ভাসমানদের জন্য রান্না করা খাবার বিতরণে তাবলীগের সাথীরা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০২ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২০ শুক্রবার

ভাসমানদের জন্য রান্না করা খাবার বিতরণে তাবলীগের সাথীরা

‘রাস্তায় করত ভিক্ষা, নেই কোন বাড়িঘর। করোনার কারণে রাস্তায় নেই মানুষ। নেই ভিক্ষা দেয়ার লোক। ভিক্ষার টাকা দিয়ে হোটেলে গিয়ে একটু খাবার চাইলে ২০ টাকায় দিত ১ প্লেট পরিমান ভাত আর একটু ডাল। তা খেয়েই ক্ষুধা পেটে পার হত দিন। কিন্তু হোটেলও এখন বন্ধ কি করবে ওরা।’

এরকম ভাসমান, বাস্তহারা ও গৃহহীন রেলস্টেশনে শুয়ে থাকা মানুষের কথা চিন্তা করে রান্না করা খাবার পরিবেশনের উদ্যোগ নিয়েছে বেশ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি শ্রেণীর উদ্যোক্তা। এদের বেশীরভাগ তাবলীগে জামাতের সাথে জড়িত। যে-ই বলা সেই কাজ নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ রাত থেকে প্রায় প্রায় ২৫০ লোকের রান্না করা খাবার নিয়ে উদ্যোক্তরা হাজির হয় নারায়ণগঞ্জ শহরের দুটি রেলস্টেশন শহরের চাষাঢ়া ও ১ নং কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন এলাকায়। ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছ থেকে এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মৌখিক অনুমতি নিয়েছে উদ্যেক্তরা।

উদ্যোক্তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টায় রান্না করা প্রায় ২৫০ প্যাকেট খাবার নিয়ে ৬ জনের একটি টিম আমরা চলে যাই শহরে চাষাঢ়া রেলস্টশন ও ১ নং রেলস্টেশন এলাকায়। সেখানে শুয়ে থাকা ভাসমান লোকদের মধ্যে খাবারগুলো বিতরণ করা হয়। বিতরণকালে খাদ্য গ্রহণকারউ বেশ কয়েকজন বলছিল, “ভাইগো না খাইয়া রইছি। আপনার কি চরমোনাই”।

জবাবে বলেছি, “না আমরা তাবলীগ করি। কিন্তু তাবলীগ করি বলে এটা করছি তা না। এটাতো প্রত্যেক মুসলমাদের দায়িত্ব।’’

এক পর্যায়ে খাবার শেষ হয়ে গেলে অনেকনেই আমরা খাবার পৌছাতে পারিনি। রাস্তায় রিক্সাওয়ালারা খাবার চেয়েছিল । কয়েক জনকে দিতে পেরেছি। কাউকে দিতে পারিনি।

তারা আরো জানান, চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান মানুষগুলো খাবার হাতে পেয়েই হুমড়ি খেয়ে খেতে শুরু করে। যেন তারা অনেক ক্ষুধার্ত।

উদ্যোক্তারা আহবান জানিয়ে বলেন, প্রতিদিন আমরা এই কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যতদিন সামর্থ্যে কুলায়। তবে অনেকেই আছে সমাজে বিত্তবান যারা চাইছে মানুষের উপকার পৌছাতে। কিন্তু তারা ঘর থেকে করোনার ভয়ে বের হতে পারছে না। আমরা আহবান জানাব মানুষের জন্য আমরা কিছু লোক রাস্তায় নেমে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিয়ে ভাসমানসহ শ্রমজীবি মানুষের ঘরে ঘরে রান্না করা খাবার পৌছে দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। বিত্তবানরা আমাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। আমরা খাবার পৌছে দেব মানুষের কাছে। এক্ষেত্রে আপনারা চাল, তেল বা ফার্মের মুরগী অথবা আর্থিক অনুদান প্রেরণ করতে পারেন।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারা জানান, দেশে অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগে যেমন বন্যা ও হরতাল বিভিন্ন সময় মানুষ বাসা থেকে বের হয়ে মানুষকে নিজ হাতে সহায়তা করতে পেরেছে। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু বেশীরভাগ মানুষ আক্রান্তের ভয়ে বের হতে চাইছে না। অনেকে চাইলেও মানুষকে বাসা থেকে বের হয়ে সহায়তার হাত বাড়াতে পারছে না।

উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি আনোয়ার হোসেন, মেজবাহউদ্দিন,ওয়াহিদুজ্জামান, আব্দুল আজিজ, সারোয়ার হোসেন, রেজাউল করিম ও সাংবাদিক রোমান চৌধুরী সুমনসহ আরো বেশ কয়েকজন।

সাংাবাদিক রোমান চৌধুরী জানান, আমি উদ্যোক্তাদের একজন সদস্য হয়ে সরেজমিন কাজ করছি। প্রশাসনের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতিও নিয়েছি। প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে কোন গণজমায়েত যাতে না হয়। বৃহস্পতিবার খাবার দিতে গিয়ে লোকজন আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে চাইলে আমরা সাফ জানিয়ে দেই যে, যেখানে আছেন বসে থাকেন। আমরা আসব। কেউ আমাদের দিকে এগিয়ে এলে খাবার না দিয়ে চলে যেতে বাধ্য হব। এতে সাবাই চুপ করে বসে খাদ্য গ্রহণ করেছে। কোন সহায়তা দিতে চাইলে এ নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৯১৪০৮৩৭৬০।

উদ্যোক্তাদের সাহসী পদক্ষেপের বরাত দিয়ে অক্টো অফিস মসজিদের মুসল্লী জাকির হোসেন জানান, কিছু লোক সাহস করে এই করোনা রোগের আতংক সাথে নিয়ে ভাসমান মানুষদের জন্য খাবার বিতরণে নেমেছে এটা অনেকেই সাহস করছে না। তাদের পাশে দাঁড়ানো সকলের দায়িত্ব।



নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও