রাজাকার পুত্র চেয়ারম্যানের কড়া দম্ভোক্তি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৪ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার

রাজাকার পুত্র চেয়ারম্যানের কড়া দম্ভোক্তি

‘‘ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান হয়েছি। এলাকায় আমার অনেক জনপ্রিয়তা। পত্রিকায় লিখে যা পারেন করেন।’’ বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এভাবেই নিজের দম্ভোক্তি প্রকাশ করেন।

মহান বিজয় দিবসের আগে প্রকাশিত রাজাকারদের তালিকায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের সাবেক প্রয়াত চেয়ারম্যান এমএ রফিক, তার সহোদর ভাই মোস্তফা, সামাদ ও মালেকের নাম প্রকাশ হয়েছে। কুড়িপাড়া এলাকার তালিকাভুক্ত রাজাকার প্রয়াত এমএ রফিকের ছেলে মাকসুদ হোসেন দ্বিতীয় মেয়াদে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল রয়েছেন। একই সাথে তিনি তিনগাও কাইকারটেক এলাকায় স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা একেএম সামসুজ্জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি।

এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক দল এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তারপরেও স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের বংশধররা কিভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকে।

সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিজয় দিবসের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বন্দরের মাকসুদ চেয়ারম্যান রাজাকারের ছেলে। তাকে কারা চেয়ারম্যান বানাতে গিয়ে নৌকা ডুবিয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাকসুদ হোসেনের বাবা প্রয়াত রাজাকার রফিক চেয়ারম্যানের ৭ ছেলের মধ্যে প্রায় সবাই তারকা সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী। তাদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন কালু, মোর্শেদ হোসেন মুন্সি ও আনোয়ার হোসেন আনার শাহ সাহেব পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হন মোয়াজ্জেম হোসেন কালু। এরপর মারা যান কুখ্যাত রাজাকার এমএ রফিক চেয়ারম্যান। ২০১১ সালের নির্বাচনে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন পেশাদার খুনি আনোয়ার হোসেন আনার শাহ সাহেব। স্বাধীনতার পরে কুড়িপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন হত্যার মূল আসামী আনোয়ার হোসেন শাহ সাহেব শপথ গ্রহণের আগেই রহস্যময় দুর্ঘটনায় নিহত হন আলোচিত ওই চেয়ারম্যান শাহ সাহেব।

পরে উপ নির্বাচনে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মাকসুদ হোসেনের উত্থান। এরপর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতীদ্বন্দী নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অবস্থান সুসংহত করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এমএ লতিফ  সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি খুবই হতাশাজনক। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামীলীগ এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান। এমন অবস্থার মধ্যে কি করে একজন চিহ্নিত রাজাকার পরিবারের সন্তান ইউপি চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে প্রতিষ্ঠিত উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুক্লা সরকার বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ বিষয় কিছুটা শুনেছি। তবে বিস্তারিত না যেনে মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।

বিষয়টি ভীষণ রকম বেদনাদায়ক উল্লেখ করে উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান বলেন, বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন দম্ভোক্তি করে বলেন, আমার বাবা ও চাচারা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. আইভি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও