চাষাঢ়ার পথশিশু ‘টাইগার’ অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:১২ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার

চাষাঢ়ার পথশিশু ‘টাইগার’ অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি

চাষাঢ়া শহীদ মিনার ও রেল স্টেশনে যারা নিয়মিত অবস্থান করেন বা আড্ডা দেন তাদের কাছে পরিচিত কিছু পথশিশুর মুখ রয়েছে। এই পথশিশুরা মানুষের কাছে গিয়ে আকুতি জানিয়ে হাত পাতে কিছু পাওয়ার আশায়। অসহায় এসব পথশিশুদের সাথে অনেকের সখ্যতা গড়ে ওঠে। প্রতিটি পথ শিশুর আবার কিছু নাম রয়েছে। আর এসব  পথশিশুদের একজন ইয়াছিন যাকে সবাই ‘টাইগার’ নামেই চিনে।

শিশুটির বয়স সবে ছয় বছর। মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের সাথে চাষাঢ়া রেল স্টেশনে থাকে। বাবার কোন হোদিস নেই। এই বয়সে শিশুটিকে কোনো স্কুলের বারান্দায় বা খেলার মাঠে দেখতে পাওয়ার কথা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কারণে এত অল্প বয়সেই হাম, লাং ইনফেকশন, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ডেংগু জ্বরের মত ভয়ানক সব রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাতে হচ্ছে।

প্রতিদিনের মত গত ২২ জুলাই সোমবার রাতে চাষাঢ়া রেল স্টেশনে আড্ডা দিতে যায় আয়নাল ও সানি নামে দুই যুবক। তদের সাথে সব সময় যে পথশিশুটি দুষ্টুমি করতো তাকে আজ কেউ দেখতে না পেয়ে কোথায় আছে একটু খোঁজ নিতে থাকে।

খোঁজাখুজি করে চাষাঢ়া রেল স্টেশন থেকে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তাদের এক বড় ভাই ইফতেকার আহমেদকে খবর দেয়। এরপর সবাই মিলে প্রথমে খানপুর হাসপাতাল নিয়ে যায় কিন্তু সেখানে ভর্তি না করে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিলে তারা সময় নষ্ট না করে দ্রুত ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এবং মহাখালির সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করে।

ইফতেকার আহমেদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে থেকে বলা হয় মাতুয়াইলে শিশু মাতৃ ইন্সটিটিউটে নিয়ে যেতে। সেখানে যাওয়ার পর সেখানেও চিকিৎসা না দিয়ে শিশু হাসপাতকালে নিয়ে যেতে বলেছে। শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখান থেকে মহাখালী হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছে। পরবর্তিতে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তারপর বিভিন্ন টেস্ট, এক্সরে করার পর ডাক্তার বলল যে ওর হাম, লাং ইনফেকশন, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ডেংগু জ্বরে আক্রান্ত। আমরা সবাই ছাত্র। তারপরেও যতটুকু ছিল সেই টাকা দিয়ে এখনো পর্যন্ত চিকিৎসা করছি। চিকিৎসা করাতে কি পরিমাণ টাকা প্রয়োজন তাও সঠিক পরিমাণ জানি না। তবে এতটুকু ধারণা করতে পারছি যে মোটামুটি ভালো পরিমাণ টাকা প্রয়োজন। তাই সকলের কাছে অনুরোধ শিশুটিকে বাঁচাতে একটু এগিয়ে আসুন। আপনার একটু সহযোগিতায় শিশুটি আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও