ব্যবসার লাভের ভাগ নিয়েই হেকমতকে হত্যা করে ভাগ্নে

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৬ পিএম, ৬ জুলাই ২০২০ সোমবার

ব্যবসার লাভের ভাগ নিয়েই হেকমতকে হত্যা করে ভাগ্নে

‘সকাল ৯টায় মোবাইল ফোনে ঢেকে হেকমত আলীকে বাড়িতে নিয়ে যায় সবুজ। সেখানে খাওয়া দাওয়া শেষে সবুজের ঘরে বিশ্রাম করতে করতে ঘুমিয়ে পরে। তখন সবুজ একটি পুরাতন লাল গামছা রশির মতো পেঁচিয়ে হেকমত আলীর মাথার পিছনের দিক দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে সবুজের ঘরে থাকা একটি খালি স্টিলের বড় ড্রামের মধ্যে হেকমতের মরদেহ হাত পা বেঁধে ঢুকিয়ে দাঁড় করে স্টোর রুমের মধ্যে রেখে দেয়। তারপর বাড়ীর বাথরুমের কাজ করার জন্য আগে থেকে আনা আকিজ সিমেন্টের ৩ বস্তা মিন্টে দিয়ে ড্রেমটি ভরে আগের জায়গায় রেখে দেয়। একদিন পর ভোর ৬টার দিকে সবুজ নসিমনে লাশ ভর্তি ড্রাম তুলে নিয়ে রূপগঞ্জের কুশাব এলাকার পারটেক্স গ্রুপের মাছের খামারে সুযোগ বুঝে ফেলে দেয়।’

৬ জুলাই সোমবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রূপগঞ্জ উপজেলার কালাদি এলাকার হেকমত আলী হত্যাকান্ডের ঘটনার বিস্তারিত জানান নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপার এআরএম আলিফ।

এর আগে গত ৫ জুলাই রফিকুল ইসলাম সবুজ নারায়ণগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত হেকমত আলী আসামি রফিকুল ইসলাম সবুজের ছোট খালু। ঢাকা বংশালে নিহত হেকমত আলীর একটি মটর সাইকেল পার্টসের দোকন ছিল। ওই দোকানে সবুজ বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিল। গত ৪ বছর আগে হেকমত আলী ভুলতা গাউছিয়া নূর ম্যানশনের নিচ তলায় একটি দোকান ভাড়া নিয়ে মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ নাম দিয়ে মটোর সাইকেল পার্টসের ব্যবসা শুরু করে। এ দোকানে সবুজকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয়। হেকমত গত আড়াই বছর আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বড় করার জন্য মার্কেটের নিচ তলায় ১৩ ও ১৪নং দোকান ভাড়া নেয়। ওই দোকানে সবুজ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে লাভের ৪০ শতকরা অংশীদার হয়। গত দুই বছর আগে ব্যবসার উন্নতি হতে থাকলে সবুজ তার খালু হেকতম আলীকে ব্যবসায়িক অংশিদার হওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হওয়ায় সবুজ ব্রাক ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে খালুকে দেয়। তারপর থেকে সমানভাবে পার্টনার হওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকে। কিন্তু আগের মতো ব্যবসার লাভের ৬০ ভাগ হেকমত নিজে এবং ৪০ ভাগ সবুজ নেওয়ার কথা বললে দুইজনের মধ্যে মতোবিরোধ ও দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও সবুজ, তার বাবা মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হেকমত বিয়ের পাত্রী দেখতে গেলে সবুজ ও তার পরিবারের সাথে দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়। হেকমতের মেয়ে হাফসাকে সবুজের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সবুজ বিয়েতে অস্বীকার করলে হেকমত সবুজের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসার হিসাব বুঝিয়ে দিতে সবুজকে চাপ প্রয়োগ করে। এর সূত্র ধরেই মূলত সবুজ তার খালু হেকমত আলীকে হত্যা করে।

উল্লেখ্য ৩ মাস পর গত ২ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলায় কেশাব এলাকার একটি মাছের খামারের পানির নিচের ড্রামেবন্দি হেকমত আলীর (৪০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত হেকমত আলী উপজেলা কালাদি এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে। সে ভুলতা নুর ম্যানশন মার্কেটে মটরপার্সের দোকান হাসান এন্টারপ্রাইজের মালিক।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও