সংবাদের পর যোগাড় হল টাকা, মায়ের লাশ দাফনে নির্ভার প্রতিবন্ধী ছেলে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৫ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

সংবাদের পর যোগাড় হল টাকা, মায়ের লাশ দাফনে নির্ভার প্রতিবন্ধী ছেলে

‘টাকার অভাবে মায়ের লাশ নিতে পারছে না প্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলে’ শিরোনামে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টি ফোরে সংবাদ আপলোডের পর অসহায় প্রতিবন্ধী নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় এলাকার আল আমিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও নাহিদা বারিক ও নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় একজন যুবক যিনি নিজের পরিচয় জানাতে রাজী না

২০ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে আল আমিনের অসহায়ত্বের সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও নিজেই আল আমিনকে ফোন করে তাঁর খোঁজ খবর নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে ৭হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। পাশাপশি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় যুবক রিদওয়ান আমিনও আল আমিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে ৩হাজার পাঠিয়েছে।

মায়ের লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অসহায় প্রতিবন্ধি আল আমিনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও নাহিদা বারিকের প্রতি ও রিজওয়ান আমিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আল আমিন বলেন, আমার মায়ের কবর আমি গ্রামে দিতে পারব। যখন ইচ্ছা তখন মায়ের কবর দেখতে পারব, জিয়ারত করতে পারব। এই জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া স্টেশনে চা বিক্রি করতো আল আমিন। পরিবার বলতে শুধু মা ও একমাত্র বিধবা বড় বোন। প্রায় ১৪ বছর আগে বাবাকে হারিয়েছে সে। ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসায় গ্রামের বাড়ির জমি বন্ধক রেখে ও গাছ বিক্রি করে ও কিছু সাহায্য নিয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে মাকে নিয়ে ঢাকায় আসে সে। গত ১৮ ডিসেম্বর আল আমিনের মা মৃত্যুবরণ করলে মাত্র ৭ হাজার টাকার টাকার অভাবে গ্রামে নিতে পারেনি। দুই দিন ধরে আঞ্জুমান মফিজুল ইসলামে ছিল তাঁর মায়ের লাশ।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও