ফতুল্লায় যমুনা তেলের ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন চাইলেই মারধর

ফতুল্লা করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৮ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

ফতুল্লায় যমুনা তেলের ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন চাইলেই মারধর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যমুনা তেলের ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন প্রায় ২৯ বছর যাবত প্রভাবশালীদের হাতের মুঠোয় বন্দি রয়েছে। এ ইউনিয়নের পদ পদবী ব্যবহার করে হাতেগোনা কয়েকজন কোটি কোটি টাকার সরকারী তেল রাতের অন্ধকারে হাতিয়ে নিচ্ছে - সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ। ইউনিয়নের সুনাম রক্ষার্থে সাধারন সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু নির্বাচন চাইলেই প্রভাবশালীরা তাদের মারধর করেন।

সদস্যদের অভিযোগ, তাদের ইউনিয়নে প্রায় ৮শ’র বেশি সদস্য রয়েছে। এসব সদস্যরা সকলেই ট্যাংকলরীর চালক। আবার এদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন সরকারী তেল চুরি করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এখন ডিপোতে অনেকেই আসেনা। তাদের মধ্যে আফসু মিয়া একজন। তিনি এক সময় ডিপোতে তেল কুড়িয়ে বিক্রি করতেন। এখন একাধীক বহুতল বাড়ি, একাধীক ব্রিকফিল্ডসহ শত কোটি টাকার মালিক। তার ছোট ভাই সালাউদ্দিন সেও তেল কুড়াতে এসে এখন কোটিপতি। তাদের মধ্যে আফসু মিয়া মেঘনা তেল ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং তার ছোট ভাই সালাউদ্দিন যমুনা তেল ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতির পদ দখল করে বসে আছেন।

সদস্যরা জানান, আফসু মিয়া ও তার ছোট ভাই এখন শ্রমিক ইউনিয়নে থাকার কোন যুক্তিকতা আসেনা। তারপরও তারা শ্রমিক ইউনিয়নের পদ পদবী আকড়ে ধরে আছে। কারণ সরকারী তেল চুরির একটি মহাৎসব চলে ডিপোতে। আর সেই চুরি থেকে অনেকেই মাসোহারা পায় আবার অনেকেই নিজেরা চোরাইতেলের ব্যবসা করেন।

যমুনা ডিপো ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান বাবুল জানান, সোমবার বিকেলে ইউনিয়নের অফিসে গিয়ে নির্বাচনের বিষয় জানতে চাইলে আফসু ও তার ভাই সালাউদ্দিনসহ তাদের বাহিনীর কয়েকজন মিলে আমাকে ও আলামিন নামে আরেক সদস্যকে মারধর করে। এর আগেও একাধিক সদস্যকে মারধর করেছে। ২৯ বছর যাবত তারা ইউনিয়নের নির্বাচন না দিয়ে পদপদবী ব্যবহার করে চোরাই তেলের ব্যবসা করছে। এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ করেছি।

আফসু মিয়া জানান, আমি শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। স্থানীয় কমিটিতে আমার কোন হস্তক্ষেপ নেই। তাদের অভিযোগ আমি এক সময় ডিপোতে তেল কুড়াতাম এটা সত্য। তবে তেল চুরির ব্যবসা করিনি। বর্তমানে একাধীক বাড়ি, গাড়ি, ব্রিকফিল্ডের মালিক হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে যে অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা বানোয়াট।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, অভিযোগ তদন্ত চলছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও