বউভাতের আগেই দগ্ধ পুরো পরিবার

দেশ রূপান্তর থেকে নেয়া : || ০৯:০৭ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

বউভাতের আগেই দগ্ধ পুরো পরিবার

কিছুদিন আগে বিয়ে করেছেন ইমন (২২)। আগামী মাসে বউভাত অনুষ্ঠান করে নববধূকে ঘরে আনার কথা ছিল তার। স্বজনরা এলেও যাতে আনন্দে অসুবিধা না হয়, সে জন্য নতুন ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। কিন্তু সোমবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাহেবপাড়ার ওই বাসায় গ্যাসের আগুনে ইমনের পরিবারের আট সদস্য দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে দাদি নুরজাহান বেগম (৭০) ও বাবা কিরণ মিয়ার (৫০) মৃত্যু হয়েছে। ইমনসহ বাকিরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

ইমনের ফুপু কুলসুম আক্তার দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রায় ১৭ বছর ইমনের বাবা কিরণ সাহেবপাড়ায় ভাড়া থাকেন। তাদের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরে। সানারপাড় এলাকার বেসরকারি একটি স্কুলের শিক্ষিকা শামীমা সিদ্দিকীর সঙ্গে ইমনের প্রেম ছিল। পরিবারের সম্মতিতে পাঁচ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। বর্তমান বাসায় নতুন বউ নিয়ে থাকার মতো পরিবেশ ছিল না। এ জন্য বউভাতও হয়নি। এরই মধ্যে একই এলাকায় নতুন ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়। ইমনের বাবার ইচ্ছা ছিল আগামী মাসে বউভাত করে নতুন বউকে বাসায় আনবেন। তার আগেই আগুনে স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল।

হাসপাতালে দগ্ধদের সঙ্গে থাকা প্রতিবেশী নাসিমা বেগম জানান, ইমনের বাবা সাইনবোর্ড এলাকায় গেঞ্জির কারখানার মালিক। তাদের ঢাকা ট্রেড সেন্টারেও দোকান রয়েছে। আগুনে বাসার সবকিছু পুড়ে গেছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় হয়তো রাতে কেউ ভুলে চাবি খুলে রেখেছিল। ১৭ ফেব্রুয়ারী ভোরে রান্না করার জন্য দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালাতেই মুহূর্তে আগুন পুরো ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমেই দগ্ধ হন ইমনের দাদি নুরজাহান বেগম। তার আর্তচিৎকারে বাঁচাতে এগিয়ে এসে দগ্ধ হন ছেলে কিরণ (৫০), কিরণের ছেলে ইমন (২২) ও আপন (৮), কিরণের ছোট ভাই হিরণ (৩০), হিরণের স্ত্রী মুক্তা (২০), তার শিশুকন্যা ইলমা (২) ও ভাগনে কাউছার (১৪)।

নুরজাহান বেগমের আরেক মেয়ে খাদিজা বেগম জানান, তার বিয়ে হয়েছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায়। সকালে টিভি দেখতে বসে ইমনদের বাসায় আগুনের খবর জানতে পারেন তিনি। পরে হাসপাতালে এসেছেন। তিনি আরও জানান, আগুনে ইমনের মা ও ছোট বোন অক্ষত রয়েছে। বাকিরা সবাই দগ্ধ হয়েছেন।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও