আধিপত্য বিস্তার করতে তারা উভয়ে আলাদা ভাবে বিশাল বাহিনী গড়ে তোলে। উভয় বাহিনীর লোকজন ইটভাটা হতে চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চায়।

এনিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে প্রতিনিয়ত বিরোধ চলে আসছিল। তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।

সম্প্রতি দুই গ্রুপে সংঘর্ষে জয়নাল নামের একজনের মৃত্যুর ঘটনার পর পুলিশের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয় না তার প্রমান  ঘটেছে।

দীর্ঘদিন নিরব থাকার পর সোমবার বিকেলে সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজী গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

একে অপরকে ঘায়েল করতে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ টেটা ব্যবহার করা হয়। আর ঘটনার সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেনসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। আর দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ উভয় গ্রুপের ১৪ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, হাবিবুর রহমান ও রেজাউল হক আহত হয়। তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজী গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তাদের মধ্যে কিছুদিন পর পর টেঁটাবল্লম নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি দুই গ্রুপের সংঘর্ষের টেটাবিদ্ধ হয়ে জয়নাল নামের একজন নিহত হয়।

জয়নাল হত্যার ঘটনায় সামেদ আলীসহ তার লোকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। আর এ হত্যাকান্ডের জের হিসাবে রহিম হাজীর লোকজন সামেদ আলীসহ তার লোকদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। এতে করে সামেদ আলী হাজীর স্বপরিবারসহ তার সমর্থীত নারী পুরুষ সবাই এলাকা ছাড়া হয়ে যায়। সকল কিছুর চিন্তা ভাবনা করে পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতা করে দেয়। পরে সামেদ আলী হাজীর পরিবারসহ তার লোকজন এলাকায় বসবাস শুরু করে। কিন্তু তাদের দীর্ঘদিন যে বিরোধ তা কিছুতেই মন থেকে তারা সমঝোতা হয়নি। তারা প্রতিনিয়ত তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে পুলিশকে অবগত করে ছিলো। এবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র সোমবার ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আর এ ঘটনায় এলাকা এখন থমথম অবস্থা বিরাজ করছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজী গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তারা একে অপরকে ঘায়েল করতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েকটি বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে।

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আমাদের তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং তাদের উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনাস্থল হতে ২০টি টেটা উদ্ধার সহ ৭জনকে আটক করা হয়। বর্তমান এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আর এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও