কিশোর গুমের অভিযোগ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০০ পিএম, ১১ জুলাই ২০২০ শনিবার

কিশোর গুমের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৮দিন ধরে মো. সিয়াম (১৬) নামে এক কিশোর নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার মায়ের দাবি, ‘পাওনা টাকা চাওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন সিয়ামকে গুম করেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

এ ঘটনায় গত ৪ জুলাই নিখোঁজ সিয়ামের মা ময়না আক্তার বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়রী করেন। ১১ জুলাই শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিয়ামের কোন সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ।

নিখোঁজ সিয়াম সদর উপজেলার দেলপাড়া এলাকার আলমাছ ও ময়না আক্তারের একমাত্র ছেলে। সে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চালক।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুলাই রাত ১০টায় সিয়ামের মোবাইলে ফোন করলে সে জানায় তার ভাড়ায় চালিত অটো গাড়ীটি দেলপাড়া লালু মিয়অর গ্যারেজে জমা দিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। তারপর রাত সাড়ে ১০টায় আবারও ফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তারপর লালু মিয়ার গ্যারেজ সহ বিভিন্ন জায়গা ও আত্মীয় স্বজনের বাসায় খোঁজাখুজি করেও সিয়ামের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সিয়ামের শরীরের রং শ্যামলা, উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি, চোখ কালো, চুল কালো, পরনে ছিল চকলেট রঙের গেঞ্জিও প্যান্ট। কেউ সন্ধান পেলে ০১৮১১০২০৩১২ নাম্বারে যোগাযোগের জন্য আহবান জানান ময়না আক্তার।

ময়না আক্তার বলেন, ‘প্রতিবেশি আলমাস আমাকে বোন ডাকতো। তখন সে তার ভাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয়। পরে আমার ছেলের অটোরিকশা কেনার জন্য টাকা চাইতে গেলে সে দেই দিচ্ছি করে টাকা ফেরত দেয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার শালিসও করে। না পরে থানায় পর্যন্ত বসে। সেখানে আমাকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। তার মধ্যে থেকেও বিচার যারা করেছে তাদের কিছু টাকা দিতে হবে। এজন্য আমি রাজি না হয়ে বের হয়ে চলে আসি। সেসময় আমাকে আটকে হুমকি দেয় এ টাকা নিয়ে সমাধান করবি না হলে ছেলেকেই খোঁজে পাবি না। এ হুমকি দেওয়ার পর আমি বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু ওইদিন রাত থেকেই আমার ছেলে নিখোঁজ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা মাত্র ছেলে। আমরা ছেলেকে ওরাই গুম করেছে। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। পুলিশের কাছে গিয়েছি কিন্তু তারা ৭দিন হয়ে গেলো এখনও পর্যন্ত কিছু করতে পারেনি। আসলে পুলিশ কোন কাজই করছে না। নিরূপায় হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তখন কয়েকজন পুলিশ আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েও কোন সমাধান করেনি। উল্টো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করে আমাদের বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়েছি। এখনও পুলিশ কিছুই করছে না। পুলিশ চাইলে আমার ছেলেকে বের করে দিতে পারে। কিন্তু পুলিশ সেটা করছে না। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালেকুজ্জামানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেনি।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মিথ্যা। এটি তাদের পারিবারিক সমস্যা। ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে। খুব দ্রুত আশা করছি সমাধান হয়ে যাবে।’



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও