সেই এহসান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নোটিশ

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩০ পিএম, ৯ জুন ২০২০ মঙ্গলবার

সেই এহসান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নোটিশ

নারায়ণগঞ্জ বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত সমালোচিত চেয়ারম্যান এহসানউদ্দিন বিরুদ্ধে লিখিত নোটিশ পাঠিয়েছে ইউনিয়নের সাবেক সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ। এর আগে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুজনকে বহিষ্কার করা হয়। পরে হাইকোর্ট থেকে রিট করে বরখাস্তনামা বাতিল করে এহসান চেয়ারম্যান। এর মধ্যে নারী মেম্বার দিয়ে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে সাবেক সচিব ইউসুফকে ফাঁসানোর অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। এতে করে এই চেয়ারম্যানকে নিয়ে চারদিকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

এদিকে গত ১ জুন পাঠানো লিখিত নোটিশে সাবেক সচিব ইউসুফ বলেন, ‘বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ কুশিয়ারা এলাকায় এহসানউদ্দিন তার চিস্তিায় মঞ্জিল সহ একাধিক বাণিজ্যিক ভবনে কেএমসি গ্যাস লিঃ ও কেএমসি পোল্ট্রি ফিড এবং নেইম প্লেট বিহীন ‘কাটিং ডিস্ক বা গ্রিল্ডিং হুইল’ নির্মাণকারী কারখানা ও মালগুদাম রয়েছে। এছাড়া চাষাঢ়া ১৪৫ বিবি রোডের জাকির সুপার মার্কেটের ৪থ তলায় ভাড়া নিয়ে আপনি ‘সিলভার ক্রিসেন্ট হসপিটাল’ গড়ে তুলেছেন। এমতাবস্থায় অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন ২০০৩ এর ধারা ৪ মোতাবেক আপনার প্রতিষ্ঠান সমূহের ফায়ার লাইসেন্স না থাকার দায়ে এবং উক্ত আইনের ধারা ৭ মোতাবেক অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রদত্ত ছাড়পত্র না থাকার দায়ে এবং উক্ত আইনের ধারা ৮ মোতাবেক আপনার কর্তৃক অগ্নি প্রতিরোধ, অগ্নি নির্বাপণ ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থা বিষয়ে ৬ মাসের মধ্যে অগ্নি প্রতিরোধ, অগ্নি নির্বাপন ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থা বিষয়ে ৬ মাসের মধ্যে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে রিপোর্ট প্রদান না করার দায়ে এবং আইনের ধারা ২১ মোতাবেক উক্ত আইন বা নির্ধারিত বিধান লঙ্ঘন করিয়া উপরোক্ত ভবনে বা স্থানে দাহ্যবস্তু সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকরণ, সংকোচন বা বাছাই করার দায়ে আপনার বিরুদ্ধে কেন আইনের ধারা ১৭, ২০ ও ২১ এর বিধান মতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা তা পত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিবেন। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে যে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার রাখে।’

এর আগে গত ৯ মার্চ গণমাধ্যমে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান এহসানউদ্দিনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। রেকর্ডে চেয়ারম্যান নিজে মিথ্যা মামলার নাটক সাজানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে কিভাবে হেরেজমেন্ট করা যায়-এমন পরামর্শ দিয়েছেন তার একজন নারী মেম্বারকে। আর সেই হেরেজমেন্টের টার্গেট ছিল সাবেক সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ যার সাথে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের দ্বন্দ্ব রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্সের ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এহসানউদ্দিনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ করান। এর আগে এই টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক সচিব মোহাম্মদ ইউসুফকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ইউসুফ ওই ইউনিয়স পরিষদের মেম্বার সুফিয়া বেগমকে চেক ডিজঅনারের জন্য উকিল নোটিশ পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় এহসানউদ্দিন চেয়ারম্যান সুফিয়া মেম্বারকে দিয়ে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে সাবেক এই সচিবকে ফাঁসানোর একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও